অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সে-ই ৪ দলীয় জোটের ৩ দলই নেই বিএনপির সঙ্গে

 বিশেষ প্রতিনিধি
   দুই যুগ আগে নির্বাচনি জোট করেছিল বিএনপি। সেই জোটে যোগ দেয় জাতীয় পার্টি, জামায়াত, ইসলামি ঐক্যজোট এবং খেলাফত মজলিস। এর মধ্যে শুরুতেই জাপা ও খেলাফত মজলিস জোট ছাড়লেও একটি অংশ একই নাম নিয়ে রয়ে যায়। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের অভুতপূর্ব বিজয় হয়। সরকার পরিচিতি পায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার হিসেবে। কিন্তু সময়ের আবর্তে বহুল আলোচিত সেই চারদলীয় জোট আর নেই। বিএনপির সঙ্গেও সখ্য নেই কোনো দলের। তবে জোটে নানা বিতর্ক নিয়েও ঠিকে আছে কেবল জামায়াত। যদিও খোদ বিএনপির হাই কমান্ডের বেশিরভাগ নেতা আর জামায়াতের সঙ্গ মানতে নারাজ। তবুও নানা সমীকরণে ঠিকে আছে কেবল এ দু-দলের সম্পর্ক।
 ১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জামায়াতের তৎকালীন আমির  গোলাম আযম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন  চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয়  জোট গঠনের  ঘোষণা  দেন বিএনপি  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে  জোটত্যাগ করেন এরশাদ। ওই সময় জাপার মহাসচিব নাজিউর রহমান মঞ্জুর  নেতৃত্বে একটি অংশ  থেকে যায়  জোটে। এই  জোটের মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। ক্ষমতায় এসে  কেবল জামায়াতকে নিয়ে সরকার গঠন করে তারা। সূত্রের দাবি, এই অবস্থা বিএনপির জন্য কখনও স্বস্তিদায়ক ছিল না। যার  রেশ এখনও  টেনে চলেছে বিএনপি। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল চারদলীয়  জোটের বর্ধিত ‘১৮ দলীয়  জোটে’র  ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। ওই  জোটে প্রতিষ্ঠাকালীন শরিক জামায়াত, খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকটি দল অংশ  নেয়।
সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর বিএনপি জোটের সঙ্গে ২২ বছর ৯ মাসের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে খেলাফত মজলিস। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ছোট ছোট দলগুলো সরকারের দমন-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তারা ময়দানে নিষ্ক্রিয় হচ্ছে। বিরোধী নেতারা গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের শর্ত দেওয়া হচ্ছে যে, বিএনপি জোট ছাড়লে তারা মুক্তি পাবে। মূলত এই কারণে অর্থাৎ সরকারি দমন-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের কয়েকটি দল জোট ছেড়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকুল হলে এইসব দলও আবার বিএনপিতে ফিরে আসবে। অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, জোট ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় দল হিসেবে বিএনপির প্রধান দায়-দায়িত্ব ছিল। কিন্তু নেতৃত্ব সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। বিশেষ করে গেল নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নিষ্ক্রিয়। এর ফলে বিএনপির রাজনৈতিক সঙ্গীরা ভাবছে, শুধু শুধু বিএনপির সঙ্গে থেকে কী লাভ। এর চেয়ে একলা চলো নীতিতে থাকলে নিরাপদ থাকাই ভালো। তাই জোট ভাঙা কিংবা দলগুলো বিএনপিকে ছেড়ে যাচ্ছে-এতে বড় প্রভাব না থাকলেও একটি রাজনৈতিক প্রভাব আছে। বিএনপি নেতৃত্ব যদি জোটের মূল্যায়ন করতে না পারে, তাহলে তারা বৃহৎ ঐক্য কীভাবে করবে ?
অন্যদিকে আরেকটি সূত্রের দাবি, জামায়াতকে নিয়ে খালেদা জিয়ার  জোট গঠনের বিষয়টি  কোনও আলোচনার বা স্টাডির মধ্যে হয়নি। দেশি-বিদেশি পরাশক্তিগুলোর মত নিয়েও স্টাডি করা হয়নি। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জামায়াতকে জোটে টানেন খালেদা জিয়া। যদিও কাজী জাফরও শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জোটে থাকেননি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, ২০১৮ সালের ৮  ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই স্থায়ী কমিটির বৈঠক এজেন্ডাভিত্তিক হয়। ২০১৯ সালের শুরুতে এসে জামায়াত ইস্যুটি কমিটির বৈঠকের এজেন্ডাভুক্ত হয়;  সেই আলোচনা এখনও অব্যাহত আছে। এই বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে বাকি অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে অধিকাংশই জামায়াত ত্যাগের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল বলেন, জামায়াত ইস্যুটিকে রাজনৈতিকভাবে  মোকাবিলা করতে নির্মোহভাবে এগুচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এক্ষেত্রে দলের অভ্যন্তরের মতামত গ্রহণের পাশাপাশি বিদেশি কয়েকজন বিশেষজ্ঞকেও কাজে লাগানো হয়েছে। এক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত চেষ্টা জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক পৃথকের। নির্ভরযোগ্য একজন দায়িত্বশীলের ভাষ্য, সর্বশেষ গত কয়েক বছর ধরে জামায়াতের সংগঠন গোছানোর অবাধ ঘরোয়া কার্যক্রম, সাঈদী মুক্তি ইস্যু ও জামায়াত নিষিদ্ধের আইনটি স্থগিত রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জামায়াতের কার্যক্রম বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সন্দেহের নজরে পড়ে। একইসঙ্গে ভোটের যে হিসাব দেওয়া হয়- সে হিসাবও এখন পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply