এম.আলী হোসেন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের  কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা নেই। নেই এই দপ্তরে বৈষম্যহীন জন অধিকার প্রতিষ্ঠার নিশ্চিয়তাও। মহামান্য হাইকোর্ট ও এপিলেট ডিভিশনের রায় ও নির্দেশনাও কার্যকর নেই। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুষ্টচক্রের কবলে পড়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ  (সিডিএ) যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না। ফলে জন অনাস্থা দিন দিন বাড়ছে । সৎ, যোগ্য, দক্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উৎসাহ নেই ।মন মরা ভাব নিয়ে সৎ কর্মকর্তারা এখানে কাজ করলেও দুষ্টচক্রের কারণে সিডিএ’র সুনাম তলানীতে ঠেকছে। এই অবস্থা থেকে এখনই চাই পরিবর্তন, চাই সৎ, যোগ্য, দক্ষ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি  ও বৈষম্যহীন জন অধিকার প্রতিষ্ঠা।

জানা গেছে,  ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তীতে প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ব্যাপক পরিবর্তন (পদোন্নতি, পদায়ন) হলেও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে গত ১৫ বছরে হয়রানীর স্বীকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখনো বঞ্চিত রয়ে গেছে।

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে নির্যাতিত ও নিপীড়িত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রত্যাশা ন্যায় বিচার ও সুশাসন।

সুত্রমতে,  চউক চাকুরী প্রবিধানমালা ‘৯০র তফশীল অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী হতে নির্বাহী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী হতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হতে প্রধান প্রকৌশলী পদে ন্যূনতম চাকুরীকাল যথাক্রমে ৫ বছর, ৭ বছর ও ১০ বছর অর্থাৎ সহকারী প্রকৌশলী হতে প্রধান প্রকৌশলী পদোন্নতিতে সর্বোচ্চ ২২ বছর সময় প্রয়োজন। অথচ চউকে গত ২০ হতে ২২ বছর যাবৎ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি পদ খালি রয়েছে।
জানা গেছে, ৫ জন কর্মকর্তা ১৯৯৮ সালে চউকে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করে।  ওই ৫ কর্মকর্তার মধ্যে উচ্চতর ডিগ্রী সর্বোপরি সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও সুনামধারী অফিসার থাকলেও রহস্যজনক কারণে পুরুষ্কার কিংবা পদোন্নতির বদলে নিগৃহিত ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। ফলে সিডিএ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পাশাপাশি সেবা প্রার্থীরাও হয়েছেন হয়রানীর শিকার।

অপ্রিয় হলেও সত্য যে,   দূর্নীতি মামলায় চার্জশীট ভুক্ত ও ট্রুথ কমিশনে দোষ স্বীকারকারী কর্মকর্তাগণ  পদোন্নতি ব্যতিরেকে ৩ কিংবা  ৪ টি পদ দখল করে অনৈতিক সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চউকের ভিতর ও বাহিরে অনৈতিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চেইন অব কমান্ড বিপর্যন্ত করে চলে আসছে। বিগত দিনে “দুষ্টের দমন শিষ্টের লালনের” পরিবর্তে বিপরীতটাই ঘটেছে। এর ফলে অনেক সৎ, দক্ষ কর্মকর্তা চাকুরী ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ফলশ্রুতিতে উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে Public Fund এর অপচয়, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে জনবৈষম্যও জনস্বার্থ বিঘ্নিতকরনের মাধ্যমে জন অসন্তোষ সৃষ্টি করা হয়েছে।

অথচ চউক চাকুরী প্রবিধানমালা-১৯৯০ অনুযায়ী উল্লেখিত পদসমূহে ১৮ বছর যাবৎ অনেক সৎ, দক্ষ যোগ্য কর্মকর্তাগণ নিয়মিত পদোন্নতি প্রাপ্ত না হওয়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। সৎ, যোগ্য, দক্ষ কর্মকর্তাদের যথাসময়ে মূল্যায়নের মাধ্যমে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে দেশ সেবায় উদ্বুদ্ধকরণে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা অনস্বীকার্য।দুর্নীতি দমন কমিশন বা বিভাগীয় কোন মামলা নেই এমন পদস্থ কর্মকর্তাদের সিডিএতে যোগ্য আসনে পদায়ন করা দরকার বলে সেবা প্রার্থীরা দাবী করেছেন। এখনই দরকার অনৈতিক সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটের বিলুপ্তি। নির্বাচিত সরকারের উচিত এই বিষয়ে অবিলম্ব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন।

 

 

 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ