বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আদিতমারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  কোটি টাকার কাজের অনিয়মে সাফাই গাইছে ঠিকাদারের

ফারুক আলম, লালমনিরহাট থেকে

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলায় কিসামত চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ভবন  ৮৮ লক্ষ টাকায় নির্মাণাধীন আছে। ওই ভবন নির্মাণে অনিয়ম ঢাকতে ছাদের ঢালাইয়ে নিচের দিক দিয়ে প্লাস্টার করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে দীর্ঘদিন থেকেই।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও স্থানীয় সুত্র জানান, উপজেলার কিসামত চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য একাডেমিক ভবনের সঙ্কট দেখা দেয়। এ সঙ্কট পূরণে চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চার তলার ভিত্তির ওপর দ্বিতল ভবনের পাঁচটি শ্রেণি কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। এ জন্য দরপত্র আহ্বান করলে ৮৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্ধ হয়,সেখানে ৮৩ লাখ ৭২ হাজার ৬১৭ টাকা চুক্তিতে কাজটি পান উৎস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।এর পরে কাজটি কমিশনে ক্রয় করে শাহ জামাল নামে একজন ঠিকাদার কাজটি প্রায় শেষ করছেন।

নির্মাণ কাজের প্রথম থেকেই অতি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজটি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে কর্ণপাত করেনি আদিতমারী এলজিইডি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সু-বিশাল ভবন নির্মাণ হচ্ছে,কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুম বা টয়লেট নেই সেই ভবনে। প্রতিবন্ধীদের ওঠার জন্য  সিঁড়িও নেই। ছাদে পাঁচ ইঞ্চির ঢালাই দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে কোথাও তিন-চার ইঞ্চির ঢালাই দিয়েছেন ঠিকাদার।ভিম ডিঙি নৌকার মত বাঁকা।নদীর ঢেউয়ের মত ছিল ছাঁদ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রকৌশলী ছাড়াই দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই দুপুর থেকে রাত অব্দি করা হয়েছে। যার কারণে দ্বিতীয় তলার শেষ কক্ষে ছাদে ফিনিশিং ভালো না হওয়ায় ছাদ হয়েছে ঢেউ খেলানো তিন ইঞ্চির। ফলে ঢেউয়ের এ ফাঁকা স্থান তথা পাঁচ ইঞ্চি পূরণে দেওয়া হয়েছে জিআই তারের নেটসহ দুই ইঞ্চির প্লাস্টার।যেটার পলেস্তরা মাত্র কিছুদিনের মাঝেই খুলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ঠিকাদারের রাজমিস্ত্রী সাইফুল ইসলাম ছাদ ঢালাই মেপে বলেন, কোথাও চার ইঞ্চি, কোথাও বা একটু কম। তবে, ভবনের ছাদে যতটুকু কম ধরা পরছে তা প্লাস্টার করে সমান করে দেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির  একজন সদস্য আব্দুল জলিল বলেন, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলা হলেও তারা আমাদের কথায় কোন প্রকার গুরুত্ব দেননি।উল্টো ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে গোজামিল কথা বলে আসছেন। ছাদের পাঁচ ইঞ্চির জায়গায় তিন ইঞ্চির ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে বাকি দুই ইঞ্চি পূরণে নেট নিয়ে প্লাস্টার করছেন ঠিকাদার। গত তিনদিন ধরে তাড়াহুড়ো করে করা হচ্ছে এ প্লাস্টার।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি দেখতে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ভবন নির্মাণ কাজের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা উপ সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আব্দুর রাজ্জাক  বলেন, ঢালাইয়ের দিন ঢাকা থেকে অডিট টিম আসায় এ ভবনে সার্বক্ষনিক থাকতে পারিনি। তবে ছাদ ঢালাই কম-বেশি হতে পারে। নেট দিয়ে প্লাস্টার করে পূরণ করা হলে সমস্যা হবে না। সামান্য ত্রুটি হয়েছে তবে বালিশ দুর্নীতির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।এসব দুর্নীতি তেমন কোন বিষয় না।

উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, অনেক কাজ চলমান থাকায় সব কাজ তদারকি করা সম্ভব হয় না। এ ভবনে একটু সমস্যা হয়েছে। তবে মূল ঠিকাদার কাজে না আসায় সাব-ঠিকাদার শাহজামাল কথা শুনতে চান না। প্লাস্টার করলেও সমস্যা হবেনা।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply