জানুয়ারি ২৩, ২০২২ ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ

লেখক-গবেষক জামাল উদ্দিন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফের নামে রাজাকার পুত্রের মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এশিয়াটিক সোসাইটির গবেষক, লেখক, প্রকাশক এবং ৩৯টি গবেষণা গ্রন্থের প্রণেতা সাংবাদিক জামাল উদ্দিনের লেখা “দেয়াং পরগনার ইতিহাস” এবং “আনোয়ারা একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ” গ্রন্থ দুটিতে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রাজাকার মুন্সি মিয়ার নাম উল্লেখ থাকায় রাজাকার মুন্সি মিয়ার পুত্র আমিন শরীফ কর্তৃক লেখক জামাল উদ্দিন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করার প্রতিবাদ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি আজ ৯ ডিসেম্বর বিকাল ৪ ঘটিকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সম্মুখ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। “চট্টগ্রাম সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ” এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুর চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান। সংগঠক সিঞ্চন ভৌমিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গবেষক-সাংবাদিক শামসুল হক, গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, ন্যাপ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিটুল দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ জাসদ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি ভানু রঞ্জন চক্রবর্ত্তী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, গণমুক্তি ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিয়া, জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, শিক্ষক নেতা অঞ্চল চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক আ.ফ.ম মোদাচ্ছের আলী, বিজয়’৭১ সভাপতি সজল চৌধুরী, বাসদ মার্কসবাদী চট্টগ্রাম জেলা সদস্য সচিব এড. শফিউদ্দিন কবির আবিদ, গণঅধিকার চর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কাজী রাজেশ ইমরান, আনোয়ারা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা পত্রিকার সম্পাদক এম. আলী হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরজিৎ দাশ সুনু, আনোয়ারা প্রেসক্লাব সভাপতি সরোজ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, দৈনিক একুশে সংবাদের সহযোগী সম্পাদক এম.এ. সবুর, শিক্ষক প্রণব রঞ্জন চক্রবর্ত্তী, সাংবাদিক রোকন উদ্দিন আহমদ, সাংবাদিক এম. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ, আনোয়ারা সাহিত্য পরিষদের সাবেক সভাপতি রফিক আহমদ খান, সংগঠক সজল দাশ, কর্ণফুলী উপজেলা পূজা পরিষদ সভাপতি রামচন্দ্র দাশ, চট্টগ্রাম নৃত্যশিল্প সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজেশ চক্রবর্ত্তী, সাংবাদিক ফৌজুল আজাদ চৌধুরী প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎযাপন করছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎযাপনের মত সুবর্ণ সময়ে রণাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার কারণে রাজাকার পুত্রের মামলা দায়ের অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, সাংবাদিক, গবেষকদের দায়িত্ব। জামাল উদ্দিন চট্টগ্রামে একজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শ লেখক ও গবেষক হিসেবে স্বনামধন্য। লেখক জামাল উদ্দিন তাঁর লেখা বইয়ে রাজাকারের নাম প্রকাশ করে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফ বই দুইটিতে তথ্য দিয়ে কোন অপরাধ করেননি। এই দু’জন দেশ প্রেমিক নাগরিকের পরিচয় দিয়েছেন। আমরা চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ, মুক্তিযোদ্ধা, কবি, লেখক, সাংবাদিক, গবেষক, পেশাজীবীদের পক্ষে লেখক জামাল উদ্দিন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফের নামে রাজাকার পুত্রের মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মামলা প্রত্যাহারের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাই।

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply