বাংলাদেশ, বুধবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং, ১১ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ আর নেই, জানাযা ও দাফন বুধবার

আকাশ ইকবাল মিরসরাই থেকে
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গণের বরেণ্য ও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ ইন্তেকাল করেছেন।
রোববার ৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১২টার সময় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মিঠানালা গ্রামের নিজবাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দুই ছেলে আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সূত্রে জানা যায়, তার দুই ছেলেই প্রবাসী। এক ছেলে কানাডা ও অন্য ছেলে আমেরিকায় থাকেন। প্রবাস থেকে আসতে সময় লাগাতে আগামী বুধবার তার জানাযা ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে।
মোস্তফা মেহমুদ স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু চলচ্চিত্রে পরিচালক ও সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেন।
১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মোস্তফা মেহমুদ পরিচালিত এফডিসি থেকে মুক্তি পায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ছায়াছবি ‘মানুষের মন’। এতে অভিনয় করেন নায়করাজ রাজ্জাক, ববিতা ও আনোয়ার হোসেন।
এ ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নতুনভাবে জেগে ষাট, সত্তর ও আশির দশকে তার মোট পরিচালিত ১৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি মুক্তি পায়।
উল্লেখ্য যে, ১৯৬৬ সালে জহির রায়হানের আগ্রহে ‘বেহুলা’ ছায়াছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সর্বশেষ ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে “স্বামীর সোহাগ” ছবির পর তিনি চলচ্চিত্র জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। চলচ্চিত্রকে বিদায় জানিয়ে তিনি চলে আসেন নিজ জন্মস্থান মিরসরাইয়ের মিঠানালায়। ওই ছবিতে অভিয়ন করেন কবরী ও বুলবুল আহমেদ।
১৯৩৬ সালের ১৬ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন বরেণ্য এ পরিচালক। ২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি মারা যান সহধর্মিণী ফিরোজা মেহমুদ। সেই থেকে বাড়িতে একাই থাকেন এই পরিচালক।
১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জহির রায়হানের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। ১৯৫৭ সালে ‘মৃদঙ্গ’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করতেন তিনি। লেখালেখির সূত্র ধরে ১৯৬৬ সালে জহির রায়হানের আগ্রহে ‘বেহুলা’ ছায়াছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন মোস্তফা মেহমুদ।
১৯৬৮ সালে মিতা ফিল্মসের ব্যানারে মোস্তফা মেহমুদের পরিচালিত প্রথম ছবি ‘মোমের আলো’ মুক্তি পায়। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে পাকিস্তা আমলে ছয়টি এবং স্বাধীনতার পর নয়টি ছবি পরিচালনা করেন।
তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে মায়ার সংসার, অবাক পৃথিবী, জয় পরাজয়, মধুমিতা, মাটির মানুষ ও মণিহার।

আরো খবর

Leave a Reply