নজরুল ইসলাম

ভূমিকা : নিজ স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্ত:ফুটবল খেলা ০১ জুন,২০২৬ তারিখ স্কুল মাঠে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।মানেই কেবল মাঠের ২২ জন খেলোয়াড়ের লড়াই নয়, এটি পুরো স্কুলের জন্য একটা উৎসবের মতো। এই টুর্নামেন্টগুলোকে কেন্দ্র করে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বাঁধভাঙা উল্লাস, উদ্দীপনা এবং একাত্মতা দেখা যায়, তা সত্যিই অন্যরকম।
​শিক্ষার্থীদের এই উল্লাস এবং এর পেছনের বিভিন্ন দিক নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
​১. গ্যালারির গর্জন ও স্লোগান: ​খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই মাঠের চারপাশ কানায় কানায় ভরে যায়। প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার্থীরা দলে দলে এসে গ্যালারি বা মাঠের এক এক পাশ দখল করে নেয়। নিজেদের স্কুলের জার্সি বা নির্দিষ্ট রঙের টি-শার্ট পরে তারা হাজির হয়।
​ শিক্ষার্থীরা খেলার পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে একটানা বাজতে থাকে এগুলো।
​স্লোগান ও চিয়ার্স: “জিতবে এবার জিতবে, [স্কুলের নাম] জিতবে!” কিংবা নিজেদের প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম ধরে তৈরি করা নানা রকম মজার ও ছন্দময় স্লোগানে মুখরিত থাকে পুরো এলাকা।
​২. বাঁধভাঙা গোল উদযাপন: ​মাঠে যখন নিজেদের দলের কেউ গোল দেয়, তখন শিক্ষার্থীদের উল্লাস দেখার মতো হয়। ​পুরো মাঠের সমর্থকেরা এক লাফে দাঁড়িয়ে চিৎকার শুরু করে। ​একে অপরকে জড়িয়ে ধরা, বাতাসে হাত ছোড়া, কিংবা খুশিতে নাচানাচি করা—সব মিলিয়ে এক তুমুল কাণ্ড বেঁধে যায়। ​অনেক সময় সাইডলাইনে থাকা অতিরিক্ত খেলোয়াড় এবং সমর্থক শিক্ষার্থীরা মাঠের ভেতরে দৌড়ে গিয়ে গোলদাতা খেলোয়াড়কে কোলে তুলে নেয়।
​৩. ট্রফি জয় এবং ‘উইনিং প্যারেড’: ​ফাইনাল ম্যাচে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্তটি হয় এই উল্লাসের চূড়ান্ত রূপ।
​মাঠ দখল: রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে শত শত শিক্ষার্থী মাঠের চারপাশ থেকে দৌড়ে এসে খেলোয়াড়দের ঘিরে ধরে।
​প্যারেড ও মিছিল: ট্রফি হাতে পাওয়ার পর শুরু হয় আসল আনন্দ। ট্রফি উঁচিয়ে পুরো মাঠ চক্কর দেওয়া হয়। এরপর স্কুল বাসের ছাদে চড়ে, কিংবা রাস্তা দিয়ে ট্রফি নিয়ে বিশাল মিছিল (উইনিং প্যারেড) করে গান গাইতে গাইতে স্কুলে ফেরা হয়।
​স্কুলে উদ্‌যাপন: স্কুলে পৌঁছানোর পর প্রিন্সিপাল, শিক্ষক এবং সব শিক্ষার্থী মিলে মিষ্টি বিতরণ ও রঙ খেলার মাধ্যমে আনন্দকে ধরে রাখে।
​হার-জিতের শিক্ষা: উল্লাস শুধু জয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক সময় দল হেরে গেলেও শিক্ষার্থীরা তাদের খেলোয়াড়দের হাততালি দিয়ে সান্ত্বনা জানায় এবং তাদের লড়াকু মানসিকতাকে সম্মান করে। এই বিষয়টি তাদের মধ্যে গভীর সহমর্মিতা ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব (Sportsmanship) তৈরি করে।
​৪. বন্ধুত্ব ও স্কুল স্পিরিট (School Spirit) :
​এই ফুটবল খেলাগুলোকে কেন্দ্র করে স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অদ্ভুত একতা তৈরি হয়।
​বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিভেদ ভুলে সবাই তখন কেবল একটাই পরিচয় বহন করে—তারা অমুক স্কুলের ছাত্র বা ছাত্রী।
​সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক আরও মধুর হয়। গ্যালারিতে গলা ফাটানোর খাতিরে ক্লাসের সবচেয়ে শান্ত ছেলে বা মেয়েটিও সেদিন সবচেয়ে জোরে চিৎকার করে ওঠে।
​স্কুলজীবনের এই ফুটবল টুর্নামেন্ট আর তা নিয়ে বন্ধুদের সাথে করা চিৎকার, উল্লাস ও হইচই—এগুলোই বড় হয়ে একেকজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর এবং রঙিন স্মৃতি হিসেবে জমা থাকে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ