জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সারাদেশে হামলা, মামলা ও সহিংসতা ঘটনা আমি বিগত ৪০ থেকে ৫০ বছরের নির্বাচনগুলোতে দেখনি। এ রকম একটি জাতীয় নির্বাচনে পুলিশকে সংঘবদ্ধভাবে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এবং সরকারি দলের সমর্থক মিলে বিরোধ দলের উপর পেশীশক্তির ব্যবহার করছে।

শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে পুরনো পল্টনের জামান টাওয়ারে ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথঅ বলেন।

ড. কামাল বলেন, আমি সরকারকে বলবো, নির্বাচনের আর সাত দিন আছে, এটা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। সংবাদ সম্মেলনের পুরোপুরি যেন সরকার এগুলো বন্ধ করে। না হলে সংবিধান লঙ্ঘনে তিনি অপরাধী হবেন। এটা নির্বাচনী আইনে অপরাধ নয়, সংবিধান লঙ্ঘনে অপরাধ।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, নির্বাচনের পূর্বে এটাকে আমি নজিরবিহীন মনে করি। সারা দেশে এমন হচ্ছে। এ থেকে বুঝা যায় পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় আদেশ নির্দেশে এগুলো হচ্ছে। এটা সংবিধানকে সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই এখনো সাতদিন আছে। মাথা ঠিক করেন, মাথা সুস্থ করেন, মাথা ঠান্ডা করেন। নির্বাচনে জিততে হবে কিন্তু এভাবে না। এটাকে জেতা বলবো না, বলবো সংবিধানকে ধ্বংস করা, মানুষের সাথে ভাঁওতাবাজি করা, তাদের ভোট অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, যে কায়দায় করা হচ্ছে এটাকে আমি বলি পূর্বের সমস্ত স্বৈরাচারিতাকে ছাড়িয়ে গেছে। আপনাদের ভালোভাবে বলছি আর সাত দিন আছে, কালকে থেকে আমরা রিপোর্ট নেবো এটা বন্ধ হয়েছে কিনা। বন্ধ না হলে জানেন যে নির্বাচন হবে তা জনগণ কোনভাবেই গ্রহণ করবে না। কারণ জনগণ সচেতন। জনগণ এটাকে স্বীকৃতি দেবে না। আর স্বীকৃতি না দিলে আপনি যতই দাবি করেন আপনি নির্বাচিত সরকার এসবের কোন অর্থ থাকবে না। অর্থহীন বিজয়ের দিকে না অগ্রসর হয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেন।

কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন মানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সরকার দল থাকবে, বিরোধী দল থাকবে।

তিনি বলেন, সংবিধান বলছে সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবে দেশের নাগরিকদের পক্ষে। অবাধ নিরপেক্ষ নিশ্চিত না করলে। যারা তথাকথিত দাবি করবে আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি, এট মিথ্যা দাবি হবে।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, এটা হলো স্বাধীনতার উপরে আঘাত, দেশ স্বাধীন অথচ দেশের মানুষের স্বাধীনতা থকবে না এরচেয়ে বড় অপরাধ হতে পারে না।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ