মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর উপর চলমান নির্যাতন, নিপীড়ন, অগ্নিসংযোগ, নির্বিচারে খুন, ধর্ষণ এর কারণে দেশে বিদেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তার সাথে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশের বৌদ্ধ জনগোষ্টীও প্রতিবাদে সামিল হয়েছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার কাছে রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ লিপি পাঠানো হয়েছে। নির্যাতনের মুখে লক্ষ-লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্টী সিমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। জীবন বাঁচাতে রাখাইনে তাদের বাড়িঘর, ছেলে-সন্তান, আত্মীয় পরিজন ফেলে আসা এই সব জনগণ মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণ তাদের মানবিক সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছে যা আন্তজার্তিক পরিমণ্ডলে সরকার প্রশংসিত হয়েছে। ইতি মধ্যে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি বিচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ সাহায্য নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্তায় বাংলাদেশের নাগরিক ও একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যার্থে ত্রাণ তহবিল গঠন করে অসহায় এ রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর পাশে দাঁড়ানো। এই বিষয়ে মহামান্য সংঘরাজ ও মহামান্য সংঘনায়ক সহ বৌদ্ধ জাতীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে সম্মিলিত ত্রাণ তহবিল গঠন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত আহবান জানাচ্ছি। উল্লেখ্য যে, উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বৌদ্ধ জনগোষ্টী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভাবে দিন যাপন করছে। তাদের আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এদেশে আমাদের প্রতিবেশী, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি সর্বোপরি রাষ্ট্র আমাদের সাথে আছে। সুতরাং উদ্বিগ্ন না হয়ে নাগরিক কর্তব্য পালনের লক্ষ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তাদের পাশে দাঁড়াই।



