বাংলাদেশ, বুধবার, ১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

মৃত্যুর চার বছর পর দাফন হচ্ছে হোসনে আরার

মৃত্যুর চার বছর পরেও দাফন হয়নি হোসনে আরা নামের এক নারীর। আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে মর্গে ছিল হোসনে আরা লাইজু ওরফে নিপা রানীর মরদেহ। দাফন হিন্দু ধর্মানুসারে হবে নাকে ইসলাম ধর্মানুসারে হবে এই বিষয়টি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে আইনের লড়াই চলছিল।

দীর্ঘ চার বছর পর হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, হোসনে আরার ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন হবে। শুধু তাই নয় হাইকোর্টের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার তিনদিনের মধ্যেই দাফন করতে বলা হয়েছে। সোমবার রায় দেয়া বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষরের পর এই ১৫ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ করা হয়।

হাইকোর্ট নীলফামারীর জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছেন। দাফন কাজ ম্যাজিস্ট্রেট ও  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি দাফনের আগে হোসনে আরা লাইজুর ওরফে নিপা রানীর লাশ তাঁর বাবার পরিবারকে দেখার সুযোগ করে দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন। আদালতে  হোসনে আরা ওরফে নিপা রানীর বাবার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সমীর মজুমদার অন্যদিকে শ্বশুরের পক্ষের ছিলেন আইনজীবী এ কে এম বদরুদ্দোজা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, আইনি দ্বন্দ্বে চার বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের মর্গে আছে হোসনে আরা লাইজুর (নিপা রানী) মরদেহ। এতদিনেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০১৪ সালের ১০ মার্চ থেকে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে আছে। ভালোবেসে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করার কারণে মরদেহ নিয়ে এমন আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে ছেলে ও মেয়ের পরিবার। মামলাটি বিচারিক আদালত ঘুরে হাইকোর্টে আসে।

জানা যায়, রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে নিপা রানী রায়। পাঁচ বছর আগে নিপা একই উপজেলার পূর্ব বোড়াগাড়ী গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন ফরিদ লাইজুর সঙ্গে ভালোবেসে পালিয়ে যান। পরে ২০১৩ সালের শেষ দিকে নিপা রানী রায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে নাম বদলিয়ে মোছা. হোসনে আরা লাইজু নাম রাখেন। তিনি নীলফামারী নোটারি পাবলিক ক্লাবের মাধ্যমে অ্যাফিডেভিটে দুই লাখ এক হাজার ৫০১ টাকা দেনমোহরের বিনিময়ে প্রেমিক হুমায়ুন ফরিদকে বিয়ে করেন।

মেয়ের বাবা অক্ষয় কুমার রায় ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর বাদী হয়ে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে অবশ্য আদালত সার্বিক সবকিছু বিবেচনা করে অপহরণ মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি হুমায়ূন ফরিদ ওরফে লাইজু বিষ পানের মাধ্যমে আত্মহত্যা করেন। এরপর মেয়ের বাবা আত্মহত্যার বিষয়টি উপস্থাপন করে মেয়েকে নিজ জিম্মায় নিতে আবেদন করেন।

এরপর বাবার আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করলে ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি মেয়েকে নিজ জিম্মায় রাখেন। একই বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালের ১০ মার্চ কীটনাশক পান করে মারা যান নিপা রানী। ডোমার থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করে মরদেহ ময়নাতদন্ত করে।

এরপর হোসনে আরা লাইজুকে পুত্রবধূ দাবি করে শ্বশুর জহুরুল ইসলাম ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী দাফন এবং অন্যদিকে বাবা অক্ষয় কুমার রায় হিন্দু শাস্ত্রমতে সৎকারের জন্য আবেদন করেন। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মরদেহটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরেই সংরক্ষিত ছিল।24 Live Newspaper থেকে

আরো খবর

Leave a Reply