তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪৬ সালের এই দিনে দিনাজপুরের ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্ম তার। দিনটি ঘিরে দেশজুড়ে দোয়া মাহফিলের পাশাপাশি নানা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরের ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘর আলো করে জন্ম নেন খালেদা জিয়া। দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হন সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। ১৯৬০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হলে তিনি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সুযোগ হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর সরাসরি রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন তিনি। মাত্র দুই বছরের মধ্যে দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পান। এরপর শুরু হয় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার দীর্ঘ পথচলা। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জনসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তার ভূমিকার কারণে বারবার আটক হন খালেদা জিয়া। এই সময়ই তিনি পরিচিতি পান ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে।

১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর আসে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রথম মেয়াদে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, নারী শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা ও অর্থনৈতিক খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৈরি পোশাকশিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়তে থাকে নারীদের কর্মসংস্থানও।

১৯৯৬ সালে আবারও প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে অল্প সময়ের মধ্যেই পদত্যাগ করেন তিনি। একই বছর জুনের নির্বাচনে বিএনপি বিরোধী দলে যায়। ১৯৯৯ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট গঠিত হয়। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে জোট বিজয়ী হলে দ্বিতীয় পূর্ণ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া।

২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তার দ্বিতীয় পূর্ণ মেয়াদ। এরপর আসে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়। ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পরবর্তী বছরগুলোও কাটে তার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই জয় পান তিনি। রাজনৈতিক জীবনে কোনো নির্বাচনে আসন না হারানোর বিরল রেকর্ডও রয়েছে তার। সবটুকু জানতে ক্লিক করুন

শেয়ার করুনঃ