অক্টোবর ২১, ২০২১ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

বিএনপিতে তারেকের ফর্মূলায় আন্দোলনের প্রস্তুতি

পূবা ডেক্স

 

 

 

 

হঠাৎ তরুণদের মাঠে নামাবে বিএনপি। যোগ দেবে জামাত শিবির ও জঙ্গিবাদও।আওয়ামী লীগের হাইব্রীডেরা নিরব হয়ে যাবে।ভেতরে ভেতরে খুনী মোস্তাক অনুসারীদের কায়দায় ক্ষতি করবে আওয়ামী লীগকে। তখনই তারেক জিয়া আচমকা ঝুঁকি নিয়ে দেশে আসবে।

আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী হাইব্রীডের সাথে বিএনপি জামাত এখনোই গোপনে গোপনে কোথাও কোথাও প্রকাশ্য ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছে । প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের  বিশেষ কৌশলে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে দূর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারাই। গোটা দেশে তারেকের ছকেই হাইব্রীডদের সাথে মিলে মিশে এই ফর্মূলা কায়েম করছে একটি লুঠচক্র। ওই লুঠচক্র বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই বিএনপি হয়ে যাবে। এতে সুবিধাবাদী অপরাজনীতিবীদ, আমলা, সকল সময় ক্ষমতার আশে পাশে থাকতে চাই এমন একটি গ্রুপ ভেতরে ভেতরে কাজ করছে। বিদেশ থেকে এক দল দেশত্যাগী মিডিয়া কর্মী, বরখাস্তকৃত সামরিক বেসামরিক লোকজন এসব দুষ্ঠু  বুদ্ধি নিয়ে কাজ করছে বলে বিভিন্ন সুত্রে তথ্য মিলছে। সেফুদা, কর্ণেল শহীদ সাংবাদিক ড. কনক সরোয়ার গংরা এই ফর্মূলায় জড়িত বলে জানা গেছে।

২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জামালপুরের এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ঈদের পর আন্দোলন করবে বিএনপি ! সেই দলটি প্রায় আট বছর পার হতে চললেও ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। স্বয়ং নিজেই নির্বাচনের আগে হঠাৎ দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি হন। তখনো বিএনপি নেত্রীর মুক্তির জন্য কিছুই করতে পারেনি। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই ড. কামাল হোসেনকে নেতা মেনে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেন এবং দিন শেষে নির্বাচনেও যান।

সমপ্রতি দলের মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠকের পর দলের অতীত বিষয় সামনে আসে। খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক পলিসি গ্রহণ করতে দাবি তোলা হয়। খালেদা জিয়া যে আন্দোলনের কথা বলে গেছেন সেই আন্দোলনের সময় আগামী নির্বাচনের আগে। আন্দোলন করে জিতেই নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। আন্দোলনে হেরে গেলে নির্বাচনেও জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। আগামী ৮  অক্টোম্বর পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বিএনপি। এরপর তাদের পরামর্শ নিয়ে একটা গতি পথ ঠিক করবে দলটি। সার সংক্ষেপ যাবে তারেকের কাছে। এসব নীতি নির্ধারনী সভায় ডাঃ জাফরুল্লাহ ও আবদুল্লাহ আল নোমান গং রা বাদ রয়েছে বলে একটি সুত্র দাবী করছে।

গত দুটি বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক সদস্য গুলশান থেকে বেরিয়ে জানান, অতীতের ন্যায় সরকার আবারো বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে। আর এ জন্য সরকার বিএনপির পক্ষ থেকে টার্গেট করছে। ঘরের শত্রু দিয়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা চালাবে। এটি সতর্কতার সাথে মোকাবিলা করতে হবে। দলীয় লোকদের ওপর বিশ্বাসের সঙ্গে সতর্কতার নজরও রাখতে হবে। দলের প্রতি আনুগত্য ও ভয় যার থাকবে তাদের বিষয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে। সিনিয়রদের থেকে তরুণদের নেতৃত্ব দিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নির্বাচনের আগেই তরুণ টিম তৈরি করতে হবে। মাঠে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। মৃত্যু ও রাজনীতি থেকে অব্যাহতির কারণে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু পদ খালি আছে। এগুলোকে পূরণ করতে হবে। নেতৃত্বের মাধ্যমে মাঠে চমক দেখাতে হবে। খালি পদগুলো দ্রুত পূরণ করতে হবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অনেকে মনে করছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে দলের জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। সরকারের বাকি সময়ে রাজনৈতিক নানা কর্মসূচিতে দলের ব্যস্ততা বাড়তে থাকবে। কয়েক মাস পর আন্দোলনও গতি পাবে। এমন বাস্তবতায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজন স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির শূন্যপদ পূরণের পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে মোকাবিলার জন্য রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়। মাঠে টিকে থাকার শক্তি যাতে থাকে তা আগ থেকেই ভাবতে হবে। এ ছাড়া মাঠের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। বিএনপিকে রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করতে হবে। আন্দোলনের সঙ্গে পরিবেশের লড়াই করতে হবে। ভারত, চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর গুডলিস্টে থাকতে হবে। এজন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটিকে আরও অগ্রসর হতে হবে।

তবে নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপিকে রাজনৈতিক দূরদর্শী ও সতর্ক থাকতে হবে। শীর্ষ থেকে তৃণমূল দলের প্রায় সব নেতার নামেই মামলা রয়েছে। মামলা দিয়ে, আটক করে, তুলে নিয়ে গিয়ে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারে আগের মতো। সমপ্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইশতেহার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাচন কমিশন পুনঃগঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বিরোধী পক্ষকে হয়রানির সর্বোচ্চ চেষ্টাও করবে। তাই দলের প্রার্থীকে রাখতে হবে সুরক্ষা। তরুণদের হাতে দিতে হবে নেতৃত্বের চাবি। কেননা ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ কাউন্সিলের পর স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হলেও তখন দুটি পদ খালি ছিলো। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ এবং এমকে আনোয়ারের মৃত্যুতে আরও চারটি পদ শূন্য হয়।

২০১৯ সালের ২২ জুন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সেলিমা রহমানকে নিয়োগ দিয়ে দুটি পদ পূরণ করা হয়। এখনো চারটি পদ শূন্য। মাহবুবুর রহমান পদত্যাগ করলেও দল তার পদত্যাগপত্র এখনো গ্রহণ করেনি। রফিকুল ইসলাম মিয়া শয্যাশায়ী। ভারতে আটকে আছেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এগুলো পূরণ করে তরুণদের চাঙ্গা করতে হবে। চট্টগ্রামের বাঘা বাঘা নেতারা হতাশা ও চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে।

এ প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সিরিজ বৈঠক করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি চাইলে নির্বাহী কমিটির শূন্যপদ পূরণ করতে পারেন। তরুণদের অগ্রাধিকার দিতে পারেন।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শীর্ষ নেতা চাইলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। গঠনতন্ত্র তাকে সে ক্ষমতা দিয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, তারেক রহমানকে যারা প্রকাশ্যে আসতে দিচ্ছে না তাদের বলি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে পথচলা শুরু হয়েছে সেখান থেকে তাকে সরানোর ক্ষমতায় সরকারের নেই। বাংলাদেশের জনগণের অবস্থা হচ্ছে এমন যে, কিল দিলেও মরে এবং কিল খাইলেও মরে। পেঁয়াজের দাম বাড়বে, আমার মা-বোন ধর্ষিত হবে, শিশু বাচ্চা মায়ের কোল থেকে বাসে পিষ্ট হবে, ট্রেন অ্যাক্সিডেন্ট হবে, গ্যাস বিস্ফোরণে মানুষ মারা যাবে, গুম-খুন হবে, কোনো কথা বলা যাবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বৈঠকগুলো থেকে আমাদের উৎসাহের খোরাক তৈরি হয়েছে। সবার মধ্যে একটা প্রাণ তৈরি হয়েছে। এ প্রাণের মধ্যেই বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে। সঙ্গে আমরা এও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পৃথিবীতে কোনো স্বৈরশাসক বা একনায়ক সরকার টিকে থাকতে পারেনি। জনতার উত্তাল রোষের মধ্যে তাদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। তখন আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply