হত্যা মামলার প্রধান আসামীর হাত ধরে সরকার দলীয় এমপি রতনের শোডাউন!

  প্রিন্ট
(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৭)

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
হত্যা মামলার এক প্রধান আসামী ও তার সহযোগীদের পাশে রেখে শোডাউন করায় সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিতর্কিত ও বহুল আলোচিত সংসদ সদস্য মোয়জ্জেম হোসেন রতন এমপি আবারো নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়লেন।’ সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের আদিবাসী পল্লী কড়ইড়ায় একটি ধর্মীয় সভায় রবিবার যোগ দিতে গিয়ে দিনভর বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট সহ বিভিন্ন সড়কে মানিক হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী কথিত যুবলীগ নেতা ও অন্যান্য আসামীদের সাথে নিয়ে শোডাউন করতে গিয়ে সাধারন জনগণের সামনে দলীয় ভাবমুর্তি ক্ষুণ করেছেন বলে এখন নিজ দলের নেতাকর্মীরাও অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন এমপির ওপর। এ নিয়ে ওই এমপির কর্মকান্ডে নিজ দল ছাড়াও সুশীল সমাজ ও সাধারন জনগণের মধ্যে নানা মোখরোচক সমালোচনার ঝড় বইছে।’ শুধু এমপি রতনই নয় আইনের রক্ষক হয়ে হত্যা মামলার আসামীদের শোডাউন কালীন সময়ে থানার বড়কর্তা ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর একদল পুলিশ নিয়ে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকলেও বিষয়টি তার নজড় এড়ায়নি। ওই ওসির ভুমিকাতেও পুলিশের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্য হয়েছেন বলে বিজ্ঞ আইজীবীগণ মতামত প্রকাশ করেছেন।’
দলীয় নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার কড়ইগড়া আদিবাসী পল্লীতে তিন দিন ব্যপী ধর্মীয় বড়সভার সমাপনী দিনে রবিবার আয়োজকরা প্রধান অতিথি করেন আওয়ালীগের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোয়জ্জেম হোসেন রতন এমপিকে প্রধান অতিথি করা হয়। সভায় যোগ দিতে লাউড়েরগড় সীমান্তনদী জাদুকাটার বারেকটিলা প্রকাশ বড়গোপ টিলার ঘাট থেকে প্রায় মানিক হত্যা মামলার প্রধান আসামী মাসুকের নেতৃত্বে আড়াই থেকে তিন শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শোডাউন করে বেলা ৩টার পর আদিবাসীদেও বড়সভায় যোগদান করেন ওই সাংসদ বড়সভার মুল্য অনুষ্টঅনে প্রবেশ করার প্রায় কোয়ার্টার কি.মি দুরে মোটর সাইকেল রেখে এমপি রতন হত্যা মামলার আসামী মাসুকের হাত ধরে মিছিল করতে করতে সভার মঞ্চে উঠেন। ওই সময় তাহিরপুর থানার এমপির আস্থাভাজন ওসি নন্দন কান্তি ধর সহ থানার অন্যান্য পুািলশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। শোডাউনে মানিক হত্যা মামলার আরেক আসামী মাসুকের ভাগ্নে আবুল মনসুর, শ্যালক আজহারুল সোহাগ, জহরিুল ইসলাম ইসলাম সহ অন্যান্য আসামীরা নিজে থেকে শোডাউন সফল করতে জনবল সরবরাহ ও মোটরসাইকেলের যোগান দিয়েছেন। ওই সভায় তাহিরপুরের সংখ্যা লুঘু হিন্দু পরিবারের ্ক মহিলাকে ধর্ষণ অপেচেষ্টার বিচারধানী মামলার আসামী মউির রহমান মতি , বাদাঘাটের ব্যবসায়ী রহমত আলী ওরফে রমু মিয়াকে চাঁদার জন্য বাড়িতে নিয়ে গাছে বেধে নির্যাতনকারী বিচারধানী মামলার আসামী কামড়াবন্দ গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন ওরফে মুখবেখা তোফাজ্জলও উপস্থিত ছিলেন।’
উল্যেখ যে, বিগত ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর চাল পড়া দিয়ে চোর শনাক্তকরণ ও নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে বণিক সমিতির কথিত সাধারন সম্পাদক মাসুক মিয়া ও তার লোকজন নিরীহ পান দোকানদার বারহাল গ্রামের আবদুস সাক্তারের ২০ বছর বয়সী মাত্র ১৭ দিনের বিবাহিত যুবক মানিকের মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করে লাশ বাজারের গলিতে ফেলে রেখে যায়। ওই ঘটনায় নিহত মানিকের ভাই বাদী হয়ে একই বছরের ৪ নভেম্বর পৈলনপুর গ্রামের মৃত রহিছের ছেলে মাসুকে প্রধান আসামী করে ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় একপি হত্যা মামলা দাযের করেন। মামলার অন্য আসামীরা হল, উপজেলার পৈলনপুর গ্রামের মাসুকের ভাগ্নে আবুল মনসুর, এক সময়ের ছাত্র শিবিরের কর্মী নব ছাত্রলীগ নেতা দাবিদার মাসুকের শ্যালক আজহারুল ইসলাম সোহাগ, একিনূর, মুছা, কুদ্দুছ, কামড়াবন্দ গ্রামের জহিরুল , দিঘিরপাড় গ্রামের শফিকুল, আমিরুল, মোল্লাপাড়ার জুবায়ের, লামাপাড়ার জাকির হোসেন। যা তাহিরপুর থানায় মামলা নং জিআর ১৭৮/২০১৬ তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৬।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন , হত্যা মামলার আসামীদের নিয়ে পুলিশ থাকা অবস্থায় শোডাউনের বিষয়টি প্রমাণ করে যে ওই এলাকায় আইনের শাসন কায়েমকরা হচ্ছেনা বরং সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের ওই এলাকার আইনের রক্ষকরাই লালন করছেন। তিনি আরো বলেন, এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকলে এটা ওসির ব্যর্থতা ও পুলিশ বিভাগের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্য করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
এ বিষয়ে মতামত জানতে সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পিপি ড. খায়রুল কবির রুমেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন , হত্যা মামলা কিংবা যে কোন মামলার আসামীই হউক না তাদেরকে নিয়ে পুলিশ থাকার পর শোডাউন কিংবা সভায় অবস্থান করানোটা আইননের পরিপন্থি কাজ হিসাবেই আদালতের নিকট বিবেচিত হবে। তিনি আরো বলেন ,থানার ওসি নিজে পুলিশ নিয়ে থাকা অবস্থায় এর দায় ওসি ও এড়াতে পারবেন না, যতদিন না পর্য্যন্ত আদালত ওই মামলা থেকে আসামীদের খালাস কিংবা অব্যাহতি না দিবেন ততদিন পর্য্যন্ত ওরা আইন ও সংবিধানের নিকট আসামী হিসাবেই বিবেচিত হবেন।’
এ বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করে রবিবার বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধরের সরকারি মোবাইল ফোনে (০১৭১৩-৩৭৪৪২১) যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাই এইতা কোনতা আমি জানিনা, আমার শরীর খারাপ ।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপির বক্তব্য জানতে রবিবার সন্ধা ৬টার পর থেকেদিকে উনার ব্যাক্তিগত দুটি মুঠোফোনে (০১৭১৫০২২৮৩৩ ও ০১৭১১৯১০১৯২) দফায় দফায় কল করেলও সন্ধা সাড়ে ৬টা পর্য্যন্ত উনি কল রিসিভ না করায় উনার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password