ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৯ জনের মৃত্যু

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৮)

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ও পরে মোট ১৩ দিনে দেশের বিভিন্ন সড়কে ২৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯৬০ জন। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি। সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘গত ১৬ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৩ দিনে সারা দেশে ২৩৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৯৬০ জন। হতাহতের মধ্যে ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৪ জন চিকিৎসক, ২ জন প্রকৌশলী, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন শিক্ষক, ২০ জন শিক্ষার্থী, ৪২ জন চালক-হেলপার, ৫৯ জন নারী, ৩৪ জন শিশু ও ৮ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদযাত্রায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নানামুখী তৎপরতা ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার কারণে বিগত ঈদুল ফিতরের তুলনায় দুর্ঘটনা ১৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, প্রাণহানি ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং আহত ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে। তবে গত ঈদুল আজহার তুলনায় দুর্ঘটনা ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ ও আহত ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংঘটিত দুর্ঘটনার যানবাহন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ বাস, ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬ দশমিক ৬ শতাংশ নছিমন-করিমন, ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক, ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ অটোরিকশা, ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কার-মাইক্রো ও ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ পথচারীকে গাড়িচাপা দেওয়া, ১৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ১ দশমিক ১০ শতাংশ চলন্ত গাড়ি থেকে পড়ে, ১ দশমিক ২৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ও ৫ দশমিক ২ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে ঘটেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন; বিরতি বা বিশ্রামহীন যানবাহন চালানো; অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালক-হেলপার দিয়ে; মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল; বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো; সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাত না থাকা ও সড়কের বেহাল দশা এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সেইফ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এলায়েন্সের আহ্বায়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সংগঠন ফুয়ারার সভাপতি ইকরাম আহমেদ, বিআরটিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউট বুয়েটের সাবেক পরিচালক ড. মাহবুব আলম তালুকদারসহ অনেকে।বাংলা ট্রিবিউন

 

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password