চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাহাড়তলী থানাধীন সিডিএ মার্কেট এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যুবনেতা মোঃ আনোয়ার হোসেন। ইতিপূর্বে একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলার শিকার হওয়া এই ব্যবসায়ী বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনার বিবরণী ও সাম্প্রতিক আইনগত পদক্ষেপে জানা যায়, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর: ৮৭৬) দায়েরের পর বিষয়টি সিএমপি পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে।
ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট
ভুক্তভোগী মোঃ আনোয়ার হোসেন পাহাড়তলী সিডিএ মার্কেটের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং চট্টগ্রাম বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবসায়ী গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। পাশাপাশি তিনি পাহাড়তলী থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এলাকাবাসীর বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পাহাড়তলী এলাকায় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, লিফলেট বিতরণ ও শান্তিপূর্ণ সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে তাঁর এই মাদকবিরোধী সামাজিক অবস্থানের কারণে স্থানীয় একদল চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও স্বার্থান্বেষী মহলের চরম রোষানলে পড়েন তিনি।
পূর্বের আক্রমণ ও মামলা
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড স্তব্ধ করে দিতে পূর্বেও তাঁর ওপর একাধিকবার পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে এসব ঘটনায় তিনি পাহাড়তলী থানায় মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারপ্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আদালতে মামলা চললেও অসাধু চক্রটির অপতৎপরতা থামেনি বলে জানা গেছে।
বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকি ও চরম আতঙ্ক
সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মাদক সিন্ডিকেট তাঁকে সামাজিক আন্দোলন থেকে সরিয়ে দিতে এবং মামলা তুলে নিতে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান“সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে গিয়ে আমি আজ নিজেই জীবননাশের আশঙ্কায় ভুগছি। অতীতে আমার ওপর হামলা হয়েছে, বর্তমানেও যেকোনো সময় আমাকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হামলা চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জন্য নয়, কেবল একজন সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের নিরাপত্তা ও মাদকমুক্ত সমাজের স্বার্থে প্রশাসনের আকুল হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
প্রশাসনের কাছে আনোয়ার হোসেনের দাবি সমূহ:
১. জিডি ৮৭৬-এর দ্রুত তদন্ত: পাহাড়তলী থানায় দায়ের করা জিডি নম্বর ৮৭৬-এর ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করা।
২. নিরাপত্তা জোরদার: ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় এনে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রদান ও পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা।
৩. বিচারাধীন মামলার সঠিক তদারকি: পূর্বে সংঘটিত হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত বিচারাধীন মামলাটির আইনানুগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সিএমপির তদারকি।
৪. মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান: পাহাড়তলী এলাকায় সক্রিয় চিহ্নিত মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব ও বিশেষজ্ঞ মতামত
মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আনোয়ার হোসেনের মতো সামাজিক প্রতিবাদকারীদের যদি সুরক্ষা দেওয়া না হয়, তবে এলাকায় মাদক কারবারীদের দাপট আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলবে।
উক্ত বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বোতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।



