বাংলাদেশ, বুধবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঘটনাস্থল নেভী হাসপাতাল সেই ৪ ছাত্রের জামিন লাভ-নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের

 

 

গত৪ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেভি গেইট এলাকায় চট্টগ্রামে নৌ বাহিনীর মামলায় গ্রেফতার হওয়া ছাত্রকে জামিন দিয়েছে আদালত। ৭মে রবিবার দুপুরে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শিশু আদালত এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস তাদের জামিন মঞ্জুর করেনজামিনে মুক্তি পাওয়া ৪ ছাত্ররা হলেন, বিএফ শাহীন কলেজের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুল হক (১৮), কুমিল্লা রেসিড্যানশিয়াল কলেজের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মিরাজুল হাসান, বেপজা পাবলিক স্কুল থেকে সদ্য এস এস সি পাশ শিক্ষার্থী সীমান্ত বড়ুয়া ও এল এম এফ কোর্সে অধ্যায়নরত প্রসেনজিত মজুমদার। তারা সকলেই বেপজা পাবলিক স্কুল ও কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

৪ কিশোরের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবি মানস পাল জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান আদালত আমাদের বক্তব্য এবং এভিডেন্স দেখার পর কোন ধরণের শর্ত ছাড়াই দুপুরের দিকে ৪ ছাত্ররের জামিন মঞ্জুর করেছেন। উল্লেখ্য ৪ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেভি গেইট এলাকায় অবস্থিত বাসমতি রেস্টুরেন্টের সামনে আড্ডা দেয়ার কারণে নৌ বাহিনীর লোকজন গার্ড রুমে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে ছেলেদের উপর অমানুষিকভাবে নির্যাতন চালায় এবং তাদের মাথা মুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাদের অভিভাবকরা।

.
ধরে নিয়ে যাওয়ার ৩ ঘন্টা পর রাতে তাদের বিরুদ্ধে সরকারী কাজে বাধাদান এবং নৌ বাহিনীর  প্রহরীকে মারধরের অভিযোগে ইপিজেড থানায় মামলা দায়ের করে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।পরদিন শুক্রবার বিকালে তাদের আদালতে হাজির করলে ছাত্রদের পক্ষে নৌ বাহিনী কর্তৃক ধরে নিয়ে শাররিক নির্যাতন এবং মাথা মুড়িয়ে দেয়ার প্রতিকার চেয়ে অভিভাবকরা  আবেদন করলে  আদালত গ্রেফতারকৃত ৩ ছাত্ররের জামিন না মঞ্জুর করে তাদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার নির্দেশ এবং অভিযুক্ত নৌ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে সিএমপি কমিশনার, সংশ্লিষ্ট এলাকা পুলিশের ডিসি ও ইপিজেড থানার ওসিকে নিদের্শ দেন।

তবে  রবিবার বিকেল পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কোন মামলার নোটিশ বা নির্দেশ কপি থানায় আসেনি বলে থানা সুত্রে জানান। তবে একাধিক সুত্রে জানগেছে, নৌ বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাটি আপোষ করার জন্য ৪ছাত্ররের অভিভাবকদের সাথে গত দুদিন যাবত দফায় দফায় বিভিন্ন স্থনে গোপণ বৈঠক করার জোর চেষ্ঠা চলছে বলে নির্যাতিত ছাত্রর বন্ধুরা জানান।

এদিকে এই মানহানিকর ঘটনার জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের নেতা মোঃ নাছির উদ্দিন,মোঃ আজাদ হোসেন রাসেল এবং জাহেদ হোসেন খোকন সহ সদস্য বৃন্দরা। তারা বলেন,কেউ অন্যায় করলে তার অভিভাবক কিংবা এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে । তা শর্তেও কেন ছাত্রদের বেদম প্রহার বা মাথা মুড়িয়ে নির্যাতন করলো একটি পোষাকধারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে এই ঘটনা যারাই করুক খুবই অন্যায় হয়েছে।এর সুষ্ঠ বিচার হওয়া উচিত।

ঘটনা উল্লেখ্য যে,বিগত১৯৯৩সালে এই ধরণের একটি অনাকাঙ্গিত ঘটনার জন্য নৌবাহিনীর সাথে স্থানীয় দক্ষিণ হালিশহরের বাসিন্দার মধ্যে ন্যাক্কার জনক সংঘর্ষ বাধলে বহু ঘর বাড়ীতে অগ্নিকান্ড এবং সম্পদ ক্ষতি সাধন সহ ৩জন নিহতএবং ৩০/৩৫জন আহত হবার ঘটনায় বেশ কয়েক বছর যাবত কালো পতাকা উত্তোলন করে প্রতিবাদ জানান।তৎকালিন চেয়ারম্যান বজল আহম্মদ ক্ষতিপূরন দাবি করে মামলা করে প্রায় জিতেও ছিলেন,কিন্তু সরকারের উচ্চ মহলের কারণে সেই মামলা আর বেশীদুর যাই নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।

 

আরো খবর

Leave a Reply