জনগন মন খুলে কথা বলা, রাজনীতি করা, ব্যবসা, বাজার, অর্থনীতি পরিচালনা করার মতো অধিকার চায়
মাহমুুদুল হক আনসারী
জনগণের মৌলিক অধিকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের চিন্তা চেতনায় বাস্তবায়ন করা দরকার। জনগণ মন খুলে কথা বলা, রাজনীতি করা, ব্যবসা, বাজার, অর্থনীতি পরিচালনা করার মতো অধিকার চায়। রাষ্ট্রিয় শান্তি শৃঙ্খলা সামাজিক নিরাপত্তা স্থিতিশীল পরিবেশ চায়। রাজনৈতিক সভা সমাবেশ, নেতৃবৃন্দের বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মসূচী সবকিছুতেই জনগন শান্তি শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীল পরিবেশ আশা করে। ৩৬ জুলাই ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তন সৃষ্টি হয়েছে সেই পরিবর্তনের সাথে দেশের সর্বশ্রেনির পেশার মানুষ সমর্থন জানিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের তথা ৫৪ বছরের একটি রাজনৈতিক চরিত্র ধ্বংস করে। একদলীয় শাসন, পারিবারিক, রাজনৈতিক দলীয়করন, শোষণ ও নিপিড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগনের মধ্যে পুঞ্জিভুত ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। যুগ যুগ ধরে পারিবারিক তন্ত্র, দলীয় তন্ত্র, গণতন্ত্রের নামে এদেশের জনগনের উপর চেপে বসছিল। ৩৬ জুলাইয়ের গন বিপ্লবে সেই দিনের অবসান হয়েছে। জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার, শোষনের বিরুদ্ধে দেশের নির্যাতিত মানুষের মুক্তি হয়েছে। শোষনের হাত থেকে মুক্তি পেতে ছাত্র গণ আন্দোলনের কাতারে দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ সমবেত হয়ে দেশের গন মানুষের মুক্তির জন্য সফল একটি বিপ্লব সফল হয়েছে। ছাত্ররা চেয়েছিল কোটা মুক্ত চাকরি নিয়োগ। তারা পেয়ে গেছে একটি দেশের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষমতা। এটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য নির্যাতিত মানুষের পক্ষে সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদ। ৫৪ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশকে একটি গোষ্টি রাজনীতির নামে, অর্থনীতির নামে, মুক্তিযুদ্ধের নামে, স্বাধীনতার নামে বিভাজন সৃষ্টি করে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে  দ্বিধা বিভক্ত করে রেখেছে। তারা ধর্মীয় রাজনীতি আর ধর্মহীন রাজনীতির মধ্যে বিরাট তফাৎ সৃষ্টি করেছে। ইসলামের নামে অসংখ্য ইসলামিক রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি করেছে অসংখ্য প্লাটফরম। দলে দলে একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছোড়িতে নিয়োজিত রেখেছে তাদেরকে। পদ পদবির ও অর্থের লোভ লালশায় ও এইসব দলের শীর্ষ নেতারা ইসলামি রাজনীতির নামে বিভাজন ও বিভক্তির রাজনীতি চর্চা করে আসছে। যদিও ইসলাম ধর্ম নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ও কোরআন, হাদিস অভিন্ন। মক্ক মদীনা, হজ্ব , ওমরাহ, নামাজ, রোজার, নিয়ম নীতি, ফরজ ওয়াজীব সব কিছুতেই মিল প্ওায়া যায়। কিন্তু রাজনীতির চরিত্রে তারা একে অপরের মুখোমুখি ফতোয়া পাল্টা ফতোয়া একে অপরকে ছোড়ে মারে। ফলে বাংলাদেশের সংখ্যা গরিষ্ট জনগনের আস্থা  বিশ্বাসের ধর্ম ইসলামের অনুসারিদের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তি ও মতবিরোধ অসংখ্য জনক হারে বাড়ছে।
ধর্মহীন সেকুলার রাজনীতি, ইঙ্গ মার্কিন সাম্রাজ্য কমিউনিজম পন্থি রাজনীতির কতিপয় দল এবং নেতারা রাজনীতির মাঠকে তাদের পক্ষে রেখেছে। বাস্তবে জনগনের মুখে ধোকা আর মিথ্যার বুলি আউড়িয়ে জনগনকে বোকা বানিয়ে ক্ষমতার মসনদ দখল করাই তাদের মূল টার্গেট। দেশের সাধারণ মানুষ স্বল্প শিক্ষিত কৃষি, কুমার, তাতি নানা পেশার কর্মজীবি মানুষ। রাজনৈতিক নেতাদের কথার বিশ্বাসে দীর্ঘ বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছে। সাধারণ মানুষের আশা আঙ্খাকার প্রতিফলনের জন্য। বাস্তবে জনগন তার উল্টোভাবে রাজনীতির মাধ্যমে শোষনের শিকার হয়েছে। ৫৪ বছরের শাসন রাজনীতিতে শাসক গোষ্টি হাজার ও লাখ কোটি টাকার  মালিক হয়েছে। তাদের বাড়ি গাড়ি রয়েছে, ব্যাংক হয়েছে, দেশে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। দেশ অর্থনীতি রাজনীতি শিক্ষার কর্মসংস্থান শূন্যের কোটায় পৌছেছে। এই সব অপরাজনীতির পেছনে দেশিবিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চক্রান্ত কাজ করেছে।
৩৬ জুলাই ২৪ এর মাধ্যমে অর্জিত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে দেশের শান্তি প্রিয় বৈষম্যহীন জনগন স্বাগত জানিয়েছে। একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ, অর্থবহ নির্বাচন, জাতীয় আন্তর্জাতিক ভাবে দূর্নিতি মুক্ত প্রশাসন দেখতে চায় এ দেশের মানুষ এবং সারা পৃথিবী

বিগত দিনের শাসন শোষন অত্যাচার দূর্নিতির জগদ্বল পাথরকে সরিয়ে ঐতিহাসিক রাজনীতি অর্থনীতি নির্বাচনের একটি আদর্শিক পরিবর্তন আশা করে জনগন। ছাত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তিত বর্তমান অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রতি দেশের সিংহভাগ জনগনের অকুন্ঠ সমর্থন দেখছি। গেল কয়েকমাসে অর্থনৈতিক বাজার পরিস্থিতি মনিটরিং ব্যবস্থাপনা মোটামোটি সফল হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সরবরাহ সন্তোষজনক ছিল। নিত্যপণ্যের আদান প্রদান সরবরাহ ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে জনগন সন্তুষ্ট চিত্তে ভোগ করতে পেরেছে। ফলে বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বিশ্বাস  বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাড়াহুড়া করে যেন তেনো ভাবে কতিপয় রাজনৈতিক দলকে সন্তুষ্ট করতে তাদের চাপে পড়ে। নির্বাচনের নামে যে কোনো ধরণের প্রহসনের তথাকতিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পাতানো ফাঁদে সরকার যেনো পা না বাড়ান জনগন সে কথায় এখন বলছে। কথা বলার অনেক কিছু আছে অন্য সময় আরো বলা হবে। বর্তমান সরকার দেশ বিদেশে দেশ ও জনগণকে নিয়ে যেভাবে কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেটি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মঙ্গল বয়ে আনবে। দেশের জনগণ কতিপয় রাজনৈতিক দলের কথায় ্ওঠ বস করে না। সুতরাং জনগনের দাবির      শ্লোগান তুলে নির্বাচনের কথ বলে প্রেশার সৃষ্টি করার সাথে জনগণ মুঠেও একমত নয়। জনগণ টেকসই অর্থবহ অংশগ্রহন মূলক ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন প্রত্যাশা করে।

শেয়ার করুনঃ