বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং, ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

লম্পট অধ্যক্ষ সিরাজ ও তার সহযোগিদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বিচার করুন

 

বর্তমান বাংলাদেশে নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ের বাস্তব ও ঘৃণ্যচিত্র পরিলক্ষতি হচ্ছে। খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি নিত্য নৈমত্তিক ঘটনায় রূপ নিয়েছে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ছাত্র-ছাত্রীরা আজ নিরাপদ নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি মাদ্রাসায়ও ধর্ষণ ও হত্যার মত ঘটনা ঘটছে। বিচারহীনতার অপসংস্কৃতিতে বিচারের বাণী চাপা পরার কারণে ধর্ষক ও লম্পট শ্রেণি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা তারই ধারাবাহিকতা। এঘটনায় জড়িত মাদ্রাসার লম্পট অধ্যক্ষ সিরাজ ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে আরো অনেক নুসরাতকে অকালে ঝরে যেতে হবে। তাই ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নুসরাত হত্যায় জড়িত প্রত্যেককে গ্রেফতার করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করুন। ফেনীর সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত ১২ এপ্রিল শুক্রবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রসেনা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি ছাত্রনেতা রেজাউল করিম ইয়াসিন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, বিচারের দীর্ঘসুত্রিতা ও সুুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা প্রশ্রয় পেয়ে একের পর এক ধর্ষণ ও খুনের মত অন্যায় করে যাচ্ছে। নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার লোমহর্ষক এঘটনায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি ছাত্রনেতা জিএম শাহাদাত হোসেন মানিক। তিনি বলেন, নৈতিকতার অবক্ষয়ের এ যুগে অপরাধীরা যদি বার বার পার পেয়ে গেলে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নুসরাত, তনু, মিতু, বিশ্বজিৎ, সাগর-রুনী, তাসফিয়া, ফরিদসহ বিভিন্ন হত্যাকা- যেন সবগুলো একই সূত্রে গাঁথা। আমরা বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা, খুনীরা পার পাবেনা। তিনি আরো বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী নিপীড়ন বিরোধী সেল করতে হবে। তাদের সাথে প্রশাসনের সমন্বয় থাকতে হবে। কোন অনৈতিক ঘটনা ঘটলে তা যেন দ্রুত বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক সভাপতি মাওলানা নুরুল্লাহ রায়হান খান। বিশেষ বক্তা ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর ইসলাম বঈদী, যুবসেনা কোতোয়ালী থানার সভাপতি আবু তৈয়ব চৌধুরী। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, মুহাম্মদ শিহাব, মাওলানা মুহাম্মদ আমির হোসেন, মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মোয়াজ্জেম হোসেন মাসুম, মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান বাহার, মাহফুজুর রহমান, মুহাম্মদ জামশেদ, মুহাম্মদ শওকতুল করিম প্রমুখ।

আরো খবর

Leave a Reply