ধেয়ে আসছে বড় বন্যা। আষাঢ়ের অবিরাম ভারি বৃষ্টি ও উজানের ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে ইতোমধ্যে দেশের অনেক নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে ২০টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙনের ফলে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে নদীতীরের হাজার হাজার পরিবার। দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে।
এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীতীরের নিম্নাঞ্চলও কোথাও কোথাও প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও বন্যা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার প্রধান নদী গোমতীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীর চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষি জমি তলিয়ে গেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে বড় ধরনের বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, দেশে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। হঠাৎ বন্যাসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবে ৬৪ জেলায় ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে সরকার। এর মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার এই ৪ জেলায় ১০ লাখ টাকা, ২০০ মেট্রিক টন করে চাল ও বাকি ৬০ জেলায় ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন করে চাল সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তবে ক্ষয়-ক্ষতির তুলনায় সরকারের ত্রাণ খুবই সামান্য বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বাংলাদেশে প্রতি বছর বন্যায় গড়ে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১১,৮০০ কোটি টাকা) সমমূল্যের আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকে। এছাড়া সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যায় বছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলার, যা দেশের জিডিপির প্রায় ১.৩২ শতাংশ। তাই শুধু ত্রাণ সহায়তা নয়, বন্যা মোকাবিলায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এক্ষেত্রে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দূর করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন। বন্যার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজে ব্যবহার এবং নদী ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের জন্য এই প্রকল্প দু’টি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।সবটুকু জানতে ক্লিক করুন



