বরাবরে ,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমীপে,
শ্রদ্ধেয় তারেক ভাইজানরে ,
গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন। আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নানান ফর্মূলা তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া ভালোই আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ভাবিয়াই নানান রকম চিন্তা করিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি।
গেলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমীপে গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম বলিয়াই আপনাকে লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।
ভাইজানরে,
‘মাননীয়’ কথাটি বাদ দিবার কারণে আমিও আপনাকে আর মাননীয় বলিয়া সম্বোধন করিতে পারিলাম না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্র্রীকেও যদি ‘মাননীয়’ বলিতে কাহারও আপত্তি থাকিয়া থাকে তবে ‘মাননীয়’ শব্দটি কোথায় ব্যবহার হইবে জানিতে ইচ্ছা করে। ‘মাননীয়’ বাদ দিবার বিষয়ে কে আপনাকে উৎসাহ দিয়াছে তাহা না জানিলেও কাজটি ঠিক হয় নাই বলিয়া আপনার শুভাকাঙ্কী বলিতেছে।
ভাইজানরে,
একি শুনিতেছি, সারাদেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়িয়াছে।ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়ায় সরকারের প্রতি জনরোস তৈরী হইতেছে। দেশের সুনাামধারী ঠিকাদারগণ হা-হুতাশ করিতেছে। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গিয়াছে – ভুমি অধিগ্রহণ জটিলতা, নিমার্ণ সামগ্রী যেমন রড, সিমেন্ট, বালু, ইট ও বিটুমিন ইত্যাদি দাম বাড়িয়াছে ৩/৪ গুণ । ব্যাংক ঋণের উপর বাড়িয়াছে সুদও ।সওজ, পানি উন্নয়ন বোর্ড,সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে ও জলাবদ্ধতা প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জনগণকে এই বিষয়ে কিছুই বলিতে পারিতেছে না । ঠিকাগারগণ শত চেষ্টা করিয়া উপরোক্ত সমস্যার কারণে কাজ সম্পাদন করিতে পারিতেছে না। আমাদের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য আছে প্রকল্পের একটি প্যাকেজে ঠিকাদার শর্তানুযায়ী ৬০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়াছেন। চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করিলে ৬০ কোটি জব্দ করিতে পারিবে সওজ।বাজার মূল্যবৃদ্ধি কারণে কাজ করিলে ৮০ কোটি টাকা লোকসান হইবে। তাহার চেয়ে ৬০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জব্দ করুক, তাহাতে লোকসান কম হইবে।বহু কাজের অবস্থা এই রকম।এইভাবে সারাদেশে বহু কাজ থমকে আছে।
ভাইজানরে,
দীর্ঘদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকিবার কারণে দেশের যেমন বারটা বাজিতেছে তেমনি ঠিকাদারগণ ব্যাংক ঋণে জর্জরিত হইয়া হা-হুতাশ করিতেছে।নিমার্ণ কাজ বন্ধের কারণে নির্মাণ শ্রমিকেরা বেকার হইতেছে।সংশিষ্ট দপ্তরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্ধি হইয়া আছে। আপনি ও আপনার অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর শলা পরামর্শ করিয়া তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিবেন।যেইসব নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে সেই কাজগুলো শুরু করিয়া দিবার ব্যবস্থা করিবেন। ঠিকাদারগণের ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুপ করিয়া প্রাইজ অ্যাডজাস্টমেন্টের সুযোগ করিয়া দেশের উন্নয়নের চাকা চালু করিবেন।
আজ আর না আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনায় আপনারই গ্রাম বাংলার অখ্যাত ঠাণ্ডা মিয়া।গ্রন্থনা ম. আ. হ তারিখ ১৮ -০৯- ২৬
আগামী সংখ্যায় চট্টগ্রামের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সমীপে ঠাণ্ডা মিয়ার গরম কথা (৩৬৫) সম্প্রচার করা হইবে।



