জহিরুল ইসলাম
কতবার আমরা নিজেদের মনে প্রশ্নটি তুলেছি—’কেন এটা হচ্ছে?’ অথচ মুখ খুলতে পারিনি। কতবার স্কুলের ক্লাসে হাত তুলতে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়েছি, কারণ ‘শিক্ষক যা বলেছেন তাই সত্য’—এই কথাটি আগে থেকেই শেখানো হয়েছে। কতবার পরিবারের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ জাগলেও তা গিলে ফেলেছি, কারণ ‘বড়দের কথা মানতে হয়’। কতবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য সম্পর্কে সন্দেহ হয়েও তা শেয়ার করে দিয়েছি, কারণ সেটি আমার পূর্বধারণার সঙ্গে মিলে যায়। এই ছোট ছোট ঘটনা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এগুলো ধীরে ধীরে এমন এক মানসিকতা তৈরি করে, যেখানে প্রশ্ন করাকে কখনো সাহস, আবার কখনো অবাধ্যতা বা অশ্রদ্ধা হিসেবে দেখা হয়। অথচ মানবসভ্যতার ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যে সমাজ প্রশ্ন করতে শেখে, তারাই অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়; যে সমাজ প্রশ্নকে ভয় পায়, তার অন্ধকার দীর্ঘস্থায়ী হয়।

মুক্তবুদ্ধি শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে হয়, এটি হয়তো বুদ্ধিজীবী মহলের কোনো জটিল দার্শনিক ধারণা। কিন্তু বাস্তবে মুক্তবুদ্ধি মানে প্রচলিত সবকিছুকে অস্বীকার করা নয়; বরং কোনো ধারণা, বিশ্বাস, মতবাদ বা কর্তৃত্বকে কেবল ‘এটাই চিরাচরিত’ বলে মেনে না নিয়ে যুক্তি, প্রমাণ ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিচার করার বৌদ্ধিক স্বাধীনতা। এর চেয়েও গভীর সত্য হলো—মুক্তবুদ্ধি শুধু অন্যের মতকে প্রশ্ন করার নাম নয়; নিজের বিশ্বাসকেও প্রশ্ন করার সাহসই এর সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। যিনি নিজের ধারণাকে প্রমাণ ও যুক্তির মুখে বদলাতে পারেন, তিনিই সত্যিকার অর্থে মুক্তবুদ্ধির অধিকারী। শুধু প্রশ্ন করাই মুক্তবুদ্ধি নয়; প্রশ্নের পর সত্য অনুসন্ধানের পদ্ধতি জানাও তার অংশ। মুক্তচিন্তা হলো স্বাধীনভাবে ভাবার অধিকার; আর মুক্তবুদ্ধি হলো সেই চিন্তাকে যুক্তি, প্রমাণ, আত্মসমালোচনা ও মানবিক বিবেচনার মধ্য দিয়ে পরিচালনা করার অনুশীলন। এটি এমন একটি জীবনদর্শন, যা ব্যক্তিকে নিজের চিন্তার দায়ভার নিতে শেখায় এবং সমাজকে গড়ে তোলে সহনশীল, বিজ্ঞানমনস্ক ও গণতান্ত্রিক। প্রশ্ন হলো, মুক্তবুদ্ধি ছাড়া কি সত্যিকার অর্থে একটি মুক্ত, মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে উঠতে পারে?

মানবসভ্যতার অগ্রগতির বহু বড় মোড় এসেছে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করার মধ্য দিয়ে। সক্রেটিস প্রশ্ন ও সংলাপের মাধ্যমে প্রচলিত ধারণাকে পরীক্ষা করতেন; তাঁর অনুসন্ধান দেখিয়েছিল, কোনো ধারণা শুধু প্রচলিত বলেই সত্য হয়ে যায় না। গ্যালিলিও দূরবীক্ষণযন্ত্রের সাহায্যে আকাশ পর্যবেক্ষণ করে এমন প্রমাণ উপস্থাপন করেন, যা প্রচলিত পৃথিবীকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল এবং কোপার্নিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক মডেলকে সমর্থনকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ জুগিয়েছিল। বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষা ও নারীর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা তখন সমাজের কাছে অকল্পনীয় ছিল। এই প্রশ্নগুলো তাঁদের সময়ের প্রচলিত ধারণাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল; অনেকের চোখে সেগুলো ছিল বিদ্রোহেরই সমার্থক। অথচ সময়ের ব্যবধানে সেই প্রশ্নগুলোই আজ আমাদের চিন্তার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠেছে। এ থেকেই বোঝা যায়, মুক্তবুদ্ধি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বিবেকের ডাক; যা মানুষকে গোঁড়ামির সীমা অতিক্রম করে জ্ঞান ও অনুসন্ধানের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় মুক্তবুদ্ধির চর্চা কতটুকু সম্ভব? আমাদের সমাজে এখনও কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের উপস্থিতি লক্ষণীয়। রোগব্যাধি থেকে শুরু করে নানা পারিবারিক সমস্যার সমাধানেও অনেকে অযৌক্তিক আচার-অনুষ্ঠানের আশ্রয় নেন; অথচ সমস্যাগুলোর কারণ ও সমাধান অনুসন্ধানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বদলে অনেক সময় প্রচলিত বিশ্বাসই প্রাধান্য পায়। গুজব ও অপতথ্যের জাল আমাদের চারপাশে বিস্তৃত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া খবর ঘণ্টার মধ্যে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, জনমনে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি করে। একটি ছবি বা ভিডিও ‘ভাইরাল’ করার আগে অনেকেই প্রশ্ন করে না—এটা কি সত্য? প্রমাণ কোথায়? কে এই তথ্যের উৎস? এই জায়গাতেই আমাদের দুর্বলতা: আমরা তথ্য যাচাই না করে আবেগে বাহিত হই। অন্যদিকে, সমাজের কিছু স্তরে ভিন্নমতকে সহ্য না করার প্রবণতা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। কেউ যদি প্রচলিত কোনো মতবাদের বিপরীতে বা কোনো সামাজিক নিয়মের যৌক্তিক সমালোচনা করে, তাহলে তাকে ‘খারাপ মানুষ’, ‘ভ্রান্ত’ কিংবা ‘বিশৃঙ্খলাকারী’ হিসেবে লেবেল করে দেওয়া হয়। সমাজের কিছু স্তরে এখনও প্রশ্ন করাকে অবাধ্যতা এবং সন্দেহ প্রকাশকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। এই সংস্কৃতি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও প্রোথিত। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে মুখস্থনির্ভরতার প্রবণতা দেখা যায়—যেখানে শিক্ষার্থীকে প্রশ্নের চেয়ে নির্ধারিত উত্তর মনে রাখার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিজ্ঞানমনস্কতার ঘাটতি শুধু শিক্ষার স্তরের বিষয় নয়; শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও আবেগ, পূর্বধারণা ও সামাজিক বিশ্বাস কখনো কখনো যুক্তিবোধকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে পরীক্ষাযোগ্য কোনো প্রাকৃতিক বা বাস্তব দাবিকে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের বদলে শুধু প্রচলিত বিশ্বাস বা কর্তৃত্বের ভিত্তিতে গ্রহণ করা মুক্তবুদ্ধির পরিপন্থী। এই বাস্তবতা একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগের কারণ; কারণ সামাজিক চাপ ও অসহিষ্ণুতা যেখানে স্বাভাবিক হয়ে যায়, সেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা যেমন সংকুচিত হয়, তেমনি সমাজের যৌথ বুদ্ধিমত্তাও স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

মুক্তবুদ্ধি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য বুঝতে হবে। মুক্তবুদ্ধি মানে যা খুশি তাই বলা নয়; এটি অন্যের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিশ্বাস, জাতিগত পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত জীবনকে অপমান বা বিদ্বেষের লক্ষ্য বানানোর অবাধ অনুমতিও নয়। ‘আমি আপনার মতের সঙ্গে একমত নই’—এই অবস্থান এবং ‘আপনার মত প্রকাশের অধিকারই নেই’—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একটি স্বাস্থ্যকর সমাজে যুক্তি, তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে মতের বিচার করতে হয়, কিন্তু সেই সঙ্গে বিদ্বেষ ছড়ানো, ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার বা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নটি মনে রাখতে হয়। প্রকৃত মুক্তবুদ্ধি মানুষকে শেখায়—কীভাবে নিজের মতামতকে যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা যায়, আবার প্রমাণের ভিত্তিতে নিজের ভুল স্বীকার করে তা সংশোধন করার সাহসও রাখতে হয়। এখানেই অসহিষ্ণুতা থেকে মুক্তবুদ্ধি ভিন্ন হয়ে যায়: অসহিষ্ণুতা সবসময় ‘আমি সঠিক, তুমি ভুল’—এই অবস্থানে আবদ্ধ থাকে, অন্যদিকে মুক্তবুদ্ধি স্বীকার করে যে, প্রমাণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিজের মত বদলানোই বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান যেমন নতুন প্রমাণের মুখে নিজেকে সংশোধন ও পরিমার্জন করে, তেমনি একজন মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষও নিজের ভুল স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করেন না—এটাই তার শক্তি।

এই মুক্তবুদ্ধি চর্চার সবচেয়ে কার্যকর ক্ষেত্র হলো শিক্ষাব্যবস্থা। আমাদের শিক্ষার্থীদের শুধু উত্তর আত্মস্থ করাতে হবে না; বরং তাদের প্রশ্ন করতে, তথ্য যাচাই করতে, প্রমাণ খুঁজতে, যুক্তি বিশ্লেষণ করতে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে নিজের মত পরিবর্তন করার সাহস তৈরি করতে শেখাতে হবে। পরীক্ষার খাতায় শুধু সঠিক উত্তর লেখার চেয়েও বড় অর্জন হলো, চিন্তার মধ্যে দ্বন্দ্ব বা সন্দেহকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা এবং সেই সন্দেহের সমাধান খোঁজার প্রক্রিয়া জানা। একটি শিশু যদি স্কুলে প্রশ্ন করতে ভয় না পায়, যদি সে জানে তার যেকোনো সন্দেহকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তাহলে তার মধ্যে যুক্তিনির্ভর চিন্তার অভ্যাস গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়—যে মন কুসংস্কার, গুজব ও অসহিষ্ণুতাকে সহজে গ্রহণ না করে প্রশ্ন করতে শিখবে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ ঘটানো মানে আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করা, যেখানে মুখস্থ উত্তর নয়, প্রমাণ ও যুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানই হবে শেখার প্রধান ভিত্তি।

এখন প্রশ্ন হলো, মুক্তবুদ্ধি চর্চা আন্দোলন বলতে আমরা কী বুঝব? ‘আন্দোলন’ শব্দটি শুনলে আমরা রাজপথের মিছিল বা স্লোগানের কথা ভাবি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক উদ্যোগ—যা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাঠাগার, সংবাদমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠন, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারেও প্রতিফলিত হতে পারে। এর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো: প্রশ্ন করার সাহস, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস, যুক্তিনির্ভর বিতর্কের সংস্কৃতি, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং নিজের ভুল স্বীকার ও মত সংশোধনের সাহস। পাঠচক্র ও বিতর্কসভার মাধ্যমে ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি বা বিজ্ঞান—যেকোনো বিষয়কে যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করা শেখা যায়। বিজ্ঞান ও দর্শনবিষয়ক উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা যেতে পারে। তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে—কোনো খবর শেয়ার করার আগে সেটি বিশ্বস্ত ও প্রামাণ্য সূত্র থেকে এসেছে কি না, তা যাচাই করা। বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নভিত্তিক শিক্ষা চালু করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল উত্তর দেবে না, তারা প্রশ্নও তৈরি করবে। সহনশীলতা মানে ভিন্নমতের সঙ্গে একমত হওয়া নয়, বরং ভিন্নমতকে মেনে নিয়ে সেটিকে যুক্তির মঞ্চে তুলে আনার সাহস রাখা।

গণতন্ত্র ও মুক্তবুদ্ধির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। গণতন্ত্রকে অনেকে ভোটাধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখেন। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রাণ হলো—প্রশ্ন করার সংস্কৃতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমত শোনার আগ্রহ এবং ক্ষমতাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার মানসিকতা। গণতন্ত্রে নাগরিক শুধু নিজের মত বলার অধিকারই ভোগ করেন না; অন্যের মত শোনার দায়িত্বও বহন করেন। একটি সমাজে যদি মুক্তবুদ্ধি চর্চা দুর্বল হয়, তবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিও দুর্বল হয়; কারণ মতপ্রকাশের ভয় বা ক্ষমতার কাছে মাথা নত করার অভ্যাস ধীরে ধীরে সমাজে কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার বিস্তার ঘটাতে পারে। যেখানে প্রশ্নের জায়গা সংকুচিত হয়, সেখানে সৃজনশীলতা, জবাবদিহি ও নাগরিক স্বাধীনতাও সংকুচিত হয়। তাই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য মুক্তবুদ্ধির চর্চা যেমন আবশ্যক, তেমনি সমাজের প্রতিটি স্তরে এই চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তবুদ্ধি কোনো দল, গোষ্ঠী বা মতাদর্শের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়; এটি নাগরিক স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার একটি মৌলিক সাংস্কৃতিক ভিত্তি। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গেও গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত মুক্তবুদ্ধির প্রশ্নটি অন্য কারও দিকে নয়, আমাদের নিজেদের দিকেই ফিরে আসে। যে সমাজ প্রশ্ন করতে শেখে, সে সমাজ নিজের ভুল সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে; যে সমাজ প্রশ্নকে ভয় পায়, তার অন্ধকার দীর্ঘস্থায়ী হয়। মুক্তবুদ্ধির চর্চা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানবিক ও যুক্তিনির্ভর সমাজ নির্মাণের পূর্বশর্ত। বাংলাদেশে আজ কুসংস্কার, গুজব, অসহিষ্ণুতা ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতাসহ অনেক সংকট রয়েছে। কিন্তু এই সংকট অতিক্রমের পথ আমাদের হাতেই। প্রতিটি পরিবারে, শ্রেণিকক্ষে, অফিসে, সামাজিক পরিসরে—যদি আমরা প্রশ্ন করার অধিকারকে সম্মান করি, যুক্তির ভিত্তিতে মত বিনিময় করি, ভিন্নমতকে অপমান নয় বরং শেখার সুযোগ হিসেবে দেখি, তবে আমাদের সমাজ একদিন সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক হবে। মুক্তবুদ্ধির আন্দোলন তাই প্রথমে অন্যকে বদলানোর নয়; এটি নিজেকে প্রশ্ন করার আন্দোলন। নিজের বিশ্বাস যাচাই করা, ভুল হলে তা স্বীকার করা এবং ভিন্নমত থেকে শেখার সাহস—এই ছোট ছোট অনুশীলনই একদিন মানবিক, যুক্তিনির্ভর ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে পারে। কারণ মুক্তবুদ্ধি শুধু প্রশ্ন করার স্বাধীনতা নয়; সত্যের সন্ধানে নিজের অহংকেও প্রশ্ন করার সাহস।

শেয়ার করুনঃ