মোহাম্মদ আবু ওমর

স্বাধীনতা মানুষের আজম্ম অধিকার। এটি অর্জনের জন্য অনেক সময় বড় ধরনের ত্যাগ এমনকি জীবন পর্যন্ত বিকিয়ে দিতে হয় তবুও মানুষ নিরন্তর সংগ্রাম করে চলে। এর জন্য জীবন দান বা রক্ত বিসর্জন শহীদি মকাম পায়,কারণ দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। মানবজাতির প্রারম্ভিক স্টেজ থেকে বঞ্চনা বা বাকস্বাধীনতার জন্য যুগের পর যুগ কিংবা শতকের পর শতক এ দাবিতে অনড় থেকে আন্দোলন করেছে। হয়তো একসময় শাসক শ্রেণি দিতে বাধ্য হয়েছে। বাকস্বাধীনতা মানে আপনার কথা বা দাবিনামা পেশ করা এমনভাবে উচিত যাতে অন্যের ধর্ম, সমাজনীতি, দর্শন,দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতি আঘাত, কটুক্তি করে এমনকিছু এড়িয়ে চলা।যেমন বাংলাদেশের সমাজ নীতি হলো বহুবিবাহ খারাপ দৃষ্টিতে দেখা যেকেউ একাজ করতে পারে কিন্তু আইন দিয়ে বৈধতা দাবি করা যাবে না। আবার মুসলিম পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন অনেক দিন ধরে প্রচলিত কিন্তু কোনো গোষ্ঠী এটার বিরোধিতা করে আইন করে নারী পুরুষ সমান অধিকার চাইলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।কারণ ধর্মীয় বিধান পাল্টানোর দু:সাহস করা সুচিন্তিত মতামত হবে না। আপনি বলতে পারেন বাংলাদেশ ইসলাম শাসিত রাষ্ট্র না,ঠিক আছে তবে বহুকালের চর্চিত ইসলামি সংস্কৃতি বিধান পাল্টানো রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক হতে পারে। গোঁড়ামির বশে এ দাবি বাকস্বাধীনতা মধ্যে পড়ে না।আবার দেশের ইতিহাস , স্বাধীনতা বাকস্বাধীনতার নামে খাটো করে বক্তব্য বিবৃতি দেওয়া চলে না কারণ এগুলো মানুষের আবেগ অনুভূতির বিষয়। যেমন আপনি হঠাৎ করে দাবি করলেন জাতীয় সংগীত ভিন্ন করতে তাও জনতার মধ্যে বিরূপ ধারণা জন্ম নিবে এমনকি ভালো যুক্তি থাকা সত্ত্বেও। আপনি বলতে পারেন জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের নজির পৃথিবীতে অনেক আছে, আছে তবে তা হবে জাতীয় স্টেকহোল্ডারদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে।পরিশেষে বলতে পারি বাকস্বাধীনতার অবশ্যই সীমারেখা আছে তা ক্রস করা যাবে না, আর দাবি বক্তব্য বিবৃতি বিনয়ের সাথে পেশ করতে হবে। বাকস্বাধীনতার নামে কোনো ধর্মবিশ্বাস,সমাজনীতি, রাষ্ট্র স্তম্ভ, স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব কে খাটো করা যাবে না। পারস্পরিক সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই বিবেক বিবেচনা করে বাকস্বাধীনতা প্রয়োগ করলে রাষ্ট্রের মধ্যে আরও শান্তি শৃঙ্খলা বিরাজ করবে বলে প্রত্যাশা করি।
লেখক : মো: আবু ওমর, শিক্ষক,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ