জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা ভুল করতে পারি না-ছালাম

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: জুন ৬, ২০১৮)

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা চিরতরে দূর হবে বলে মন্তব্য করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। বুধবার চাক্তাই খালের মাথায় সুইস গেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চাক্তাই খাল হতে কালুঘাট পর্যন্ত আউটারি রিং রোড প্রকল্পের চাক্তাই খালের মুখে স্লুইস গেই নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি বলেন, চাক্তাই হলো সাগর কন্যা, কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত শতাব্দীর প্রাচীন ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। চাক্তাই খাতুনগঞ্জের এক সময়ের ‘লাইফ লাইন’ খ্যাত ছিল। জলাবদ্ধতামুক্ত হয়ে আবার চাক্তাই খাতুনগঞ্জ দেশের লাইফ লাইনে আসবে। সøুইস গেট নির্মাণ হলে এ এলাকার জলাবদ্ধতা চিরতরে মুক্ত হবে।
তিনি বলেন, দখলের প্রতিযোগিতায় গড়ে উঠেছে আবাসিক ভবন, গার্মেন্ট কারখানা থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বস্তি। অবৈধ দখলদাররা পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করায় অল্প বৃষ্টিতে সমগ্র এলাকার নাকাল অবস্থা। বর্ষাকালে রাস্তাঘাট অলি গলি পানিতে থৈ থৈ করে। খাদ্য গুদাম ডুবে গিয়ে অনেক সময় কোটি কোটি টাকার খাদ্য শস্য নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে এক সময়ের চট্টগ্রামের এ ‘লাইফ লাইন’ পরিণত হয়েছে দুঃখে। এ দুঃখ সারাজীবন থাকতে পারে না। জলাবদ্ধাতার দুঃখতে থেকে মুক্তি দিতে চট্টগ্রামের অভিভাবক ও চট্টল দরদী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর পর মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন যারা কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এক হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা ব্যায়ে আউটার রিং রোডের দ্বিতীয় পর্যায়ের ফোর লেন বিশিষ্ট এই রোডের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার। কর্ণফুলী নদী তীর ঘেঁষা এই প্রকল্প এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২ টি খালের প্রত্যেকটির মুখে পাম্পসহ জোয়ার নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা থাকবে। তার একটি চাক্তাই খালের মুখে উদ্বোধন করা হলো। ফলে চট্টগ্রামের আদি ব্যবসায় কেন্দ্র চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, বক্সিরহাট এলাকারসহ বৃহত্তর বাকলিয়া দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান হবে।
সিডিএ’র চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম আরো বলেন, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে আমরা এ বিশাল কাজ শুরু করেছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজের সুফল পেতে হলে, সফলতা পেতে হলে জনগণের সহযোগিতার বিকল্প নেই। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কোন ভুল করতে পারি না, আমরা কোন ভুল করবো না। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী জোয়ারের সময় যাতে বড় বড় নৌকা ঢুকতে পারে, সেটা খেয়ালে রেখেই সøুইচ গেইট নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ৬৫ লাখ মানুষ, ১২ লাখ পরিবার বসবাস করে। দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের সহযোগিতায় গত ৯ বছরে চট্টগ্রামের উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। অথচ সিডিএ’র ৬০ বছরের ইতিহাসে কোন সময়ে খাল খননের, পুনরুদ্ধারের কাজ করে নাই। চট্টগ্রামে ৫৭টি খাল বিদ্যমান। ৩৬টি খালের কাজ করার জন্য ৫০০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কার করার জন্য ৫ হাজার ৬শত ১৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছি জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে।
ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন ছিল- সøুইস গেইট নির্মাণ হলে নৌকা ঢুকবে কি না, জোয়ারের সময় বিশাল বিশাল বোট ঢুকতে পারবে কি না? জোয়ারের সময় যাতে বড় বড় বোট ঢুকতে পারে সেভাবে সøুইচ গেইট নির্মাণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি চট্টগ্রামবাসীকে সুসংবাদ দিয়ে বলেন, ‘ইতোমধ্যে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু যে সমস্ত এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে, সেখানে আগের মতো পানি দেখা যায় নাই।’
সিডিএ’র চিফ ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিডিএ বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন শাহ, কেবিএম শাহজাহান, সিডিএ’র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. মোস্তাফা জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদেও ডেপুটি কমান্ডার ছৈয়দুল হক চৌধুরী, চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হারুনুর রশীদ, ফয়জুল্লাহ বাহাদুর, জসিম উদ্দিন, আবদুল মান্নান। উপস্থিত ছিলেন লুৎফর হমান ফারুক, শফিউল আজম হীরু, শফিউল আজম বাহার, মোহাম্মদ আব্বাস আলী, সিডিএ সচিব তাহেরা ফেরদৌস বেগম, প্রকল্প পরিচালক রাজিব দাশ, প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, মাহাফুজুর রহমান, মনজুর হোসেন, জয়নাল আবেদীন, আহমেদ মাঈনুদ্দিন, সহকারী প্রকৌশলী কাদের নেওয়াজ, আশরাফ, সিডিএ কর্মচারী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, প্রকল্প সমন্বয়ক নাসির হোসেন দিদার প্রমুখ।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password