দলীয় কাউন্সিলর ঘোষণা করলেন আওয়ামীলীগ
মো.কামরুজ্জামান
লামা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ লামা উপজেলা। মেয়র পদে একক প্রার্থী হিসেবে মো: জহিরুল ইসলামকে ঘোষনা করা হয়। ৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশায় অর্ধশত ফরম সংগ্রহ করেন তৃণ পর্যায়ে নেতারা। এর মধ্যে গঠিত পৌর নির্বাচন প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ড যাছাই-বাছাই করে ১৩ ডিসেম্বর সমাবেশ করে ৯ কাউন্সিলরসহ, সংরক্ষিত ১,২ ও ৩ নং আসন উম্মোক্ত রেখে ১১ জনের নাম দলীয় সমর্থন দিয়ে ঘোষণা করা হয়।
এর মধ্যে ১ নং ওয়ার্ডে স্বপন কুমার দে, ২ নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ হোসেন বাদশা, ৩ নংওয়ার্ডে মো: শাখাওয়াত হোসেন, ৪ নং ওয়ার্ডে মো: রফিক, ৫ নং ওয়ার্ডে মো: আলী আহমেদ, ৬ নং ওয়ার্ডে মমতাজুল ইসলাম, ৭ নং ওয়ার্ডে মো: কামাল উদ্দিন, ৮ নং ওয়ার্ডে মো: আলা উদ্দিন ও নং ওয়ার্ডে উশাথোয়াই মার্মা। সংরক্ষিত ৩,৪,৫ মরিয়ম বেগম, ৭,৮,৯ জাহানারা বেগম, ১,২,৩ উম্মোক্ত রাখা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বান্দরবান জেলায় দলীয় প্রতিদ্বন্ধিতা ছাড়াই এককভাবে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র মো: জহিরুল ইসলামকে সুপারিশ করে কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়। দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্ধিতা না থাকায় দলের হাই কমান্ড নৌকা প্রতীকে মো: জহিরুল ইসলাম বর্তমান মেয়রকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মর্মে দলীয় সূত্রে জানাগেছে।
সময় যতই গড়াচ্ছে ততই নির্বাচনী গালগপ্পে সরব হচ্ছে এলাকার হাঠ-বাজার। মেয়র পদে বিএনপি থেকে তিনজন দলীয় মনোনয়ন প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে। এর মধ্যে ২০১১ সালে উপজেলা বিএনপি সভাপতি আমির হোসেন দলীয় সমর্থনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো: জহিরুল ইসলামকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে তিনি বিশাল ব্যবধানে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো: জহিরুল ইসলামের নিকট হেরে যায়।
স্ব-স্ব দলের মতানৈক্যের কারণে বিগত দু’ নির্বাচনে বড় দু’টি দলের প্রাথীর সমহারে বিপর্যয় হয়। ২০১৫ সালের পর সরকার দলীয়দের রাজনৈতিক ঐক্যের শিকড় মজবুত হয়েছে অনেকগুন। অপরদিকে বিএনপি বড় একটি রাজনৈতিক দল হলেও নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল প্রকাশ্য রুপ ধারণ করে আছে। এছাড়াও জেলা বিএনপির নেতা মাম্যাচিং ও সাচিংপ্রæ জেরী সমর্থিত গ্রæপের দীর্ঘ বিরোধের কালোমেঘের ছায়া বিস্তার করে আছে অনেক আগে থকে।
এলাকায় পোষ্টার ব্যানারে দেখা যায়, বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন চেয়েছেন সাবেক মেয়র বিএনপি সভাপতি আমির হোসেন। জেরী সমর্থিত হয়ে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। একইভাবে মাম্যাচিং সমর্থিত লামা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহিনও ধানের শীষ প্রতীক আনতে ঢাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া জেরী সমর্থিত আরেকজন লামা পৌর যুবদলের সভাপতি সুলতান আকবর মোমিনও একই প্রত্যাশা নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আছেন।
লামা উপজেলায় এক সময় বিএনপি’র ঘাটি ছিল। জেলায় অভ্যান্তরীণ দলীয় কোন্দলের প্রভাব লামা উপজেলায়ও বিস্তার করেছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকা অবস্থা থেকে দলটি সাংগঠনিকভাবে গণতন্ত্র চর্চা না করার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন সাধারণ বিএনপি সমর্থকদেরকে। এই বিশাল দলটি লামা উপজেলার ক্ষেত্রে কতটা অগনতান্ত্রিক ও পরিবার কেন্দ্রিক, ধানের শীষ প্রতীকের আকাঙ্খা লালিত এ তিন প্রার্থী তার উজ্জল দৃষ্টান্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি সমর্থক বলেন, লামা বিএনপি অনেক আগ থেকে পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এর উদাহারণ টেনে তিনি বলেন, মেয়র পদে যে তিনজন ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ার আশা নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন, তারা তিনজনই সম্পর্কে পরস্পর নিকট আত্মীয়।

শেয়ার করুনঃ