৬টি নতুন জাহাজ ক্রয়, দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ অর্জনের প্রকল্প বাস্তবায়ন, ক্রূড অয়েল মাদার ট্যাংকার ও মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার নির্মাণ
নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে যাবতকালিন সব চেয়ে বেশি মুনাফা করেছে ৩০৬. ৫৬ কোটি টাকা। যা বিএসসির ৫৪ বছরের ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আন্তরিকতা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার কারণে ধারাবাহিকভাবে মুনাফার হার বাড়ছে বলে শেয়ার হোল্ডারগণ ও পরিচালনা পর্ষদ দাবি করেন।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ৪৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২২ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় পতেঙ্গা বোট ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক এজিএম -এ সভাপতিত্ব করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এনডিসি।
সভায় বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের সার্বিক কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, আলোচ্য অর্থ বছরে বিএসসির পরিচালন আয় ছিল ৫৯০.৯৮ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় হয়েছে ২০৭.৩০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৭৯৮.২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, পরিচালনা ব্যয় ছিল ২৮৯.৯২ কোটি টাকা এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে ব্যয় হয়েছে ১২৬.৪৫ কোটি টাকা। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪১৬.২৭ কোটি টাকা। কর সমন্বয়ের পর ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিএসসির নীট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা,যা সংস্থাটির ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিএসসির মোট আয় ছিল ৫৯৬.১৮ কোটি টাকা এবং মোট ব্যয় ছিল ৩১১.৫৯ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে কর পরবর্তী নীট মুনাফা ছিল ২৪৯.৬৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে নীট মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫৬.৮৭ কোটি টাকা।
সভায় পরিচালনা পর্ষদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নীট মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করে। নিজস্ব অর্থায়নে নতুন জাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনার কারণে আগের বছরের সমপরিমাণ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে লাভের ধারা অব্যাহত থাকলে লভ্যাংশের হার আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএসসির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩,৫৮২.৯২ কোটি টাকা এবং মোট বহিঃদেন ১,৯৮৩.৭৭ কোটি টাকা।
জনবল পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়, বিএসসির অনুমোদিত জনবল ১,৫২১ জন। ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে অফিসে কর্মরত ছিলেন ২২৫ জন এবং জাহাজে কর্মরত ছিলেন ১৪৭ জন কর্মকর্তা ও নাবিক। সভায় উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জানানো হয়, সরকারেরদিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় বিএসসি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বহরে নতুন বাণিজ্যিক জাহাজ সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চীন সরকারের ঋণ সহায়তায় ৬টি নতুন জাহাজ ক্রয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে ৫টি জাহাজ বিএসসির বহরে রয়েছে। এছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ অর্জনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে এবং অপরটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সরবরাহের কথা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও নিজস্ব অর্থায়নে নতুন ট্যাংকার ও বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ ক্রয়ের পাশাপাশি জি-টু-জি ভিত্তিতে ক্রূড অয়েল মাদার ট্যাংকার ও মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কন্টেইনার পরিবহন খাতে অংশগ্রহণ বাড়াতে ১২টি নতুন কন্টেইনার জাহাজ অর্জনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
বার্ষিক এজিএম এ নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্ঠা ও বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এজিএম এ সভাপতিত্ব এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন তিনি দীর্ঘক্ষন অনুষ্ঠানে বসে অনুষ্ঠান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় তিন ঘন্টা বসে শেয়ার হোল্ডার এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী, এনডিসি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) কমোডর মাহমুদুল মালেক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও স্বতন্ত্র পরিচালক সেলের অধ্যাপক এম. শাহজাহান মিনা ও ড. আবদুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্যিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা, নির্বাহী পরিচালক (কারিগরি) মোহাম্মদ ইউসুফ, পরিচালনা বোর্ডের সচিব এবং প্রতিষ্ঠানের সচিব আবু সাফায়াত মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলামসহ শেয়ার হোল্ডারের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন।



