মাহমুদুল হক আনসারী
মুসলমানদের কোরবানির ঈদের সময় নিকটবর্তি। আর কয়েকদিন পরেই সামর্থ্যবান মুসলিম নর নারী পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈদুল আযহা উদ্যাপন করবে। দুটি বড় ঈদের মধ্যে ঈদুল আযহা মুসলিম বিশ্বে খুশির ঈদ। সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের ন্যয় মুসলমানগন সামর্থ্যের মাধ্যমে পশু কোরবানি আদায় করবেন। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই পশু কোরবানি হয়ে থাকে। মুসলিম নর নারী সামর্থের মধ্যেই এটি করে থাকেন। কাউকে দেখানোর জন্য এই ইবাদত হয়না। আল্লাহর সন্তুষ্টি কোরবানির মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ ও সময় ঘনিয়ে আসলে কোরবানিকে নিয়ে ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট তৈরি হয়। রাজনৈতিক ক্যাডার এইসব সিন্ডিকেটের জোগানদাতা। লাখ লাখ কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয় কোরবানির পশুর বেচা বিক্রি নিয়ে। বাংলাদেশের গা গ্রামে কোরবানিকে সামনে রেখে পশু মোটা তাজা করণ ও লালন পালন হয়ে থাকে। পশু খামারিরা বছর ব্যাপি কোটি কোটি টাকার এই ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। আশা কোরবানির ঈদে কিছু টাকা মুনাফার মাধ্যমে অর্জন করা। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খামারিগন পশু পরিচর্চা করলেও অনেক সময় রাজনৈতিক  ও মৌসুমি ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত পশু ব্যবসায়িরা লাভ করতে পারে না। এর বাইরেও অবৈধ পথে ভারত, বার্মা হতে পশু আসলে দেশ্ওি পশু খামারিদের লোকসান গুনতে হয়। বাস্তবে আমাদের দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ পশুর চাহিদা থাকে শুধু মাত্র কোরবানিতে। তবে এ পর্যন্ত কোনো সময়কোরবানির জন্য পশুর সংকট দেখা যায়নি। মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে কোরবানি দাতাগণ চাহিদা মতো পশু পেয়ে যায়।
পশু লালন পালন, সুস্থ পশু, সবল পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পশুকে মোটা তাজা করণের নামে অসাস্থ্যকর ও ক্ষতিকর খাদ্য উপাদান বন্ধ করতে হবে। স্বাভাবিক পরিচর্চা খাদ্যের মাধ্যমে পশুকে মোটা তাজাকরণ করা চায়। পশু খামারিদের প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দিতে হবে। তাদের ব্যবায়িক ক্ষতি হয় এমন ধরণের কর্মসূচী পরিকল্পনা রাখা যাবে না। পশু বহনকারী ট্রাক থেকে সব ধরণের চাদা তোলা প্রতিরোধ করতে হবে। পশু ব্যবসায়িদের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা দিতে হবে। রাস্তাঘাটে সব ধরণের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন অনুমোদিত বাজার ছাড়া অন্য যেকোনো স্থানে পশুর বাজার বসা বেচা বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। হাইওয়ে রাস্তা, পাড়া মহল্লার অলি গলিতে পশুর বাজার বসা বেচা বিক্রি স্থানিয় প্রশাসনকে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বাংলাদেশ বহু ধর্ম গোত্রের দেশ। ধর্ম সভ্যতা কালচার ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এই দেশে উদ্যাপিত হয়। কেউ র্কাও অনুমতিতে আঘাত দ্ওেয়ার মতো কার্যকলাপ করা উচিত নয়। পশুর বর্জ্য ময়লা আবর্জনা সবকিছু নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। ধর্মের চরিত্রের নামে অধার্মিক অপরিষ্কার অসাস্থ্যকর পরিবশ বিরোধি কাজ করা থেকে সকল নাগরিকের বিরত থাকা দরকার। ধর্মীয় অনুভূতির নামে সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি প্রদর্শন করে অপরাপর ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করা মোটেও গ্রহন যোগ্য নয়। সহনশীলতা পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানবিক হ্ওয়া ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। ইসলামের নামে ধর্ম পালনের চরিত্র তুলো ধরে ধর্মিয় উন্মাদনা ইসলাম সমর্থন করে না। ধর্মীয় আচার আচরণ সহনশীল শ্রদ্ধাবোধ প্রতিবেশির প্রতি সদাচারণের মাধ্যমে পালন করা চায়।
ইসলামের আদর্শ চরিত্র সমুন্নত রেখে পশু কোরবানি উদ্যাপন করা চায়। পশুর প্রতি আন্তরিকতা মায়া মমতা দেখিয়ে কোরবানির প্রদত্ত নিয়ম মেনে মুসলিম সমাজে দিবসটি উদ্যাপন করা দরকার। পশুর উচ্ছিষ্ট কোনো ভাবেই যত্র তত্র ফেলা উচিত নয়। পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য বিক্রয় লব্দ অর্থ রাষ্ট্রিয় অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে। বিগত এক যুগ থেকে পশু চামড়ার ন্যায্য মূল্য থেকে জনগন বঞ্চিত হয়েছে। সিন্ডিকেট ও রাষ্ট্রের ব্যর্থ্যতার কারণে এই বিপর্যয় বলে সচেতন জনগণ মনে করে। বর্তমান সরকার আশা করি চামড়া শিল্পের বেচা বিক্রির সফলতার মাধ্যমে বিরাট একটি অর্থনীতির এই ক্ষাতকে পুনরুদ্ধার করবেন বলে আশা করি। মোট কথা কোরবানির পশুর বাজার, সিন্ডিকেট, চামড়া শিল্প এই ক্ষাতের হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থনীতির ধারাবাহিকতা আবার যেনো ফিরে আসে। জাতীয় অর্থনীতিতে কোরবানির পশুর বেচা বিক্রির সুফল যেনো আবার প্রতিষ্ঠিত হয়। সব ধরণের সিন্ডিকেট প্রথা বন্ধ করে বৈধ নির্ধারিত বেচা বিক্রির হাটবাজারে যেনো পশু বিক্রি হয়। অতিরিক্ত চাদা হাসিল জনভোগান্তি যেনো কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ হয়। প্রত্যাশা জনগণের।

সর্বশেষ সংবাদ