লামায় দুর্গম পাহাডরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বৃদ্ধি : প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

  প্রিন্ট
(Last Updated On: অক্টোবর ২৫, ২০১৭)

লামা প্রতিনিধি
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার দুর্গম পাহাডরে সন্ত্রাসীদের হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ চলছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এছাড়াও পাহাড়ে তিনটি সন্ত্রাসী গ্রুপের রয়েছে নিরাপদ ঘাঁটি। এসব ঘাঁটিতে নিয়মিত চলে অস্ত্র প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষণে যোগ দেয় মিয়ানমারের একটি উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী গ্রুপ।
লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ত্রিশডেবা,গয়ালমারা, সরই ইউনিয়নের লেমু পালং, গজালিয়া ইউনিয়নের লুলাইং, সদর ইউনিয়নের পোপাখাল এবং রুপসীপাড়া ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংমুখ, আলীয়াং বাবুপাড়া দূর্গম পাহাড়ি এলাকা। পায়ে হেঁটে ছাড়া যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই। ওইসব এলাকার বাসিন্দারা পাহাড়ি তিনটি সন্ত্রাসী গ্রুপকে নিয়মিত চাঁদা দিয়েও নির্যাতন থেকে রক্ষা পান না। পিতা-মাতার সামনে থেকে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। তাদের এই পৈশাচিক কার্যক্রম নিয়মিত চলে। ওই এলাকায় প্রায় গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। এসব লাশ পাহাড়ী বাঙালিদের।
সরজমিনে এইসব দুর্গম এলাকায় গেলে পাহাড়ি ও বাঙালিরা বলেন, স্বাধীন দেশে বসবাস করেও আমরা পরাধীন। তারা তিনটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। হত্যা, অপহরণ, গুম সেখানকার নিয়মিত ঘটনা। পাহাড়ি তিনটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে মিয়ানমারের উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যোগাযোগ থাকায় তারা উভয়েই দেশে নিয়মিত যাতায়াত করছে। এই উগ্রপন্থিরাও এই তিনটি এলাকার বাসিন্দাদের উপর নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
এলাকাবাসী এই অত্যাচার সম্পর্কে বলেন, আরাকান থেকে রোহিঙ্গাদের উপর যেভাবে নির্যাতন চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে তেমনিভাবে লামার এই তিনটি সন্ত্রাসী গ্রুপ মিয়ানমারের উগ্রপন্থি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সহায়তায় নির্যাতন চালাচ্ছে। এই এলাকার বাসিন্দারা এখান থেকে চলে গেলে পাহাড়ি তিনটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ও মিয়ানমারের উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী গ্রুপ এই এলাকায় নিরাপদ প্রশিক্ষণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। এ কারণেই বাসিন্দাদের উপর ধর্ষণ, হত্যা, গুম, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এছাড়া উল্লেখিত এলাকার অনেক উপজাতি পুরুষরা দীর্ঘদিন কোথায় যেন হারিয়ে যায়। বেশ কয়েকদিন পরে আবার কোথায় থেকে যেন ফিরে আসে।বাসিন্দাদের অভিমত, এই এলাকায় নিরাপদ বসবাসের জন্য সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্ভব হবে না। স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাও একই অভিমত ব্যক্ত করেন। বাসিন্দারা সেনা হস্তক্ষেপের জন্য প্রশাসনের শীর্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password