ডিসেম্বর ২, ২০২১ ৩:০৯ অপরাহ্ণ

কাঠমিস্ত্রির কাজ করেও রাবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম

 আব্দুস সবুর লোটাস  রাবি

 

 

 

 

অভাবের সংসার। বাবা কাঠমিস্ত্রি। পরিবারে অনটনের কারণে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বাবার সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন মোস্তাকিম আলী। তবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একটি ইউনিটে প্রথম হয়েছেন তিনি। ‘বি’ ইউনিটের তৃতীয় শিফটে ৮০ দশমিক ৩০ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাঁধাইড় মিশনপাড়া এলাকার শামায়ুন আলীর ছেলে মোস্তাকিম। এখনো বাবার সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। তবে ভর্তি পরীক্ষার ১৫ দিন আগে কাজে বিরতি দেন তিনি। ১১ অক্টোবর মধ্য রাতে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। এর পর থেকেই আনন্দের বন্যা বইছে দরিদ্র পরিবারটিতে। মোস্তাকিমের মা জোসনা বেগম গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় মোস্তাকিম। সংসারে অভাবের কারণে মেজো ভাই আজিজুল হক পড়াশোনা না করে বাবার সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে। ছোট বোন ফাহিমা খাতুন মুমালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অনেক কষ্টে দুই ছেলেমেয়েকে পড়ালেখা করাচ্ছেন কাঠমিস্ত্রি শামায়ুন।

মোস্তাকিম আলী বলেন, ভর্তি কোচিং বা বিশেষ প্রাইভেট পড়িনি। তবে স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। অনলাইনে কিছু ভর্তি প্রস্তুতির লেকচার পেয়েছি। সেগুলো অনুশীলন করে নিজেকে তৈরি করেছি। মোস্তাকিম উপজেলার মু-ুমালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে জেএসসি পাস করেন। একই স্কুল থেকে ২০১৭ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেন। জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও এসএসসিতে পান জিপিএ-৪.৫৫। এর পর রাজশাহীর তানোর উপজেলার ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন মোস্তাকিম।

২০১৯ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.০৮ পেয়ে পাস করেন। পরে রাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিলেও উত্তীর্ণ হননি। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদিনা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজে ইংরেজি বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হন। কিন্তু আশা ছাড়েননি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির। সে জন্য ২০২০ সালে এইচএসসিতে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিয়ে পান জিপিএ-৪.৮৩। এবার তিনি রাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং সবার মধ্যে প্রথম হন।

ছেলের সফলতায় উচ্ছ্বসিত বাবা শামায়ুন আলী বলেন, পড়ালেখার প্রতি ছোটবেলা থেকেই মোস্তাকিমের আগ্রহ ছিল। কষ্ট হলেও তার পড়ালেখা বন্ধ করেনি। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে নিজেকে এগিয়ে নিতে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরাও তার প্রতি বেশ আন্তরিক ছিলেন। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনায় লেখাপড়া করায় এমন সাফল্য পেয়েছে মোস্তাকিম। তার সাফল্যে আমি গর্বিত। তাই সবার কাছে দোয়া চাই।

ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদিন বলেন, কলেজে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শিক্ষকরা নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করেছেন। তাই মোস্তাকিমের এ ফল করা সম্ভব হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply