মাহমুদুল হক আনসারী
চট্টগ্রাম নগরসহ আশপাশের উপজেলা সমূহে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম নগরির নিম্নাঞ্চল বৃষ্টি ও বাসাবাড়ির পানিতে ডুবে গেছে। নগরির নিচু এলাকার বাসা বাড়ির হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। নগরির বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। বাসা বাড়ির আবর্জনা রাস্তার ময়লা নালা পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। সিটি মেয়রের নাকের সামনেও ময়লা। বহদ্দারহাট বাজার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বহদ্দারহাট চাঁদগাঁও বাস টার্মিনালের আশে-পাশের সবগুলো নালা ময়লার স্তূপে দিনের পর দিন পড়ে থাকে। বাজারের ময়লা নালা আর রাস্তায় ফেলছে। পরিচ্ছন্ন কর্মি পরিস্কার করে সেই ময়লা নালার পাশে জমান। সেখানে দিনের পর দিন পড়ে থাকে। বৃষ্টি আর বাতাসে আবার নালায় পড়ে। ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, পরিচ্ছন্ন কর্মি থাকলেও বাস্তবে পুরো নগর অপরিস্কার। নগরির সমস্ত কাঁচা বাজার ময়লা আর দুর্গন্ধে ভরা। ষোলশহর ২ নং গেইট রাস্তার উপর বছরের পর বছর ময়লার উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার জনগন চলাচল করছে। দুর্গন্ধের কারনে নাকে রুমাল দিয়ে রাখতে হয়। বিশ্ব রোড় পুরোই রাস্তার বেশির ভাগ অংশ হকার দখলে রেখেছে। নিউমার্কেট এলাকার কিছু হকার উচ্ছেদ করতে দেখা যায়। অথচ নগরির বহদ্দারহাট, চকবাজার, ষোলশহর, জিইসি, আগ্রাবাদ, অক্সিজেন, অলংকার মোড়, এ কে খান গেইট, কর্নেলহাট,দেওয়ানহাট, কোথাও ফুটপাত হাটার জন্য জায়গা রাখা হয়নি। সমস্ত ফুটপাত হকারের দখলে। সিটি কর্পোরেশন ও কমিশনারের কাজ কি?
নগরবাসী টেক্স দিচ্ছে। সেবা পাবেনা। সময় মতো ময়লা পরিস্কার করবেনা। নালা পরিস্কার করবে না। মাইক বাঁধিয়ে টেক্সি করে মাইকিং করলেই কি মেয়রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। এখন বৃষ্টির দিন কয়েক দিন খুব বৃষ্টি হবে। বৃষ্টি হলেই নালার পানিতে রাস্তা ডুবে যায়। হাটুপানিতে নগরির প্রায় এক কোটি জনগনকে চলতে হয়। নালার উপর দোকান মার্কেট,ফুটপাতের হকারের দোকান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ভাগ কার পকেটে যাচ্ছে তা বলা যাচ্ছে না। অগোছালো নগর, নালা আর ময়লার পানিতে চট্টগ্রাম নগরির মানব জীবন চলছে। ঘু্ুর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস চলছে। এখন চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের এলাকা সমূহে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আশপাশের উপজিলা সমূহ বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। খাল, বিল, পুকুর ফসলের মাঠ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় নদী ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশক, বোয়ালখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। এই সব এলাকায় ঘর বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কার্যকর উদ্দ্যোগের যথেষ্ট ত্রুটি রয়েছে। নালা সমুহ পানি বহন করতে পারছেনা। নালায় ময়লার জমাট। অল্প বৃষ্ঠিতে নগর জীবন ওষ্টাগত। অপরিকল্পিত নগর ব্যাবস্থাপনার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনগনকে। ৪১ ওয়ার্ড়ের কমিশনার পরিচ্ছন্ন কর্মী দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করলে নগর জীবন পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য সম্মত হবে। নালা ড্রেইন পরিস্কার থাকবে। দু চার ঘন্টার বৃষ্টি হলে নগর ডুবে যায়। হাঁটু পরিমান পানি জমে যায়। স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, বন্ধ করে দিতে হয়। এখন পরিক্ষা চলছে। দূর্ভোগে শিক্ষার্থী। জানা গেছে আজকের সব ধরণের পরিক্ষা স্থগিত করেছে। নগরির নি¤œাঞ্চল প্রায় জায়গায় ডুবে যায়। বৃষ্টি হলেই নিয়মিত এই দুর্গতি চট্টগ্রাম নগরবাসির। এই অবস্থার কবে নাগাদ পরিত্রাণ মিলবে তার কোনো সঠিক কর্মসূচি জনগন দেখছেনা। ফলে বৃষ্টির পানি আর ময়লার আবর্জনার অসহনীয় দুর্ভোগ চট্টগ্রামে নগর জীবনের সাথী। পাহাড়তলী, সেলিমপুর, আকবরশাহ এলাকার পাহাড় ন্যাডা করে ফেলেছে ভুমিদশ্যুরা। বৃষ্টির সাথে সাথে পাহাড় ভেংগে মাটি রাস্তা আর বাসাবাড়িতে চলে আসে। পাহাড়ের লাল মাটিতে রাস্তা ভরেযায়। অপরিকল্পিত বিল্ডিং, আবাসিক এলাকা, সিডিএ অনুমোদনহিন নকশা বহির্ভূত বাড়ি ঘরের অনেক তথ্য পাওয়া যায়। সরকারি পাহাড়কে ন্যাডা করে কোনো লিজ ছাড়া অনেকেই ঘর বাড়ি করে সেখানে বাস করছে। তারা সরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পানির লাইন কি ভাবে পেয়ে যায়,সেখানে ও জনগণের প্রশ্ন। এর বাইরে আবাসিক এলাকায় অনুমোদন হীন ক্ষুদ্র মাজারি ধরনের নানা প্রকারের ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। একে খান মোড থেকে রাস্তার দুই পাশে জনবসতি এলাকায় গড়ে উঠেছে, ফার্নিচার, লোহা, জাহাজ ভাংগা, টেম্পো, অটোরিকশা গেরেজ। বেটারি চালিত রিক্সায় এখানে চার্জ দেয়া হয়। এইসব ফার্নিচার দোকানের উচ্ছিষ্ট এবং লোহার অংশ আবাসিকে ডুকে পড়ছে। কারখানার শব্দে আর ধুলা ময়লার ফলে নানা ধরনের শারিরিক সমস্যার তৈরি হচ্ছে। পরিবেশের মারাত্বক পরিস্থিতি পুরো চট্টগ্রামে দিন দিন তৈরি হচ্ছে। চুলকানি,কাঁশি, শব্দ দূষন হচ্ছে। দূষিত হচ্ছে আবাসিক পরিবেশ। সেখান কার ময়লা গুলো ফেলছে নালা আর রাস্তায়। নান্দনিক শহর আর পরিবেশের জন্য মোটেও উপযোগী নয়, এই সব যত্রতত্র গড়ে উঠা শিল্পকারখানা।
সিটি করপোরেশনকে নগর ও জনবান্ধব হতে হবে। নাগরিক জীবন জীবিকার নিরাপত্তা দিতে হবে। দৈনন্দিন জীবন জীবিকার খোঁজ খবর রাখতে হবে। ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, বাজারজাত মনিটরিং করতে হবে। নগরীর রাস্তা দখল করে গড়ে উঠা হাট বাজার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। স্কুল কলেজ মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্টান এলাকায় দোকান বসতে দেয়া যাবে না। নগরির আবাসিকে রাত জেগে মেহেদি অনুষ্ঠানের নামে উচ্চমাত্রায় গান বাজনা উশৃঙ্খল শব্দসনন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। আইন শৃংখলা বাহিনী সিডিএ,সিটি কর্পোরেশন কে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। ইতিমধ্যে অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নানা ভাবে জন দুর্ভোগ লেগেই আছে। পানি বন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাদেরকে মানবিক সাহায্যের আওতায় আনুন। সরকারি বেসরকারি বৃত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিৎ। নগর জীবন কে আশংকা মুক্ত করতে সব সেবা প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় থাকা চাই। নাগরিক বান্ধব জলাবদ্ধতা মুক্ত পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা এবং পরিবেশ বান্ধব নাগরিক জীবন প্রতিষ্ঠায় সকল সেবা সংস্থাকে সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঐক্যবদ্ধ দেখতে চায় নগরবাসী।



