বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ৯ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মহেন্দ্রনগরে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণে অভিযোগ

লালমনিরহাট: সুবিধা ভোগীদের কাছ থেকে কাঠ, রড, বাঁশ ও বালু নিয়ে দুর্যোগ সহনীয় বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটেরর মহেন্দ্রনগরের এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। তালিকায় নাম লিখাতেও গুনতে হয়েছে হাজার হাজার টাকা। পাশাপাশি শ্রমিকদের খাওয়া খরচ দিতে হয়েছে  সুবিধাভোগীদের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ১০ শতাংশের নিচে জমি এমন পরিবার থেকে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করা। এ তালিকায় নাম লেখাতে প্রতিজনের কাছ থেকে ১৫-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।টাকার বিনিময়ে এমন অনেক পরিবারের নাম তালিকায় উঠানো হয়েছে,যারা স্ব চ্ছল।জানা যাচ্ছে, সুবিধাভোগীদের জন্য সামনে বারান্দাসহ দুই রুমের একটি ঘর,বারান্দা, রান্নাঘর, টয়লেট নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় বাড়ি প্রতি দুই লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা। এ প্রকল্পের তালিকা প্রণয়নে আত্মীকরণ ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমানের  বিরুদ্ধে। এ তালিকায় চেয়ারম্যান তার চাচা আনোয়ার হোসেন এবং চাচি আফরোজা বেওয়ার নাম তালিকাভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মহেন্দ্রনগর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমানের চাচা ধনঞ্জয় গ্রামের সুবিধাভোগী আনোয়ার বলেন, তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়ারম্যাকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। অন্যদের কাছে আরো বেশি টাকা নিয়েছেন। ঘর নির্মাণ শুরু হলে কাজের বালু, রড, ছাউনির কাঠ, বাঁশ নিজেদদেরই সরবরাহ করতে হয়েছে। এ ছাড়াও শ্রমিকদের দুই বেলা খাওয়াতে হয়েছে। প্রকল্পের কাছ থেকে শুধু ইট, টিন, সিমেন্ট ও শ্রমিক মজুরি সরবরাহ করা হয়েছে। এসব না দিলে কাজ বন্ধ রাখা হয়।

সুবিধাভোগী আনোয়ার হোসেন বসুনিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, কাজ শুরু করেই বালু, রড, কাঠ দাবি করেন। না দিলে কাজ বন্ধ রাখেন চেয়ারম্যান। বাধ্য হয়ে দুই এনজিও থেকে ৬৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এসব সরবরাহ করেছি। নামে মাত্র সরকারি বাড়ি, বাস্তবে এসব বাড়ি পেতে প্রায় লাখ টাকা দিতে হচ্ছে।

সুবিধাভোগী আফরোজা বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়,তার ছেলে বেসরকারি একটি ফার্মের প্রকৌশলী হলেও টাকা নিয়ে তার নাম দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান,এমনি জানান আফরোজা বেওয়া।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের ইট দিয়ে করা হচ্ছে ঘর। বারান্দা ও করিডোরে ইটের পিলার দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে জিআই তার দিয়ে তৈরি করা বাজারের নিম্নমানের পিলার। দরজা জানালায় ব্যবজার হচ্ছে নিন্মমানের কাঠ।

তবে,এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মহেন্দ্রনগর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, টাকার বিনিময়ে বা আত্মীকরণে নয়, মানবতার পরিচয় দিতে নামগুলো দেওয়া হয়েছে। কাজের অনিয়ম মনে হলে ইউএনওকে অভিযোগ করেন। যা করার তিনিই করবেন

জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, প্রথম পর্যায়ে ২৭৫টি ঘর নির্মাণের বরাদ্দ এসেছে। যার কাজ এখনো চলছে। পরে আরো নতুন ৩৩০টি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ এসেছে। তবে সুবিধাভোগীদের কাছে কোনো কিছু সরবরাহ নেওয়া অন্যায়। ঘর নির্মাণে সব খরচ সরকার বহন করছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো খবর

Leave a Reply