জানুয়ারি ২৯, ২০২২ ২:২১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বি.টি.এ)’র জন্মশত বার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বি.টি.এ)’র উদ্যোগে ৬ ফেব্রæয়ারী ২০২১ইং শনিবার বিকাল ৪টায় আন্দরকিল্লা মোড় হতে আনন্দ র‌্যালী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এবং পড়ে আন্দরকিল্লায় সম্পন্ন হয়। সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লকিতুল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরীর সঞ্চালনায় উপস্থিত প্রবীন শিক্ষক নেতা, অতিথি, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বেলুন উড়িয়ে র‌্যালীর শুভ সূচনা করেন। র‌্যালীর পরবর্তীতে কেক কাটার মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো: জাহাঙ্গীর, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক চিন্তক অধ্যাপক শামসুদ্দিন শিশির, বাকবিশিস চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ভবরঞ্জন বণিক, সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রবীন শিক্ষক নেতা নমিতা পালিত, শান্তি রঞ্জন চক্রবর্তী, কানাই লাল বিশ্বাস, দুলাল কান্তি চৌধুরী, মো: হারুন অর রশিদ, বিজয় শংকর চৌধুরী, মহানগরী শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কানুনগো, উত্তর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো: জাকের হোসেন, দক্ষিণ জেলার সভাপতি মো: ওসমান গণি, সাধারণ সম্পাদক তাপস চক্রবর্তী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রবীন শিক্ষক নেতা বাদল চন্দ্র সিকদার, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রনজিত কুমার নাথ, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুরুল হক সিদ্দিকী। এছাড়া বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলায় সকাল ১০টায় বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে শতবর্ষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ সমিতির শতবর্ষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ১৯২১ সালের ৬ ফেব্রæয়ারী রংপুর জেলার গাইবান্ধা মহকুমার গাইবান্ধা ইসলামিয়া হাই স্কুলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়-এর সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিক শিক্ষক সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়। “অল বেঙ্গল টিচার্স এসোসিয়েশন (এ.বি.টি.এ)”। সভাপতি নির্বাচিত হন রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত। এরপর অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ১৯৪৭ এর পর সঙ্গত কারণে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “ইস্ট বেঙ্গল টিচার্স এসোসিয়েশন (ইবিটিএ)” এবং পরবর্তীতে “ইস্ট পাকিস্তান টিচার্স এসোসিয়েশন (ইপিটিএ)” সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সুলতান মাহমুদ ও মীর আব্দুল গফুর। ১৯৬৫ সালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে অধ্যক্ষ মো: কামরুজ্জামান ও আব্দুল মান্নান। এরপর ১৯৬৮ সালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মো: মোখলেসুর রহমান ও অধ্যক্ষ মো: কামরুজ্জামান। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭১ সালে সমিতির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশন (বিটিএ)” যার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ মো: কামরুজ্জামান ও মো: জয়নুল আবেদীন। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম একথা অনস্বীকার্য। তবে এযাবৎকাল বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্তিকরণ, বিভিন্ন সময়ে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, পেস্কেলভূক্তকরণ, বৈশাখী ভাতা ও ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট আদায়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) সবসময় অগ্রভাগে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। নেতৃবৃন্দ আশা করেন মুজিব শতবর্ষে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয় করণের ঘোষণা দিয়ে সংগঠনের শতবর্ষ ও মুজিব শতবর্ষের উপহার দেবেন।

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply