লামা-আলীকদমে আম চাষীদের মাথায় হাত

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০১৮)

৪২ প্রজাতির ফল উৎপাদন মুল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা, একটি হীমাগার স্থাপনের দাবী

মো.কামরুজ্জামান, লামা: ২ জুলাই
লামা আলীকদম উপজেলায় কয়েক হাজার একর পাহাড়ী ঢালুতে আম চাষ হয়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই জনপ্রিয় আম ফলটি প্রতি বছর প্রতিযোগিতামূলকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে এলাকার নার্সারীগুলোতে আম চারা বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। সকল শ্রেণির মানুষ আম চারা ক্রয় করছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ বাণিজ্যিকভাবে রাঙ্গুই (বার্মিজ) ও আ¤্রপালি আমের ফলনের প্রতি ঝুঁকছেন স্থানীয়রা। ঘরের আঙ্গিনা থেকে শুরু করে পাহাড়ের ঢালুতে আমচারা রোপন করা যেন এই এলাকার মানুষের সুন্দর একটি অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। গত কয়েক বছরে হাজার একর পাহাড়ী ঢালুতে সৃজিত হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির আমের গাছ। সরকারি হিসেবে চলতি বছর ১৫৫০ হেক্টর জায়গা জুড়ে আম উৎপাদন হয়েছে ১৮৬০ মে:টন। এর মধ্যে একক বাগানের সংখ্যা ৫৫০টি ও বসতবাড়ির আঙ্গিণায় ১০ হাজার। মোট চাষীর সংখ্যা- ১০ হাজার ৫ শ্ ৫০ জন।
লামা রুপসিপাড়া ইউনিয়নের আমচাষী আ: রহমান জানান, তিনি ২৫ একর জায়গায় আম বাগান সৃজন করেন। বিগত চার বছর ধরে তিনি আম বিক্রি করে বেশ লাভবানও হয়েছেন। প্রতি বছর বাগান থেকে ১৮ লাখ টাকার আম বিক্রি হয়। এ বছর আম ফলন তেমন খারাপ হয়নি। কিন্তু বাজার মুল্য পতনের কারণে তিনি চলতি বছর আম বাগানে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা। সরই ইউনিয়নের আমচাষী ইউছুপ জানান, চলতি বছরে আমের ভালো ফলন হয়েছে, এটা বলা না গেলেও, যা হয়েছে তাও বিক্রি হচ্ছে না। এই ধরনের তথ্য জানালেন লামা-আলীকদমের আরো অনেক আমচাষীরা।

আমচাষীরা জানান, গেলবার ১ কেজি আ¤্রপালি বিক্রি হয়েছিল- ৬০ টাকা, রাঙ্গুই বিক্রি হয়েছিল-৪০ টাকা। এবার বিক্রি হচ্ছে আ¤্রপালি-৩৫ টাকা কেজি আর রাঙ্গুই-১০ থেকে ২০ টাকা। দর পতনের পরেও নার্সারী মালিকরা জানান, বিভিন্ন প্রজাতির আম চারা বা গ্রাপ্টিং বিক্রি হচ্ছে প্রচুর পরিমান। এর মধ্যে আ¤্রপালি ও রাঙ্গুই, এই দু’টির চারা বেশি কিনছেন স্থানীয়রা।

চলতি বছর আমের মুল্য হ্নাশের কারন হিসেবে জানাযায়, আমের ব্যাপক চাহিদা থাকা শহরগুলেতে প্রশাসনের ফরমালিমুক্ত অভিযানের ফলে আমের মজুদ রাখতে পারছেননা আরদদারগন। কারণ কাচা আম প্রক্রিয়াজাত করতে হলে ফরমালিন জাতীয় কেমিক্যাল ব্যবহার না করলে তাতে পঁচন ধরে। চলতি বছর প্রশাসনের নিবিড় মনিটরিং ও বেশ কিছু ফরমালিনযুক্ত আম ধ্বংস করায় মজুদকারীরা সতর্ক হয়ে মজুদ বন্ধ করেন। এর প্রভাব পড়ে আমচাষ প্রভন এলাকাগুলোতে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া এক তথ্যে জানাযায়, লামায় আম চাষ উপযোগি জমির পরিমান ২০৮০ হেক্টর। এর মধ্যে চাষ হয় ১৫৫০ হেক্টর জায়গা জুড়ে। হেক্টর প্রতি গড়ে ফলন ১.২০ মে:টন, চলতি বছর মোট উৎপাদন ১৮৬০ মে:টন। তবে স্থানীয়রা দাবী করছেন সরকারি হিসেবের দ্বিগুণ আম উৎপাদন হয়েছে লামা উপজেলায়।

জানাগেছে, ছোট-খাট কিছু আমচাষীর চেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হন এই ব্যবসায় আগাম বিনিয়োগকারী ফরিয়ারা। অনেক ফরিয়া ব্যবসায়িরা আমের মুকুল ফোটার সাথে সাথে বাগান কিনে নিজেদেরমতো করে পরিচর্চা করেন। বিদেশসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিষমুক্ত ফল হিসেবে পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন ফলের কদর রয়েছে রসালো ফলের স্বাধ নেয়া লোকদের মাঝে। এর ফলে পাহাড়ে উৎপাদিত ফল কিনতে বা এর উপর আগাম অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী হয় ব্যবসায়িরা।
লামা-আলীকদমে আম- পেয়ারা, পেপে, বেল, কমলা, জলপাই, আমড়া, আামলকি, কলা, আনারস, জাম, লিচু, লেবু, কামরাঙ্গা, কাঠালসহ ৪২ জাতের রসালো ফলের ব্যাপক ফলন হয়। এর মধ্যে সরকারি প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগে অনেক ফলের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা লাভবান হতে পারছেন না। সামপ্রতিক সময়ে পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মাঝে এইসব ফল চাষে আগ্রহ বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত করে সঠিক সময়ে ন্যয্য মুল্যে বাজারজাত করতে না পারায় উৎপাদনকারী কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই বাস্তবতায় লামা-আলীকদমে উৎপাদিত এসব ফলের রক্ষণাবেক্ষন-প্রক্রিয়াজাত করণে একটি হীমারগার স্থাপন অপরিহার্য্য। একই সাথে ফলের জোস কারখানা করা হলে সারা বছর পর্যাপ্ত কাচামাল (কোন না কোন ফল) পাওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে এই অঞ্চলে।
উপজেলার কৃষি সংশিলষ্টারা জানান, উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য এই এলাকায় একটি হীমাগার প্রতিষ্ঠা কিংবা এতদসংশ্লিষ্ট শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হলে, অর্থনৈতির নতুন দ্বার উম্মোচিতহতো প্রান্তিক কৃষকদের। একই সাথে পরিবেশ বিধ্বংসি তামাক চাষ বন্ধ হয়ে এখানকার পাহাড় প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র রক্ষা পাবে।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password