বাংলাদেশ, রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সমাজসেবা সম্পাদকের প্রোগ্রাম স্থগিত ডাকসুর ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি

  এম. মনিরুজ্জামান ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)’র সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে সপ্তাহব্যাপী ‘Awareness Campaign on Cyber Safety & 999’ প্রোগ্রামটি করতে দেয়া হয়নি। ১৬ জুলাই ছিল প্রোগ্রামটির প্রথম দিন। বাংলাদেশ-কুয়েতমৈত্রী হলে মঙ্গলবার প্রথমদিনের প্রোগ্রামটি হওয়ার কথা ছিল।

এদিকে ডাকসু’র বাজেট থেকে প্রোগ্রামটির জন্য পাওয়া এক লক্ষ টাকার বাজেটের প্রায় ৪০ হাজার টাকা ইতোমধ্যে আখতার খরচ করে ফেলেছেন বলে জানান। ফলে ডাকসুর বাজেট থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। প্রোগ্রামটি না হওয়ার পিছনে ছাত্রলীগের হাত রয়েছে অভিযোগ ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতারের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মশালাটির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলে। বিশেষ করে ছাত্রীরা যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কোনো ধরনের যৌন হয়রানির শিকার না হয় এবং পাশাপাশি সচেতন হয়, সে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ক্যাম্পেইনটির আয়োজন করা।

সপ্তাহব্যাপী কর্মশালায় ১৬ জুলাই মঙ্গলবার হতে ২২শে জুলাই পর্যন্ত‍ চলার কথা ছিলো। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের সাইবার সিকিউরিটি এন্ড সেইফটি ট্রেইনারগণ‍ আসার কথা ছিলো।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সাইবার সচেতনতা প্রোগ্রাম ছিলো। নিয়ম অনুযায়ী হল সংসদ ও হল প্রশাসনের সাথে কয়েক দফায় আলোচনাও করেন তিনি। প্রোগ্রামে হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা নাসরিনের উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। প্রোগ্রাম উপলক্ষে প্রচার প্রচারণা, ব্যানার, আপ্যায়ন সবকিছুই সম্পন্ন ছিল।

কিন্তু প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে প্রোগ্রামে হল প্রাধ্যক্ষ থাকতে পারবেন না বলে জানান। ফলে ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক হলের অন্য শিক্ষিকাদের থাকতে অনুরোধ জানান এবং প্রোগ্রামটি করার অনুমতি চান। হল প্রাধ্যক্ষ ডাকসুর অন্যান্যরা বিষয়টি জানেন কিনা সেটা জিজ্ঞেস করেন এবং সবার সাথে সমঝোতা করে পরে অন্য সময় এ প্রোগ্রাম করতে বলেন।

এ বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, “সাইবার সচেতনতা নিয়ে প্রোগ্রামটি করার জন্য আমি ডাকসু থেকে এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাই। ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী লিখিতভাবে অনুমতিও দিয়েছেন। প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবে বলে ভিসি স্যার মৌখিকভাবে অনুমতিও দেন। কিন্তু আজকে যখন প্রোগ্রামের দিন আসলো সব আয়োজন সম্পন্ন, আমাকে প্রোগ্রাম করতে দেয়া হচ্ছে না। ভিসি স্যারকে জানালে তিনি ছাত্রীদের হলে না করে অন্যত্র বাইরে প্রোগ্রাম করার পরামর্শ দেন।”

আখতার হোসেন অভিযোগ করেন ডাকসু অন্য নেতাদের অসহযোগিতায় তিনি প্রোগ্রাম করতে পারেননি। তিনি বলেন, “প্রোগ্রাম বিষয়ে এর আগে থেকেই সব কিছু আমি ডাকসুর সবাইকে অবহিত করি। প্রোগ্রামে থাকার জন্য এজিএস সাদ্দাম হোসেনকে বারবার কল দেয়া হলেও তিনি কল ধরেননি।”

ডাকসু’র ভিপি নুরুল হক নুর অভিযোগ করে বলেন, ‌”ছাত্রলীগ চায় না যে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছাকাছি যাই। আপনারা জানেন যে, আমরা (নুর এবং আখতার) ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেল থেকে নির্বাচন করি ও মেয়েদের হলগুলো থেকে একচেটিয়া ভোট পাই। আমাদের জনপ্রিয়তার জন্যই সেখানে আমাদের প্রোগ্রাম করতে দেয়া হয়নি। আমরা তাদের (ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে ডাকসু প্রতিনিধি যারা) সাথে বিভিন্ন প্রোগ্রামে সমন্বয় করলেও তারা আমাদের সহযোগিতা করে না।”

১৫ জুলাই এই প্রোগ্রাম বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসু’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিনা অর্ণি এবং ডাকসু’র সদস্য-তানভীর হাসান সৈকত, মাহমুদুল হাসান এবং রাকিবুল হাসান ঐতিহ্য উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ভিপি নূরুল হক বলেন, “ছাত্রলীগ এটি লোক দেখানো হিসেবে হয়তো করেছে। যেহেতু তারা ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি করছে। তাই তারা যদি সরকারি কর্মকর্তাদের (যারা ট্রেইনার হিসেবে আসতে চেয়েছিল) ভেটো দেন, তাহলে তো আর কর্মকর্তারা ট্রেইনার হিসেবে আসতে পারেন না।”

তবে এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে ভালোভাবে অবগত নই। আমি এ বিষয়ে কোনো কমেন্ট করতে চাই না। কোনো সমস্যা হলে ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী ভাই অফিসিয়াল বিবৃতি দিবেন।’ ছাত্রলীগ কেন প্রোগ্রামে বাঁধা হবেন এ প্রশ্ন করেন সাদ্দাম।

তবে এ বিষয়ে ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর সাথে কথা বলতে চাইলে তাকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিনা অর্ণির সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন,‘আমি সন্ধ্যায় বাহিরে ছিলাম। কিন্তু ক্যাম্পাসে আসার পরে শুনি প্রোগ্রামটি হয়নি। ছাত্রলীগের সমন্বয় করার কিছু নেই। কেননা ডাকসুতে যে সম্পাদকের যে দায়িত্ব তা তিনিই পালন করবেন এবং তারই সে বিষয়ে জবাবদিহিতা করতে হবে। আমার মনে হয় তার সাংগঠনিক ত্রুটির কারনে প্রোগ্রামটি হয়নি। অথবা তিনি আগে থেকেই সবাইকে অবহিত করে ছিলেন কিনা!’

এ বিষয়ে কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা নাসরিন বলেন, তাদেরকে প্রোগ্রাম করার বিষয়ে মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার পারিবারিক কাজ থাকায় আমি থাকবো না বলে জানাই এবং সবার সাথে আলোচনা করে অনুষ্ঠান করতে বলি। কিন্তু তারা সমঝোতায় আসতে পারেনি তাই মনে হয় প্রোগ্রাম হয়নি।

আরো খবর

Leave a Reply