সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ

হালিশহর ৩৮ ওয়ার্ড ধুমপাড়া সাগর পাড়ে মাদক সিন্ডেকেটের হোতা কে এই শাহাবুদ্দিন ?

  শাহীন আহমেদ ও শেখ মোঃ শফি 
  চট্টগ্রাম নগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড ধুমপাড়া সাগর পাড় থেকে লাইলি বিট আনন্দ বাজার এলাকা জুড়ে মাদক, দেহ ব্যবসা ও জুয়া খেলার এলাকা হিসেবে পরিণত হয়েছে। ফলে এখানে শান্তি শৃংখলার দিন দিন অবনতি হচ্ছে বিষিয়ে উঠছে স্বাভাবিক পরিবেশ।
 জানা গেছে,  ধুমপাড়া সাগর পাড় শাহাবুদ্দিন কলোনিতে চলছে অবাধে রমরমা দেহ ব্যবসা,  জুয়ার আসর ও তার আশেপাশে বস্তিগুলোতে জমে উঠেছে বিশাল আকারে মাদক সিন্ডিকেট।শাহাবুদ্দিনের কলোনিতে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করেন সালমা নামের একজন মহিলা , আর অন্যদিকে জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করেন শাহাবুদ্দিনের ভাগিনা এবং তার বাড়ির ইনচার্জ। শাহাবুদ্দিনের দেহ ব্যবসা মাদক সাম্রাজ্যের সহযোগী পার্টনার হিসেবে কাজ করছেন পুরো এলাকাজুড়ে আর একটি সিন্ডিকেট। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সোলতান,  শাহজাহান , দিদার, ইমতিয়াজ, ফারুক ও আরো অনেকেই। দস্তুরমতো সাহাবুদ্দিন যুবলীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সন্তান পরিচয়ে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। সে ভিজিটিং কার্ড চাপিয়ে সবাইকে নিজের মোবাইল নাম্বারও দেয়। তার কারণে ক্ষমতাসীন দলের বদনাম।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেকদিন ধরে চলছে শাহাবুদ্দিনের কলোনির এই দেহ ব্যবসা। এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করে বলেন, সারাদিন তার বাড়ির ভেতরে চলে দেহ ব্যবসা ও জুয়ার আসর আর প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকেই মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের আনাগোনায় এই জায়গা অস্থির হয়ে ওঠে। ডরে ভয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদও করে না, করে না কোন লিখিত অভিযোগও।
   আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে,  এখানে  রাতভর চলে মাদক বেচাকেনা ও মাদক সেবন। এতে করে নিঃস্ব হচ্ছে এলাকার খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সন্ধ্যার পরে পাল্টে যায় এই এলাকার চিত্র।। একপাশে দেহব্যবসা আর অন্যপাশে মাদকের বেচাকেনা এতে করে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
 আতঙ্কিত ও ভীত এলাকাবাসী আরো জানান, তার সাথে হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ির রয়েছে গভীর সম্পর্ক এবং মাঝে মধ্যে পুলিশ এসে খোশ আড্ডায় মগ্ন থাকতে দেখা যায়। আর অনেকটাই পুলিশ প্রশাসনের   সামনে চলে জুয়া খেলা ও মাদকের পাইকারি বেচাকেনা। দ্রুত যুবসমাজকে এ ভয়ঙ্কর নেশার হাত থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকার সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে শাহাবুদ্দিনের মুঠোফোনে জানতে চাইলে, তিনি আমাদের পরিচয় জানতে পেয়ে, তার ভাগিনাকে ফোন ধরিয়ে দেন। এবং তার ভাগিনা আমাদের সাথে মুখোমুখি কথা বলতে প্রস্তাব দেন এবং কিছু   সম্মানি দেওয়ার কথা বলেন।এ বিষয়ে কথা হয় বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক ওসি নিজাম সাহেবের সাথে, তিনি বলেন, আমি এই লোকেশন টা খুজে পাচ্ছি না । আমরা ইতিমধ্যে অনেক অভিযান চালাইয়েছি  যদি লোকেশন মোতাবেক পৌঁছাতে পারি তবে আমরা অ্যাকশন অবশ্যই নিব।
এ বিষয়ে কথা হয় ডিবি বন্দর, এসি শরীফ সাহেবের সাথে। তিনি বলেন আমাদের ইনফরমেশন দিলে আমরা অবশ্যই অভিযান চালাবো । আপনি আমাদের সাথে কথা বলেছেন, আমরা এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিব এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই।
এ বিষয়ে কথা হয় ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, যত বড় নেতা হোক, আপনারা কাউকে ছাড় দিবেন না, সত্য যা তা অবশ্যই লিখবেন।
আমিও কয়েক দিন ধরে শুনতে পাচ্ছি। আপনি রশি দিয়ে বেঁধে আমাকে ফোন করলেন না কেন । আমি সব কয়টাকে পুলিশের কাছে দিতে চাই।
তিনি আরো বলেন, আমার এলাকায় আপনারা এসে কোন ধরনের কিছু সম্মুখীন হলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন। আমার সহযোগিতা অবশ্যই আপনারা পাবেন। আমি কোন মাদক সিন্ডিকেটের পক্ষে না, আপনি এ বিষয়ে ভালো করে লিখবেন । কার নাম কি সেটা দেখার দরকার নাই, আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যান।
শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply