পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অস্ত্র, তলোয়ার, কিরিচ ও বাঁশ দিয়ে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আবদুল্লাহ আল নোমান।
আজ রোববার ১৬ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ি মোড় এলাকায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।চট্টগ্রাম-১০ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নোমান বলেন, ‘খুব অসহায় বোধ করছিলাম। মনে করেছিলাম আজকে হয়তো নাও বাঁচতে পারি। নেতাকর্মীদের অদম্য সাহসিকতা আর আল্লাহর রহমতে আজ বেঁচে গেছি।’সংবাদ সম্মেলনে মহানগর বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বিকেল সাড়ে তিনটায় নগরীর পাহাড়তলীর নয়াবাজার এলাকায় বিজয় র্যালির উদ্বোধন করছিলেন তিনি। এসময় অতর্কিত হামলার শিকার হন আবদুল্লাহ আল নোমান ও তার নেতাকর্মীরা।
হামলার প্রসঙ্গ টেনে নোমান বলেন, ‘কোনো নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে নয়, বিজয় র্যালি উদ্বোধন হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সাবধানতার জন্য চারদিন আগে উপ-পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে রাখি। প্রথমে মনে করেছিলাম ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেবে। কিন্তু ক্রমশ তারা আমার দিকে এগিয়ে আসছিল। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আধা ঘণ্টারও বেশী সময় তাণ্ডব চালায়।’
দীর্ঘ ৫০ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘এর আগেও রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন পরিস্থিতি দেখে আসছি। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা হলেও কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে যেতো। কখনো জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর হামলা হতো না। কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে আজ প্রথম এমন পরিস্থিতিতে পড়লাম। এক যুবক আমার সামনে পকেট থেকে গুলি বের করছিল। নিজেকে খুব অসহায় বোধ করছিলাম, ভীত হয়ে গিয়েছিলাম। মনে করছিলাম আজকে হয়তো নাও বাঁচতে পারি। পরে নেতাকর্মীরা কোনোমতে আমাকে সরু গলির মধ্যে দিয়ে একটি বাসায় নিয়ে যায়। আমার অবস্থা দেখে এক ভদ্র মহিলা বাসার গেইটের তালা খুলে বাসায় নিয়ে যায়।’
নির্বাচনী পরিবেশ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার কথায় দলের হাইকমান্ড হয়তো ভিন্নমত কিংবা একমত নাও হতে পারে। আমিও নিজেও পুরোপুরি জানি না এ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কেনো আমরা নির্বাচনে আসলাম। যেখানে প্রতিনিয়ত মিছিল, র্যালির ওপর হামলা, বাঁধা ও নেতা-কর্মীদের মামলা দিচ্ছে।’
ওই বাসায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী জিম্মি অবস্থায় থেকে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কারও সহায়তা পাননি জানিয়ে আব্দুল্লাহ নোমান বলেন, ‘চারদিক থেকে ঘেরাও করে হামলায় পাহাড়তলী থানার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ আট নেতাকর্মীর গুরুতর আহত এবং পাঁচজনকে পুলিশ আটক করেছে।’
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতিতে ৩০ ডিসেম্বরের পরিস্থিতি কি হতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে নোমান বলেন, ‘আমরা জনগণের ওপর বিশ্বাস করি। কেউ বাধা দিলে তারা মানবে না। আমরাও মাঠে থাকব। আর নির্বাচনের দু-একদিন আগেও এমন পরিস্থিতি হলে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করবে।’



