বাংলাদেশ, শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু আমাদের বাড়ীতে ভাত খেয়েছিলেন এটিই আমাকে রাজনীতিতে অনুপ্রেরণা জোগায়

সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলার “সাক্ষাতকার” পর্বে আমরা আজ  কথা বলছি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সমাজ সেবক ও ব্যবসায়ী এস এম আলমগীর চৌধুরী’র সাথে। আনোয়ারা থানার ৬নং বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ গ্রামে তাঁর  জন্ম ও বেড়ে উঠা। পেশায় একজন রাজনীতিবিদ হলেও তিনি একজন সমাজসেবক ও দক্ষ ব্যবসায়ী। সামাজিক সংগঠনগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে তিনি ভালোবাসেন। আজ আমরা তাঁর সাথে রাজনীতি, সমাজসেবা ও ব্যবসা নিয়ে কথা বলবো।তাঁর সাক্ষাৎকারটি অনলাইন দৈনিক বাংলাপোস্টবিডি.কম এর বৃহত্তর ভিজিটরদের জন্য নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো।
রবিন- আসসালামু আলাইকুম।
এস এম আলমগীর চৌধুরী – ওয়ালাইকুম সালাম।
রবিন – কেমন আছেন আপনি?
এস এম আলমগীর চৌধুরী – আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
 রবিন– শুরুতেই আপনার রাজনীতিতে আসার কারণ কি জানতে চাই?
এস এম আলমগীর চৌধুরী – আমার বাবা ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা সাধারণ সম্পাদক,  (জিপ) মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দীর্ঘদিন তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান ফেরিঘাট দিয়ে যাচ্ছেন। তখন তো ফেরিঘাট ছিলো না। রাস্তাঘাট ও তেমন ছিল না। তখন আমার বাবার শেখ সাহেবের সাথে কথা বললেন। এবং সাহস করে দুপুরে খাবার খাওয়ার অনুরোধ করলেন। তিনি আমাদের বাড়িতে খেয়েছিলেন। এসব শুনে আমি অনুপ্রাণিত হই। আমার বাবার আদর্শে মূলত রাজনীতিতে আসলাম।
রবিন- আপনার একাধিক পরিচয়, রাজনীতির সাথে জড়িত, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী হিসেবেও আপনার অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। কোন পরিচয় দিতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
এস এম আলমগীর চৌধুরী – আমি মূলত একজন রাজনীতিবিদ কিন্তুু সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত আছে রাজনীতিবিদ রাজনীতি বিক্রয় করে চলে।সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করতে আমি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ও করছি। আমার কাছে রাজনীতি মানে সমাজ সেবা।
রবিন- আপনি দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করেছেন। এরপর জেলা পরিষদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এটি কিভাবে হলো?
এস এম আলমগীর চৌধুরী – দেখুন আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য গণমানুষের জননেতা জনাব আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু মহোদয়ের সাথে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। পরর্বতীতে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। ২০০১ সালে আমি ৪-৫ মামলার শিকার হলাম। আর রাজনৈতিক নানা হয়রানি তো ছিলোই। দু:সময়ে দলের পাশে ছিলাম। এটা আমার জন্য বড় ধরনের কাজে লেগেছে। সর্বোপরি মানুষের ভালোবাসা ছিল। যার কারণে কাজটি সহজ হয়েছে।
রবিন- এরপর তো আপনি আরামিট গ্রুপের পরিচালক নির্বাচিত হলেন। এটার ব্যাপারে কি বলবেন?
এস এম আলমগীর চৌধুরী – এখানে সততা, নিষ্ঠা, জনগনের মাঝে আমার গ্রহণযোগ্যতা এবং সর্বোপরি মন্ত্রী মহোদয়ের একান্ত ইচ্ছার কারণে এ পদে আসা।
রবিন– জেলা পরিষদের কাজের পরিধি নিয়ে জানতে চাই।
এস এম আলমগীর চৌধুরী – দেখুন স্থানীয় সরকারের উঁচু স্তর জেলা পরিষদ। আমাদের কাজ করার জায়গা লিমিটেশন থাকার শর্তেও আমাদের যে বরাদ্দ তার মধ্যে আমরা ১০% শিক্ষাখাতে, ৩০-৪০% যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করেছি। বাকি গুলো অন্যান্য খাতে আমরা ব্যয় করি। সীমিত বরাদ্দে আমার কাজের অগ্রগতি কিন্তু অনেক জায়গায় দেখতে পাবেন। কাজের বিষয়ে সাধারণ জনগণের কাছে তার উৎকৃষ্ট জবাব পাবেন বলে আশা করি।
রবিন- আপনার একালার দ: তৈলারদ্বীপ এত অবহেলিত কেন?
এস এম আলমগীর চৌধুরী -তৈলারদ্বীপ এলাকার বিভিন্ন বিশিষ্টজনের গ্রাম। এখান থেকে হয়েছে এমপি,উপজেলা চেয়ারম্যান, মাননীয় সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি এবং তার আগে বিশিষ্ট সরকার পরিবার। এখানে জন্ম নিয়েছেন সাবেক রাস্ট্রদূত মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সার মিয়াসহ অনেকে ও এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার তারপরও উন্নয়নের আশা অনুরূপ কাজ না হওয়া দু:খজনক। আশা করি এটা কেটে যাবে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ। আমি মাননীয় ভুমি মন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ মহোদয়ের সহযোগিতায় ও জেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করতে সক্ষম হয়েছি, যেমন, রাস্তার উন্নয়ন, স্কুল, মসজিদ, কবর স্থানের উন্নয়ন, বেরি বাঁধ নির্মাণ ও সেনা বিবি পুকুর পাড় থেকে বদি আলমের দোকান পর্যন্ত কাঁচা রাস্তার উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছে। আশা করি কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।  বাকী যে অবশিষ্ট্  কাজ গুলো রয়েছে তা আমি মাননীয় ভুমি মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে বাস্তবায়ন করতে  সর্ব প্রকার চেষ্টা চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
রবিন- স্বানীয় সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তর ইউনিয়ন পরিষদ। এ ব্যাপারে তাদের ভূমিকার ঘাটতি আছে বলে করেন কি?
এস এম আলমগীর চৌধুরী – নির্বাচিত হয়ে আসার পর তাদের উচিত যে কমিটমেন্ট জনগনকে দিয়েছিলো তার বাস্তবায়ন করা। জনগণের যে সকল সমস্যা সমাধান বা চাহিদা না মেটানো মানে তাদের অবহেলা করা। এটা কাম্য নয়। এ ব্যাপারে তাদের আন্তরিকতা জরুরি।
রবিন– আপনার এলাকার জনগণ কোনো সমস্যা নিয়ে আপনার শরণাপন্ন হলে আপনি কীভাবে সমাধান করেন?
এস এম আলমগীর চৌধুরী -এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, আমি প্রত্যেকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনি। উদ্ভূত সমস্যা নিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ডের জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য লোকদের সাথে আলোচনা করি এবং সমাধানের একটা পথ বের করি। কেউ আমার কাছ থেকে হতাশ বা বিফল হয়ে ফিরে যায় না।
 রবিন-আপনার এলাকার আইন-শৃংখলা কোনো বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তা কীভাবে মোকাবেলা করেন আপনি?
এস এম আলমগীর চৌধুরী -এমন প্রশ্নে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এস এম আলমগীর চৌধুরী বলেন, অত্র এলাকায় আইন-শৃংখলা উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা জনগণের নিরাপত্তা দিতে সমর্থ হয়েছি। ৬নং বারখাইন ইউনিয়নে আইন-শৃংখলা নিয়ে জনগণের কোনো উদ্বেগ নেই। জনগণ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে -এটি আজ বড় সত্য। তিনি বলেন- আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক ও সমাজকর্মী সবার সহযোগিতা নিয়ে আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।
রবিন -পরিশেষে আপনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘ আয়ু কামনা করি।
এস এম আলমগীর চৌধুরী – আপনার ও সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘ আয়ু কামনা করি।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply