সুনামগঞ্জে ভারতীয় মালামাল আটক করার ঘটনায় পুলিশ বিজিবির মধ্যে সংঘর্ষ

  প্রিন্ট
(Last Updated On: আগস্ট ২৩, ২০১৭)

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা :
সুনামগঞ্জে ভারতীয় মালামাল আটক করার ঘটনায় পুলিশ বিজিবির মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় উত্তেজিত জনতার হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন ৪ বিজিবি জওয়ান। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ভারতীয় মালামালের অটোরিক্সাসহ বিজিবি সদস্যদেরকে আটক করে রাখে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ডলুরা বোর্ডার হাট থেকে ভারতীয় মালামাল ক্রয় করে সুরমা নদী দিয়ে ব্যবসায়ীরা প্রতি মঙ্গলবার মালামাল নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পথে শহরের চান্দিঘাট এলাকার সামনে সিভিলবেশে ওৎপেতে থাকা বিজিবি জওয়ানরা মালামাল আটক করে। পরে বিজিবি ক্যাম্পে আটককৃত মালামাল নিয়ে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ২২ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ৪ বিজিবি জওয়ান সিভিল বেশে মালামাল আটক করে একটি অটোরিক্সাযোগে শহরের নবীনগর ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে কাজির পয়েন্ট এলাকায় সদর মডেল থানার এসআই আব্দুল হক তাদেরকে গাড়ি থামানোর অনুরোধ করেন। এসময় অটোরিক্সায় থাকা সিভিল বিজিবি জওয়ানরা এসআইসহ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদেরকে মারপিঠ করতে উদ্যত হন। এ ঘটনা প্রত্যেক্ষ করার সাথে সাথে দৈনিক খবরপত্র প্রতিনিধি হোসাইন মাহমুদ শাহীন ঘটনার চিত্র ক্যামেরাবন্দী করতে গেলে বিজিবি সদস্যরা তাকেও মারপিট করতে উদ্যত হন। পুলিশ ও সাংবাদিকদের সাথে বিজিবির সংঘষে মারমুখী আচরনের দৃশ্য দেখে তাৎক্ষনিকভাবে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হয়। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত সিভিল বিজিবি জওয়ানরা পুলিশের কাছে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে মালামালসহ অটোরিক্সাটি নিয়ে জোর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে সদর মডেল থানার এসআই কায়েসসহ আরেক দল পুলিশ এসে ভারতীয় মালামালসহ বিজিবির অটোরিক্সাটি আটক করেন। পরে হাবিলদার সুবোধ বাবুর নেতৃত্বে আরেক দল বিজিবি জওয়ান এসে মালামালসহ অটোরিক্সাটি জোর করে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা ও পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। সংবাদ পেয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাবিব উল্লাহ,সহকারী পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ ও সদর মডেল থানার ওসি মোঃ শহীদুল্লাহ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন এবং পরে বিজিবি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তায় অন্য একটি অটোরিক্সায় মালামাল বুঝাই করে অবৈধ মালামাল ২৮বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আটককৃত সদস্যকেও ছেড়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে মালামাল বহনকারী অটোরিক্সাসহ চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় বিজিবি’র সদস্যরা গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে রূঢ় আচরন করেন। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ জানান, অবৈধ মালামাল আটক করার ক্ষমতা বিজিবি’র রয়েছে। তবে আটককৃত মালামালের কোন সিজার লিষ্ট করা হয়নি। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আটককৃত মালামালসহ বিজিবি’র সদস্যকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরে পুলিশ সুপার মো: রবকতুল্লাহ খান বিস্তারিত জানাবেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্ডারহাট থেকে বিজিবি’র সদস্যরা ভারতীয় মালামাল আটক করে মাল রেখে দেয় এবং বহনকারীকে আটক না করে মালগুলো গায়েব করে ফেলে। প্রতি মঙ্গলবারেই বিজিবি’র সদস্যরা এভাবে মালামাল আটক করে গায়েব করে ফেলে। বোর্ডারহাটের ব্যবসায়ীরা বলেন,আমরা নিয়ম ও বিধি মোতাবেক বৈধ পন্থায় ভারতীয় মালামাল ক্রয় করি। কিন্তু বাজার থেকে ক্রয়কৃত মাল নিয়ে বের হয়ে আসামাত্র বিজিবির নাম ভাঙ্গিয়ে জনৈক শারপিন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে। চাঁদা না দিলে উক্ত শারপিন ২৮ বিজিবির হেডকোয়ার্টারে মোবাইল ফোনে ব্যবসায়ীদের অবস্থান জানিয়ে দেয়। তখন থেকেই স্থানীয় নবীনগর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যদের দিয়ে মালামাল আটক করা হয়। আবার টাকা নিয়ে এসব মাল ছেড়ে দেয়া হয়। বিজিবি’র সদস্যদের দ্বারা সীমান্ত এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমান অধিনায়ক আসার পর থেকেই এ ধরনের অপরাধ ঘটেই যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ২৮ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লে: কর্নেল নাছির উদ্দিন এর বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি আটককৃত সদস্যের টিভি স্ক্রলটি নামানোর অনুরোধ করে বলেন, ভাল খবর পাঠিয়েছেন। পরে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন এবং কোন বক্তব্য দিতে চাননি।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password