‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত কামুর পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: জুন ৩, ২০১৮)

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান
গাজীপুরে ৩১ মে বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল নিহত ওই ব্যক্তি টঙ্গী এরশাদ নগর এলাকার ২২ মামলার আসামি কামরুল ইসলাম কামু (৩২)।

পরে খবর নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে কামরুল ইসলাম কামু টঙ্গীর একটি ডাবল মামলার আসামি হিসেবে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছে।

কামুর আইনজীবী মোঃ শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার আসামির জামিন না হওয়ায় দুই বছর ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে কামরুল ইসলাম কামুর স্ত্রী কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন।

কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরে শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় নিহত ব্যক্তির নাম কামাল খান ওরফে কামু। নিহত ব্যক্তির ঠিকানা আরিচপুরে খবর নিলে কামু নামে কোনো ব্যক্তির সন্ধান দিতে পারেনি স্থানীয়রা।

গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক ডেরিক স্টিফেন কুইয়া জানান, নিহত কামুর পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র তার কাছে রয়েছে। সেখানে কামাল খান কামু, পিতা মৃত সিরাজ খান ও ঠিকানা টঙ্গীর আরিচপুর লেখা আছে। সে কালীগঞ্জের উলুখোলা নগরভেলা এলাকায় বসবাস করে। তার নামে মাদকসহ তিনটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ কালীগঞ্জের উলুখোলা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় দিকে অভিযান চালায়। পুলিশ উলুখোলা মসজিদের পাশের রাস্তা থেকে মাদক বিক্রির সময় কামুকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে চার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ও একটি এলিয়ন প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। তাকে নিয়ে কালীগঞ্জ থানায় যাওয়ার পথে তার সহযোগীরা মহানগরের ভাদুন এলাকায় পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে। এ সময় কামরুল গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস জানান, নিহতের বুকের বাম পাশে তিনটি গুলি বিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। তিনটি গুলিই পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ নিহত কামুর লাশ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password