গোপন স্টেটমেন্ট অবৈধভাবে তুলে ভুয়া অভিযোগ দায়েরের অভিযোগ; দেবরের পুত্রসহ সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপি ও দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক জরাগ্রস্ত ও একা বসবাসকারী বিধবা প্রাক্তন স্কুল শিক্ষিকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতি করে গোপন স্টেটমেন্ট বের করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ওই স্টেটমেন্ট বিভিন্ন দপ্তরে ভুয়া অভিযোগ আকারে জমা দিয়ে এবং পৈতৃক জমি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার জন্য তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাবেক শিক্ষিকা শান্তি চৌধুরী সম্প্রতি জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

নিরাপত্তাহীনতায় বয়োবৃদ্ধ শিক্ষিকা

অভিযোগে প্রকাশ, শান্তি চৌধুরী তাঁর কর্মজীবনের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ এবং পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির টাকা জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর পটিয়া শাখায় (হিসাব নং- ০১০০০২৪১৩০৮৫৫) জমা রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর একমাত্র দেবর পুত্র আশীষ মুজকুরী  এবং একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্র পরস্পরের যোগসাজশে ব্যাংকের অসাধু চক্রের সহায়তায় তাঁর গোপনীয় ব্যাংক স্টেটমেন্ট অবৈধভাবে সংগ্রহ করে।

চাঞ্চল্যকর তথ্য: ভিকটিমের অজান্তে সংগৃহীত সেই স্টেটমেন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিত্তিহীন ও জালিয়াতিমূলক অভিযোগ দাঁড় করানো হয়েছে। এমনকি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়েও (স্মারক নং- ১০৩৫, তারিখ: ১০/০৭/২০২৩) ভুয়া অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে নথিপত্র থেকে জানা যায়।

মোবাইলে জমি লিখে নেওয়ার হুমকি

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জানান, চক্রটির হাতে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও পাসবুকের তথ্য থাকায় তারা চরম আর্থিক ও শারীরিক নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন। আসামিরা তাঁকে মুঠোফোনে পৈতৃক জমি তাদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে এবং কথা না শুনলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। একা বসবাস করায় তিনি চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি ও ন্যায়বিচার দাবি

অসহায় এই শিক্ষিকা তাঁর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুলিপি প্রেরণ করেছেন।

যেসকল দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে: চেয়ারম্যান: জনতা ব্যাংক পিএলসি, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা। এফআইসিএসবি (FICSB): বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা।চেয়ারম্যান: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ঢাকা।পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি): বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা।ডিআইজি অব পুলিশ: চট্টগ্রাম রেঞ্জ, চট্টগ্রাম।পুলিশ সুপার (এসপি): চট্টগ্রাম জেলা। সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি): পটিয়া সার্কেল, চট্টগ্রাম। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি): পটিয়া থানা, চট্টগ্রাম।

ব্যাংক ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

সচেতন মহল মনে করছেন, একজন বয়োবৃদ্ধ নারী শিক্ষিকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও গোপনীয় স্টেটমেন্ট জালিয়াতি করে এভাবে হয়রানি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ব্যাংকের ভেতরের কোনো চক্র জড়িত না থাকলে এমন গোপনীয় তথ্য বাইরে যাওয়া অসম্ভব। তাই দ্রুত জনতা ব্যাংক পটিয়া শাখার ওই হিসাবের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জালিয়াতির সাথে জড়িত কুচক্রী মহলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।

এদিকে,  আশিষ মুনকুরি ব্যাংক স্টেটমেন্ট নেবার কথা স্বীকার করেছেন।তবে এটা বহু আগের ঘটনা ।

সর্বশেষ সংবাদ