৩১ আগস্ট সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের ব্যবস্থাপনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নগর দক্ষিণ ছাত্রসেনার সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ রিয়াজ হোসাইনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী ফ্রন্ট নগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জননেতা মাওলানা আশরাফ হোসাইন। উদ্বোধক ছিলেন নগর যুবসেনার সাংগঠনিক সম্পাদক যুবনেতা হাবিবুল মোস্তফা ছিদ্দিকী। প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা নুরুল্লাহ রায়হান খান। বিশেষ বক্তা ছিলেন ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ছাত্রনেতা সৈয়দ মুহাম্মদ খোবাইব ও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফোরকান কাদেরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন, ইসলামী ফ্রন্ট নেতা আলমগীর ইসলাম বঈদী, মাওলানা এনাম রেজা, আব্দুল কাদের রুবেল, দিদারুল ইসলাম কাদেরী, রেজাউল করিম ইয়াছিন, মহিউদ্দিন কাদেরী, হুমায়ুন কবির,মোয়াজ্জেম হোসেন মাসুম, আহমদ শফি, মুহাম্মদ কায়েস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মিয়ানমারে শতাব্দির সর্বনিকৃষ্টতম হত্যাযজ্ঞ চলছে। মিয়ানমারের সরকারী বাহিনী বিনা অজুহাতে রোহিঙ্গা মুসলমান নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের নির্বিচারে হত্যা করছে। মুসলমানদের বসতবাড়ী জ্বালিয়ে দিচ্ছে। নদীতে ডুবিয়ে মারছে। মায়ের কোল থেকে ছোট শিশুকে কেঁড়ে নিয়ে মায়ের সামনে হত্যা করছে। এমন নির্মম ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ কোন ভাবেই সহ্য করা যায় না। এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বর্তমান বিশ্ব সভ্যতা-ভব্যতাকে উপহাস করছে। অথচ এই ভয়ঙ্কর নির্মতায় বিশ্ব নেতৃত্ব অদৃশ্য কারণে নিরবতা পালন করছে। যেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী হওয়ায় অপরাধ করেছে, তাই তাদের কোন অধিকার নেই। এরকম বর্তমান বিশ্বে শুধু অমানবিক নয়, কলংকজনকও বঠে। নিজ দেশে পরবাসী রোহিঙ্গাদের মানবসন্তান হিসেবে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা বিশ্বের শান্তিকামী মুসলমানদের সোচ্চার হতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, এই নির্মমতার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব, আরবলীগ, ওআইসি, জাতিসংঘ কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ। এই সব প্রতিষ্ঠান থাকারও প্রয়োজন নেই। মুসলিম গণহত্যা বন্ধে বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ওদের হিংস্রতা আরও বেড়ে যাবে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের ষ্টীমরোলার বন্ধ না করলে প্রয়োজনে বাংলাদেশের মুসলিম জনতা মিয়ানমারের দূতাবাস, জাতিসংঘ দূতবাস ঘেরাও করবে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ