বাংলাদেশ, রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এসিড সহিংসতা লিঙ্গীয় সহিংসতার সবচেয়ে নৃশংসতম ধরণ : সেলিনা আহমেদ

অমানবিকতার নিকৃষ্টতম পর্যায় এসিড সহিংসতা লিঙ্গীয় সহিংসতার সবচেয়ে নৃশংসতম ধরণ। এসিড নিক্ষেপের নেপথ্যে থাকে প্রতিহিংসা – প্রতিশোধপরায়ণতা। এসিড নিক্ষেপকারী মূলত মূখ এবং শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে সহিংসতার প্রকাশ ঘটায়। বর্তমানে এসিড সহিংসতা বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, মিডিয়া এবং প্রশাসনের জয়েন্ট মুভমেন্ট এর কারনে কমিয়ে এসেছে। সোমবার (২২জুলাই) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সিরডাপ অডিটরিয়ামে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন এর অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ। এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন এর ” তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক সাড়া ও সহায়তা প্রদান ” প্রকল্পের আওতায় এই অভিজ্ঞতা বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য মিজ. আরোমা দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো আইনুল কবীর এবং ইউএনডিপির হিউম্যান রাইট প্রোগ্রাম এর প্রধান টেকনিক্যাল এডভাইসর সারমিলা রাসূল। এসিড সহিংসতার মতো নৃশংসতম এই সহিংসতা যেমন ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে,তেমনি নারী ও শিশুর প্রতি এসিডসহ অন্যান্য সহিংসতাও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন। যার ধারাবাহিকতায়, গত অক্টোবর, ২০১৮ থেকে জুলাই, ২০১৯ পর্যন্ত মানবাধিকার প্রোগ্রাম ইউএনডিপি এর সহায়তায় Study on Good Practices and Possible Mechanism to Address Gender-Based Violence (লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইতিবাচক চর্চা এবং সম্ভাব্য কৌশল সমূহ সম্পর্কে গবেষণা) টি করা হয়েছে। অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় গবেষণাটি উপস্থাপন করেন যৌথভাবে, মিস ফজিলা বানু লিলি, প্রধান গবেষক এবং সেলিনা আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন। স্বাগত বক্তব্যে সেলিনা আহমেদ বলেন, এসিড সহিংসতা কমলেও অনান্য সহিংসতা যেমন ধর্ষণ, হয়রানি ইত্যাদি বেড়েই চলছে। তা দূর করনের জন্য ব্যাবস্থা গ্রহণ করা দরকার। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন ধরণের ক্যাম্পেইন যেমন, “পানি ঢালুন ” এর মাধ্যমে এসিড সহিংসতার বর্তমান পরিস্থিতি এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় বুঝানোর চেষ্টা করছি। আমরা গবেষণায় দেখেছি প্রায় সকল সহিংসতার কারণ এক, একটি এন্যটির সাথে সম্পর্কিত এবং এসিড সহিংসতাসহ অনান্য সহিংসতার ফলাফলও একই রকম। আমরা এসিড সহিংসতা দূর করনে কাজ করার পাশাপাশি যারা ভিকটিম তাদের সাপোর্ট দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সহিংসতা সম্পর্কে মিডিয়া যে রিপোর্ট করে তাকে যদি ফলো আপ করে আরো রিপোর্ট করা যায় তাহলে সহিংসতা অনেক কমে আসবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজ. আরোমা দত্ত বলেন, এসিড সহিংসতাকে আরো জিরোতে নিয়ে আসতে হবে এবং যারা ভিকটিম তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে। তাদেরকে নিয়ে একটি প্লাটফর্ম গঠন করতে হবে এবং সেখান থেকে তাদেরকে সবধরনের সহায়তা করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো আইনুল কবির বলেন, দেশের কিশোর- কিশোরীদের নিয়ে কাজ করার জন্য সারাদেশে প্রায় সাত হাজার ক্লাব সক্রিয় রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে এসিড সহিংসতা দূর করার জন্য কাজ করতে হবে। এসিড সহিংসতা নির্মূল করার লক্ষে ১৯৯৯ সালে ১২ মে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। জন্মলগ্ন থেকেই এসিড সহিংসতা প্রতিরোধ এবং এসিড আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা প্রদান, আইনী সেবা ও পুনর্বাসন এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সাল থেকে এএসএফ সমগ্র বাংলাদেশের সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে একযোগে কাজ করে আসছে।

আরো খবর

Leave a Reply