মোহাম্মদ শাহিন আহমেদ

মোটর সাইকেলের পেছনে চেপে ইদানিং নগরের সব জায়গায় যাচ্ছেন সব শ্রেণীর মানুষ । নগরের ভয়াবহ যানজট আর সহজ লভ্যতা এই কারণে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ এর মোটর সাইকেল আজকাল খুবই জনপ্রিয় হয়েছে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসেবে মোটর সাইকেল নিবন্ধন আগের চাইতে অনেক বেড়েছে।
কাঠগর এলাকার বাসিন্দা তিনি আগ্রাবাদ নিয়মিত অফিস করেন রাহুল সাহেব তিনি বলেছন নগরীর যানজটের কারণে আরো অনেকের মত রাইড শেয়ারিং অ্যাপ বেছে নিয়েছেন তিনি। কারণ মটরসাইকেলে দ্রুত পৌঁছানো যায় কিন্তু যে দ্রুত তার জন্য এই বাহন ব্যবহার করছেন সেই একই আজকাল নিজের নিরাপত্তা জন্য উদ্বেগও বোধ করেছেন তিনি। একদিন সন্ধ্যার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে তিনি বলছিলেন ছেলেটি একটু অল্পবয়স্ক ছিল মানে সে এরকম ভাবে চালাচ্ছিল যে একটুর জন্য বাসের সাথে লাগিয়ে দেয়। আমার মনে হচ্ছিল কখন শেষ হবে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । আবার একই সাথে অভিযোগের তীর মোটর সাইকেল চালকদের দিকে বেশি। একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়নের সংস্থার কর্মকর্তা সামাদ সাহেব বলছিলেন পিক আওয়ারে ড্রাইভাররা একটু পাগলের মত বিহ্যাভ আচরণ করে, তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে হবে ওকে ।অন্য আরেকজনকে নিতে হবে তিনি কয়েকবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। তার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন আমার ছোটখাটো এক্সিডেন্ট অনেকবার হয়েছে ফিশারি ঘাট এলাকায় ব্রিজ থেকে নামার সময় পড়ে গিয়েছিলাম। সে খুব তাড়াহুড়ো করে চালাচ্ছিল আমি তাকে কয়েক বার বলছি, তিনি একজনকে ওভারটেক করতে গিয়ে ঢালে পড়ে যায় ।আমিও মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। সে যাত্রা কোন রকম বেঁচে গেছেন তিনি কিন্তু এমন ঘটনার শিকার আরো হয়েছেন তিনি।
এদিকে চালকরা বরং যাত্রীদের উপরে দোষ চাপাচ্ছেন তারাই বলে সময় অল্প একটু জলদি যান। এ কথা বলে কয়েকজন চালক অভিযোগ করলেন রাইডার মোহাম্মদ জুয়েল নামে একজন ।চালক বলছেন অনেক সময় যাত্রীরাই বলে আমার অফিস ধরতে হবে একটু তাড়াতাড়ি যান ।এটা নিয়ে রিপোর্ট কখনো আসে না, যে যাত্রীরা তারা দেয় সব সময় আসে আমাদের রাইডারদের দোষ। ওদিকে যারা একটু আয়েশি গাড়ির মালিক নন অথচ গাড়িতে চড়ার স্বাদ পেতে চান গাড়ি কেনার ঝামেলায় যেতে চান না অথবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ঘুরতে যেতে চান এমন অনেক ক্ষেত্রেই শুধু স্মার্টফোন কয়েকটি ক্লিক দিলেই মিনিট কয়েক পরেই গেটের সামনে এসে হাজির হচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি। এই সুবিধার কারণে এতটা জনপ্রিয় হচ্ছে রাইড শেয়ারিং এর সেবা। মোটর সাইকেলের সেবার মতো এতোটা না হলেও তাদের নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে ।রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলোর কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তাদের কাছে যে অভিযোগগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম হলো চালকদের ব্যবহার নিয়ে আপত্তি ।পছন্দমত জায়গায় যাত্রীকে তুলতে না চাওয়া অথবা ভাড়া নিয়ে বিবাদ। কিন্তু সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সবচাইতে বেশি।
পাঠাও অফিসের এক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান যে অনিয়ম হলে চালকদের জন্য নানা ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে ।তিনি বলছেন প্রথমত অ্যাপটির ব্যবহার শেখানো হয় তারপর নেভিগেশন কিভাবে এটি ব্যবহার করে যাত্রীর কাছে যাবেন ।এর পর সড়ক নিরাপত্তা আইন। আর চতুর্থ হচ্ছে কাস্টমারকে কিভাবে ভালো সার্ভিস দেওয়া যায়। প্রথমে সরাসরি সামনে বসিয়ে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সেটিতে পাশ করলেই সে চালক হিসেবে অ্যাপে যুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবে কিন্তু তারপরও প্রাথমিক দিকে প্রথম ৫০ টি যাত্রা পর্যন্ত নানা তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ চলতে থাকে ।তিনি আরো বলেন একজন চালককে শুরুতেই লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য দিতে হয়। তবে মিস্টার আশিকুল বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরীর বিশৃংখল যানবাহন ব্যবস্থা তাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।ট্রাফিক আইন অমান্য করা দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো বারবার লেন পরিবর্তন করা পথচারী কে সম্মান না করা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব এমন নানা অভিযোগ রয়েছে চালকদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। আশিকুর রহমান আরও বলেন পাঠাও এর প্রত্যেকটা রাইড ইনসিউরড করা থাকে পাঠাও এ থাকা অবস্থায় যদি কোন দূর্ঘটনা হয় তাদের জন্য হাসপাতাল বেনিফিটও আছে।
শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ