বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে শীর্ষ তিন ইয়াবা ডনের জমিসহ ‘রাজপ্রাসাদ’ ক্রোক,ইয়াবার টাকায় অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া অন্যদের পরিণতিও পর্যাক্রমে একই হবে

রক্ষণাবেক্ষণ করবে পুলিশ,টেকনাফের পর আনোয়ারা নাকি সীতাকুন্ড?

আদালতের নির্দেশে ইয়াবা ডনদের বিলাসবহুল দুটি বাড়ি ক্রোক করা হয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফে শীর্ষ তিন ইয়াবা কারবারি ইয়াবার টাকায় বানানো দোতলা দুই ‘রাজপ্রসাদ’সহ জমি ক্রোক করেছে পুলিশ।

ক্রোক করা সম্পদের মূল্য ৩০ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব সম্পদ এখন থেকে পুলিশই রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

সম্পদ ক্রোক হওয়া তিন ইয়াবা ডন হলেন− টেকনাফের নাজিরপাড়ার মো. এজাহার মিয়া (৭০), তার দুই ছেলে মো. নুরুল হক ভুট্টো (৩২) ও নূর মোহাম্মদ ওরফে মংগ্রি (৩৫)। দুই মাস আগে নুর মোহাম্মদ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তৈরি ইয়াবা কারবারির তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন নুরুল হক ভুট্টো।

শনিবার (১ জুন) সকাল থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রাজপ্রসাদের মতো বাড়িগুলোতে অভিযান চালায় পুলিশ।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযানে ছিল। তারা তিন ইয়াবা ডনের দোতলা দুটি বাড়ি ক্রোক করেছে। বাড়িতে থাকা লোকদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

এ সময় এক নারী কান্না করে বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত না। আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলো, আমার এখন কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, আমার কেউ নেই।’

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, আদালতের নির্দেশে তিন ইয়াবা ডনের বাড়ি ক্রোক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ইয়াবা কারবারির বাড়ি ক্রোক করার ঘটনা এটাই প্রথম। বাড়িগুলো পুলিশ হেফাজত করবে। ক্রোক করা বাড়িগুলোর মালিকরা এক সময় ভ্যান ও রিকশা চালাতেন। ইয়াবার ব্যবসা করে তারা এখন কোটি টাকার মালিক।

তিনি বলেন, দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর এসব বাড়ি ছেড়ে পালান তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। কেউ গ্রেফতার ও কেউ বন্দুকযদ্ধে মারা গেছেন। ইয়াবার টাকায় অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া অন্যদের পরিণতিও পর্যাক্রমে একই হবে।

ক্রোক করা সম্পদের আয়-ব্যয়ের সার্বিক হিসাব প্রতি বছরের ১৪ মে আদালতকে জানানো হবে বলে জানান ওসি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির করা মামলায় আদালত এ নির্দেশ দেন। গেল ২৩ মে রায়টি দেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ। প্রথমবার মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলায় এমন আদেশ দিলেন আদালত।

এদিকে সমুদ্র উপকুল আনোয়ারা ও সীতাকুন্ডে স্বরাষ্টমন্ত্রনালয়ের তালিকা ভুক্ত ইয়াবা কারবারী রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে খুন, মানি লণ্ডারিং. হুণ্ডি ব্যবসা, বার্মা থেকে পানীয় মদ চোরাচালান, ডলার পাচার, জলদস্যু, বোট ডাকাতি, অস্ত্র পাচারসহ নানান অপরাধের মামলা রয়েছে সংশ্লিষ্ট থানায়।এদের অনেকের গ্রাম ও শহরে অবৈধ টাকার বিশাল প্রাসাদ রয়েছে ।ইতিমধ্যে  এসব প্রাসাদের একটি তালিকা করেছে একটি সংস্হা। ওই সংস্হার সুত্রমতে শুধুমাত্র অবৈধ টাকায় এসব অট্ট্রালিকা ও প্রাসাদগুলো নির্মিত হয়েছে যা  স্হানীয় এলাকাবাসী নিরব সাক্ষী।এসব প্রাসাদ ও সম্পদ ক্রোক টেকনাফ থেকে শুরু হয়েছে।এরপর আনোয়ারা অথবা সীতাকুন্ড থেকে শুরু হবে বলে ওই সংস্হাটি দাবী করছে।অভিযুক্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও রয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

আরো খবর

Leave a Reply