বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইমাম বোখারি (রা.)’র ১১৪৯ তম ওয়াফাত বার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনার

ইমাম বোখারির শ্রেষ্ঠ অর্জন হচ্ছে পবিত্র বুখারি শরীফ, যা মানুষকে আল্লাহ ও রাসুলের পথে আনতে কেয়ামত পর্যন্ত সহায়ক হবে

 

হযরত ইমাম বুখারী (রা.) ১১৪৯তম ওয়াফাত বার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, হযরত ইমাম বুখারী (রা.)’র জীবনের শ্রেষ্ঠতম কর্ম হচ্ছে এই হাদীসগ্রন্থের রচনা। তিনি স্বীয় শিক্ষক হযরত ইসহাক বিন রাহওয়াইহ থেকে এই গ্রন্থ রচনার প্রেরণা লাভ করেন। একদিন হযরত ইসহাক একটি এমন গ্রন্থের আশা প্রকাশ করেন, যাতে লিপিবদ্ধ থাকবে শুধু সহিহ হাদীস। ছাত্রদের মাঝে ইমাম বুখারী তখন এই কঠিন কাজে অগ্রসর হন। ২১৭ হিজরী সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি মক্কার হারাম শরীফে এই গ্রন্থের সংকলন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২৩৩ হিজরী সনে এর সংকলনের কাজ সমাপ্ত হয়। বুখারী শরীফের সংকলনকালে তিনি সর্বদা রোজা রাখতেন এবং প্রতিটি হাদীস গ্রন্থ সন্নিবেশিত করার আগে গোসল করে দুরাকাত নফল নামাজ আদায় করে মুরাকাবা ও ধ্যানের মাধ্যমে হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। এই গ্রন্থে তিনি সকল সহিহ হাদীস সংকলন করেননি, বরং সহিহ হাদীসের মাঝে যেগুলো তার নির্ধারিত শর্তে উন্নীত হয়েছে, সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি স্বয়ং বলেন, “আমি জামে কিতাবে সহিহ হাদিস ব্যতিত অন্যকোন হাদিস উল্লেখ করিনি। তবে কলেবর বড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সহিহ হাদিসকে বাদ দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি আমার কিতাবে প্রতিটি হাদিস লেখার পূর্বেই গোসল করেছি এবং দুরাকাআত নামায আদায় করে নিয়েছি।” অপর বর্ণনা হতে জানা যায় যে, ইমাম বুখারী (রহ.) তাঁর স্বীয় কিতাবের শিরোনামসমূহ রাসুলে করিম (সা.) এর রওজা এবং মসজিদে নববীর মধ্যস্থলে বসে লিখেছিলেন এবং প্রত্যেক শিরোনামের জন্য দুরাকায়াত নফল নামাজ আদায় করেছেন। ইমাম বুখারীর প্রায় ৬ লাখ হাদীস মুখস্থ ছিল। বুখারী শরীফের পুরো নাম হলো “আল-জামি আল-সাহীহ আল-মুসনাদ মিন উমুরি রাসূলিল্লাহ (সা.) ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি।” আবুল ফজল মোহাম্মদ বিন তাহেরের বর্ণনা মতে, ইমাম বুখারী (রহ.) তাঁর গ্রন্থখানি বুখারাতে বসে রচনার কাজ শেষ করেছেন। আবার কারো মতে মক্কা মুয়াজ্জামায় আবার কারো মতে বসরাতে। তবে উল্লেখিত সকল বর্ণনা নির্ভুল। কেননা তিনি উল্লেখিত স্থানগুলোর সকল নগরীতে অবস্থান করেছেন। স্বয়ং ইমাম বুখারী (রহ.) বলেছেন, আমি আমার সহিহ বুখারি সঙ্গে নিয়ে বসরা শহরে ৫ বছর অবস্থান করেছি এবং আমার কিতাব প্রণয়নের কাজ শেষ করি। আর প্রতি বছরই হজ্ব পালন করি এবং মক্কা হতে বসরাতে ফিরে আসি। তিনি ৬ লাখ হাদিস হতে যাচাই বাছাই করে, ১৬ বছর নিরলস সাধনা করে এ প্রসিদ্ধ গ্রন্থখানি প্রণয়ন করেন। এখানে মোট হাদিস আছে সাত হাজার একশত পঁচাত্তর খানি (৭,১৭৫)।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর আশেকে রাসুল আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস খ্যাত, বিশ্ব বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হাদিস-এ বোখারী শরীফের রচিয়তা হযরত ইমাম বোখারী (রাঃ) এর ১১৪৯তম ওয়াফাতবার্ষিকী উপলক্ষে ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটস্থ কাশ্মীর রেস্টুরেন্ট-এ মুসলমান ইতিহাস সমিতি এর উদ্যোগে আলোচনা সভা, সেমিনার ও দোয়া মাহফিল সংগঠনের উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী জনাব মোহাম্মদ আবু বক্কর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যাপক ডা. নঈম কাদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কবি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মুসলমান ইতিহাস সমিতির সভাপতি সোহেল মো. ফখরুদ-দীন, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাস্টার আবুল হোসেন। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক এ কে এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় এই সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুছ কুতুবী, নজরুল গবেষক এম এ সবুর, বিশিষ্ট সাংবাদিক শামসুল আলম টগর, প্রবীণ সাংবাদিক ওসমান গণি, বিশিষ্ট আলোকচিত্রী-সাংবাদিক ওচমান জাহাঙ্গীর, ইসলামী চিন্তাবিদ এস এম ওসমান, সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ ইসকান্দার, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ওচমান আলী শাহ জোহাদী, সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ রানা, জেলা স্কাউটসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ আলী মির্জা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা মোহাম্মদ মুছা, মধ্যম আধারমানিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মোহাম্মদ ফোরকান, প্রাবন্ধিক ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, সাংবাদিক মো. তৌহিদুর রহমান, এ কে এম সাঈদ হোসেন প্রমুখ। সভা শেষে মিলাদ, কিয়াম ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ওচমান আলী শাহ জোহাদী।

আরো খবর

Leave a Reply