বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৫শে জুন, ২০১৯ ইং, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

শেভরণ ও কিউরেক্সের আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট কোনটি সঠিক

গত ২১ এপ্রিল মিসেস রুনা(২৯) নামক একজন মহিলার চট্টগ্রাম মহানগরীর শেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হালিশহর শাখায় আল্ট্রাসনোগ্রাফী করেন যাতে Impression : Missed Abortion রিপোর্ট আসে এ রিপোর্ট দেখে ডাঃ দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার উপদেশ দেন রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ২২ এপ্রিল কিউমেক্স পুনরায় উক্ত আল্ট্রাসনোগ্রাফী করালে তাতে Impression : Early intrauterine GS with no fetal pole, at present.(sign of early pregnancy) রিপোর্ট আসে। চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য পরিচালকের অফিসে সাংবাদিক সম্মেলনে রিপোর্ট দুটো উপস্থাপন করে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সিভিল সার্জন ডাঃ আজিজুর রহমান সিদ্দিকি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। রিপোর্ট দুটি নিয়ে  ডাঃ খোরশেদ জামিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুটোই কাছাকাছি তবে শেভরনের রির্পোটাতে ইমপ্রসনে মিসড এবরসন হবে না হবে “বাল্লাটেড ওভাম ” এটা হলে ডিএনসি করতে হবে । ডা: নাজনীন সুলতানা এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য), ডিজিও ( গাইনী এন্ড অবস্) রিপোর্ট দুটি নিয়ে বলেন রিপোর্ট দুটির পর্যবেক্ষণ কাচাকাছি হলেও এক না, দুটোর একটার উপর ভরসাও করা যায় না, ভরসা করতে হয় রোগীর কন্ডিসনের উপর। ডাঃ লুৎফুর নাহার, এমবিবিএস, পিজিটি, ডিএমইউ রিপোর্ট দুটোর পর্যবেক্ষণ নিয়ে বলেন এখানে আরেকটা আল্ট্রা করে দেখা যেতে পারে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সাংবাদিক ও লেখক পরিচয়দানকারী রাজীব রাহুল নামে এক ফেইসবুক ইউজার তার ব্যক্তিগত আইডিতে ২২ এপ্রিল আল্ট্রাসনোগ্রাফী রির্পোট গুলো পাশাপাশি রেখে লিখেনঃ “আমাদের বাড়ীওয়ালার মেয়ে আজ শেভরন হালিশহর শাখায় আল্টা করলো তারা বললো বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে। পরদিন কিউরেক্স ল্যাবে আল্ট্রা করালো তারা বললো এখনো ঠিক আছে। এটা তারা মহাচিন্তায় আছে এখানে কোনটা সঠিক? আর কতো জীবন নিয়ে খেলা” যেটা দ্রুততম সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে। “পানিতে বারি মারলে গুনাহ্গার চমকে উঠে” প্রবাদের ন্যায় শেভরন নিজের গায়ে টেনে নেয়। উল্লেখ্য এর আগে সাবেক জেলা পিপি আবদুস সাত্তার নিজের টেস্ট করাতে শেভরনে গেলে, পরিক্ষা-নিরিক্ষার পর উনাকে প্রেগন্যান্ট বলে রিপোর্ট দেয় শেভরণ ডায়াগনস্টিক, এতে তিঁনি ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা করেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদের শিরোনাম হয় পরে ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রায় মুক্তি পান। উক্ত ফেসবুক ইউজারকারীর বিরুদ্ধে শেভরনে ব্যবস্থাপক রাশেদুল অনেকটা গায়ে পড়ে হালিশহর থানায় অভিযোগ করেন। অসমর্থিত সূত্রে জানা যায় বদরুল (ওসি তদন্ত) শেভরণ থেকে মোটা অঙ্কের উপঢোকন নিয়ে যাচাই-বাচাই না করে শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে বিনা ওয়ারেন্টে হাতকড়া পরিয়ে মাধারীরচোদসহ বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে করতে টেনে-হিচড়ে ২৩ এপ্রিল সোমবার বিকাল ৩ টায় আগ্রাবাদ এক্সেস রোডস্থ নিজের অফিস থেকে রাজীব রাহুলকে হালিশহর থানায় নিয়ে যায় ওসি বদরুল ( তদন্ত)। এ সময় রাজীব ওসি বদরুলের কাছে কোন ভুল নিয়ে লিখলে অপরাধ কিনা জানতে চাইলে তিনি ২০০৬ তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ভয় দেখায়। বলে ভুক্তভোগীই শুধু মামলা করতে পারবে। অন্যকেউও সেটা নিয়ে কোন ধরনের লেখার অধিকারই নেই। এবিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞ সাবেক জেলা পিপি ও চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশন এর সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন যেকোন নাগরিক তার চোখে দৃশ্যমান অসামঞ্জস্য দেখলে তা নিয়ে ব্যক্তিগত অভিমত যে মাধ্যমে দিতেই পারে, আর ওয়ারেন্টভুক্ত ছাড়া কাউকেই ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষ্যে হাতকড়া পড়ানোর বিধান আইনে নেই। রাজীব নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ায় বদরুল উত্তেজিত হয়ে বলেন হাজারো সাংবাদিক আমার পকেটে থাকে। শেভরনের ম্যানেজার থানায় পুলিশের সামনে নিজেকে মন্ত্রী আফছারুল আমীনের নাতি বলে দাবী করে রাজীবকে হুমকি-ধুমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালি দেয় । এসময় ওসি বদরুল মামলার ভয় দেখিয়ে ও চাপ প্রয়োগ করে ফেসবুকের লেখা ও ছবি রিমোভ করায় এবং রাজীবের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে সাংবাদিক নেতারা থানায় উপস্থিত হলে ও সাংবাদিক নেতাদের ফোনসহ নানা মুখী চাপে রাজীবকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে জানা যায়।

আরো খবর

Leave a Reply