বাংলাদেশ, বুধবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

বাংলার লোক সাহিত্য ও সংস্কৃতির গণজাগরণে কবিয়াল রশেম শীল এক অনন্য প্রতিভার নাম

চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের উদ্যোগে একুশে পদক প্রাপ্ত উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত কবিয়াল, মাইজভান্ডারী মরমী গানের জীবন্ত কিংবদন্তী সাধক কবিয়াল রমেশ শীলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে এক স্মরণ আলোচনা ও কবি গানের অনুষ্ঠান গত ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সংগঠনের উপদেষ্ঠা নাট্যজন সজল চৌধুরী সভাপতিত্বে নগরীর কদম মোবারক স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবিয়াল কল্পতরু ভট্টাচার্য। চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠ চক্রের সাধারণ সম্পাদক কবি আসিফ ইকবালের পরিচালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগনেতা সুমন দেবনাথ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডাঃ মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, সাংবাদিক স.উ.ম জিয়াউর রহমান, কবি ও প্রকৌশলী সঞ্চয় কুমার দাশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ পাবলিসিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চৌধুরী টাংকু, পূর্বশার আলোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আতিকুর রহমান, মোরা পত্র লেখক সমাজের সভাপতি কবি সজল দাশ, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সালাউদ্দিন লিটন, জে.বি.এস আনন্দ বোধি ভিক্ষু, সাংবাদিক সোহেল তাজ, সংগঠক সুমন চৌধুরী, রায়হান মাসুদ, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগনেতা মুহাম্মদ আয়েচ, উচ্ছ্বাসের সভাপতি মুহাম্মদ আজিম উদ্দিন, মুহাম্মদ হোসাইন আরমান, রকেট দাশ রকি, আবু নোমান রানা, প্রজন্ম বিজ্ঞান ভাবনার সাদিয়া আবেদীন নিশি, আসমা বিনতে আখি, মিতুয়া মজুমদার, মুহাম্মদ শরীফ, আমির হোসেন, ইমতিয়া আহমেদ প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, শৈশব কাল হতে কবিয়াল রমেশ শীল বিভিন্ন কবি গানের আসরে গান শুনতে যেতেন। কখনো কখনো রমেশের বাড়ীর উঠনে বসত গানের লড়াই। কবিগানে মুগ্ধ হয়ে রমেশ শীল গান মুখস্ত করে মুখে মুখে গাইতেন। মুলত স্কুল জীবন থেকেই রমেশ শীল কবি গানের প্রতি অনুরাগী হয়ে পড়েন। মাত্র ১১ বছর বয়সে পিতৃহারা হয়ে পড়া-লেখার পাঠ ছুটিয়ে রমেশ শীলকে জীবন সংগ্রামে নেমে পড়তে হয়। কবি গানের প্রচলিত ধারা ভেঙ্গে তিনি তাতে যুক্ত করেন অসম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনা। কবিয়াল রমেশ শীল বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সমসাময়িক নানা ঘটনা, সামাজিক, রাজনীতিক বিভিন্ন বিষয় যেমন- অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলন, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্টন, সুর্যসেন-প্রতিলতার বীরত্বগাতা প্রভৃতি বিষয়েও তার গানের অনুষঙ্গ হয়েছে। কবিয়াল রমেশ শীল মাইজভান্ডারী তরিকারও অনুসারী ছিলেন। মাইজভান্ডারী নিয়ে তিনি অনেক গান রচান করেন। মাইজভান্ডারী গানকে তিনি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। কবিয়াল রমেশ শীলের গান আজ দেশে বিদেশে বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে শ্রোতা মুখর হচ্ছে। বক্তারা কবিয়াল রমেশ শীলের সৃষ্টিকর্মকে প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানান।

আরো খবর

Leave a Reply