হালিশহরে জন্ডিস ও হ্যাপাটাইটিস ই-ভাইরাস মরণ ব্যাথি !

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: জুন ২৬, ২০১৮)

বিশেষ প্রতিবেদন (হোসেন বাবলা)
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আতঙ্কের নাম হচ্ছে টাইফয়েড আর জন্ডিস।যা চট্টগ্রামের হালিশহরে বসবাসকারী মানুষের জন্য এক নতুন প্রাকৃতিক বিপর্যয়।এতে প্রতিনিয়ত ব্যাপক হারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। যা একটি পরিবারের এবং একটি সমাজের জন্য কতোটা দুঃখজনক তা কল্পনার বাইরে।
গত ১৫.০৬.২০১৮ ইং হালিশহরের সাহেদা বেগম মিলি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেট্রেপলিটন হাসপাতালে ভর্তি হন।কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেকে ICU তে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।এরপর চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে তিনি জন্ডিস এ আক্রান্ত এবং বিলোরুবিন এর পরিমাণ ছিলো ৭.৬ (যা খুবই সাধারণমাত্রা) এবং ”হেপাটাইটিস ই” পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং তার লীভার ফ্যাংশন নষ্ট হয়ে যায়ে যাওয়ার পর ভাইরাসটি সরাসরি ব্রেইন আক্রমণ করে এবং যার ফলে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ৩বার ব্রেইন স্ট্রোক এবং ২বার Cardio Arrest হয়।
ফলে ডাক্তারগণ তাকে ৪৮ঘন্টার নিভীরপর্যবেক্ষণ এ রাখে।সেখানে তার শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি না হলে তাকে প্রবর্তক মোড় এর CSTCতে স্থানান্তর করা হয় সেখানে তাকে প্রায় ৬ঘন্টা ICUতে রাখার পর তাকে লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়।এর পর ১৭.০৬.২০১৮ ইংরাত ৯.৩০ এ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে দক্ষিণ হালিশহরের(৩৯নং ওয়ার্ড)বেশ কয়েকটি এলাকায় ,উত্তর পতেঙ্গার(৪০নং ওয়ার্ড),দক্ষিণ পতেঙ্গা(৪১নং ওয়ার্ড)এবং ৩৮নং ওয়ার্ড’র মধ্যম হালিশহরের কয়েকটি মহল্লাতে ই ভাইরাস আক্রান্ত সহ জন্ডিত জনিত রোগে আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আর ২৫ জুন কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও সংবাদ মাধ্যমে সিভিল সার্জন ডাঃ আজিজুর রহমান পানি বাহিত জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩জন মারা যাবার কথা স্বীকার করেছে।তবে সব স্থানে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছেনা বলে তিনি জানান। তবে এলাকাবাসীর মতে ৩জন নহে এই পর্যন্ত হালীশহরের ফল্যাতলী বাজার সহ বিভিন্ন নিচু এলাকাতে ৮/১০জনের মুত্যু হয়েছে বলে এফবি আইডিতে পোষ্ট দিতে দেখা গেছে।
সবার দৃঢ় ধারণা যে,এই মারাত্মক মরণ ব্যাথি টাইফয়েড ,জন্ডিস ও হ্যাপাটাইটিস ই ভাইরাসটি বর্তমানে ওয়াসার পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password