বাংলাদেশ, শনিবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

মৌলভীবাজারে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভা

 

হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত  মজুরি কার্যকর ও বর্তমান বাজারদরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ১০ হাজার টাকা মূল মজুরি ঘোষণা, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সাপ্তাহিক ছুটি প্রদানসহ শ্রমআইন বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে ৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ নং বি-২০৩৭ এর ডাকে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৩০৫ এর উদ্যোগে এক কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। ০৬ মার্চ সন্ধ্যায় শহরের কোর্ট রোডস্থ কার্যালয়ে জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস। জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ২৪৫৩ এর সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া, হোটেল শ্রমিকনেতা তারেশ বিশ্বাস সুমন, আব্দুল আহাদ বাবুর্চি, মোঃ কামাল মিয়া বাবুর্চি, সোহেল আহমেদ সুবেল, রফিকুল ইসলাম রাজিব, মোঃ জসিম উদ্দিন, কিসমত মিয়া প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের প্রেক্ষিতে সরকার ২০১৭ সালের ০১ মার্চ হোটেল সেক্টরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য নি¤œতম মজুরির গেজেট প্রকাশ করলেও অদ্যাবধি তা কার্যকর করা হয়নি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমজীবী জনগণের অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি। এমতবস্থায় বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে হোটেল শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন বাংলাদেশ শ্রম আইন-এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় চাকুরীচ্যূতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ৪৫ দিনের গ্রাচ্যুয়েটি, ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরী প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থাতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও হোটেল শ্রমিকদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও শ্রমিকরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য হন। হোটেল শ্রমিকরা দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, যার কারণে হোটেল শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সভা থেকে সকল শ্রমিকদের মাসিক বেতনের সমপরিমান উৎসব বোনাস প্রদান, বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ নি¤œতম মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা ঘোষণা, সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরির গেজেট কার্যকর, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু, ৮ ঘন্টা কর্ম দিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয় ত্রসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন করার দাবি জানানো হয়। একই দাবিতে আগামী ২৮ মার্চ বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ নং বি-২০৩৭ এর আহ্বানে দেশব্যাপী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শ্রম প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করার কর্মসূচি সফল করার আহবান জানানো হয়।

আরো খবর

Leave a Reply