বাংলাদেশ, বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পার্শ্বেল ছিলনা, ছিল লাশ হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা বের করলো টিম সিআইডি

রানা সাত্তার,চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামর পাহাড়তলি থানাধীন বিজয় কুমার বিশ্বাস হত্যার মুল হোতা আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আর মামলা নং-১৪,১৫/১০/২০২০,ধারা-৩০২/২০১/৩৪। গত ১০ দিন আগে হত্যা হওয়া ২০অক্টোবর ২০২০ইং তারিখে মামলার তদন্তে নেমে লোমহর্ষক তথ্য পায় পুলিশ।যত গভীরে যায় তত রহস্য আরো চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন হয়।
সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ’র নেতৃত্বে ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ শরীফ,তদন্তকারী অফিসার মিজানুর রহমান,এস আই জাহাঙ্গীর গত শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় তদন্ত ও বিশেষ কৌশলে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসরণ করে শুক্রবার বিকেলে আবদুর রহমান(৪০) কে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতার আসামী হলো আবদুর রহমান(৪০),পিতা-আব্দুল গফুর, সাং-গো-গোলাবাড়ীয়া,৯নং ওয়ার্ড,থানা-মকসুদ পুর,জেলা:গোপালগঞ্জ।
সিআইডি সূত্র জানায়,আসামী আবদুর রহমান মেসার্স রাইড এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স হাওলাদার বিল্ডার্স এর স্বত্বাধিকারী, অপরদিকে ভিক্টিম বিজয় কুমার বিশ্বাস চাদনী এন্টারপ্রাইজ, ও বিকাশ এজেন্টের দোকান।দুজনেরই ব্যাবসায়ী প্রতিষ্টান একই মার্কেটে হওয়ায় তাদের মধ্য বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।তারই ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকান্ডের ৮/৯ মাস আগে আসামী আবদুর রহমান ভিক্টিম বিজয় কুমার হতে মুনাফার ভিত্তিতে ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা নেন।বিজয় কুমার পাওনা টাকা চাওয়ায় ও আসামী আব্দুর রহিমান মুল টাকা ও মুনাফা দিতে অপরাগতায় লেনদেনের জেরে বিরোধ সৃষ্টি হয়।আসামি আবদুর রহমান ইন্টারনেটের তার বিজয় কুমারের গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরবর্তীতে আসামী আব্দুর রহমান ও তার কর্মচারী নাছির উদ্দিন মিলে চট-ছালা,ও ককশিট পেচিয়ে লাশকে পার্সেলে রুপান্তর করে ট্রাক বা বাসের ছাদে দূরে কোথাও বেনামে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে,কিন্তু তাদের এই প্লানিং ব্যার্থ হয়।পরে তারা ১৫অক্টোবর ২০২০ তারিখে যেকোনো একটি সময়ে পাহাড়তলি থানাধীন আলিফ গলিতে ফেলে চলে যায়।পরে ১৫ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০মিনিটে স্থানীয়া লাশটি দেখতে পায়।
সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ জানান, ‘তদন্তে নেমে আমরা জানতে পারি,পাওনা টাকা না দেয়ার জন্য আসলে এটি একটি ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।এই ব্যাপারে আসামী আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছি।অচিরেই তার সহযোগী কর্মচারীকে ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় মূলহোতা আব্দুর রহমান কে ইপিজেড থানাধীন বন্দর টিলা ইদ্রিস মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।সে বেশ কয়েকদিন ধরে বার বার স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।সে চট্টগ্রামে মাত্র ২ঘন্টার জন্য এসেছিল,এরমধ্য আমরা দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তার সহযোগিতায় থাকা কর্মচারী নাছির উদ্দিন কেও গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply