মাহমুদুল হক আনসারী
হঠাৎ নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশেল দশ জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে । খাগড়াছড়ি , দিঘিনালা , নোয়াখালী , কুমিল্লা , চট্টগ্রামের মিরসরাই , সীতাকুন্ড , বাশঁখালী , আনোয়ারা , সাতকানিয়া , চন্দনাইশ , ফড়িকছড়ি ও হাটহাজারিতে ব্যাপকভাবে বৃষ্টি  জোয়ারের পানিতে বন্যায় হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি । ভয়াবহ বন্যার কারণে গবাদি পশু ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । স্থানীয় বন্যার্থ জনগন উদ্ধারের জন্য প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি । এই পর্যন্ত বন্যায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে । বৃষ্টির আরো পূর্বাভাস আছে । চট্টগ্রামের শহর পানির নিচে ডুবে গেছে । জনজীবনে মারাত্বক ভাবে বিপর্যয় নেমে এসেছে । আবহাওয়া অফিসের খবরে বলা হচ্ছে সারা দেশের আট বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম , সিলেট, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ , রাজশাহী , রংপুর জেলার ওপর দিয়ে প্রচন্ড ঝড় ও ঘুর্ণিঝড় বয়ে যেতে পারে । উজানের পানি আসা অব্যাহত আছে ফলে বন্যার পানি কমার কোনো লক্ষণ এই মূহুর্তে দেখা যাচ্ছে না । বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে উজানের পানি অবিরাম গতিতে ঢুকে পড়ছে ।
বিরতিহীন বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম জেলায় নিম্নাঞ্চল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত। কক্সবাজার জেলার বদরখালি, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর রামু থানাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার  নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, বোয়ালখালী, ফটিকছড়ি সহ পুরো চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা সমূহের প্রায় ইউনিয়ন পানিতে ডুবে গেছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীতে বিগত চব্বিশ ঘন্টার থেমে থেমে বৃষ্টির পানি ও জোয়ারের পানিতে সেলিমপুর, উত্তর কাট্টলি, বড়পোল, মিস্ত্রি পাড়া, নয়াবাজার, বাকলিয়া, সৈয়দ শাহ রোড, চকবাজার এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুইদিনের অবিরাম বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। সেলিমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট, সিটি গেইট এলাকায়  স্থানীয় নালা ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ও বাসা বাড়িতে কোমর পানি হয়ে যায়। ফলে ওই এলাকার শত শত বাড়ি ভিটায় পানি উঠে জনজীবনে মারাত্বক দূর্ভোগ লেগে আছে।
স্থানীয় কালিরহাট রাস্তাটি সীতাকুন্ড উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের দশ নং ওয়ার্ডের মাঝামাঝি হ্ওয়ার কারণে রাস্তা, নালা ও খালের সংস্কার করছে না কোনো পক্ষই। দুই থানার বিরুদ্ধে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ বছরের পর বছর বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কষ্ট পেয়ে আসছে। স্থানীয় জনগন ইউপি চেয়ারম্যান সিটি কর্পোরেশনের কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষন করলেও সমস্যা সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এইসব এলাকায় বাড়ি ঘরে পানি উঠেছে। গবাদিপশু জমির চারা সবকিছু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষক বৃষ্টির পানির জন্য কান্না করেছিল। আল্লাহ বৃষ্টি দিয়েছেন, প্রচুর বৃষ্টির পানি আর জোয়ারের পানিতে বীজ আর জমি একাকার হয়ে গেছে। কৃষকের মাথায় হাত। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অলিগলির দোকানে পানি। বাড়িঘর ডুবে গেছে, চুলা জ¦লছেনা। এদিকে শহরের চেয়ে গ্রামের হাট বাজারের সমস্ত নিত্য পণ্যের মূল্য ৩-৪ গুণ বেড়ে গেছে। জমির তরিতরকারি শাকসবজি সবই পানির নিচে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামে শহর থেকে গা গ্রাম পর্যন্ত চাল ডালসহ সব ভোগ্য পণ্যের দাম কয়েক গুন বেড়ে গেছে। নিম্নও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্টের সীমা নেই। কাজ করতে না পারলেই ইনকাম নেই। পরিবার পরিজনের জন্য আহার জোটে না। খুব কষ্টের মধ্যে এই অন্চলের সাধারণ মানুষ দিন যাপন করছে।
অনেক পুকুর জলাশয় ডুবে মাছ পানিতে তলিয়ে গেছে।  স্থানীয় কৃষক দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের দিন যাচ্ছে খুবই কঠিনভাবে। চাল ডাল মরিচ মসলা পিয়াজ রসুন সব ধরনের মুদি দোকান আইটেমের মূল্য চড়া। খেয়ে না খেয়ে হাজার হাজার পরিবার এখন রাত কাটাচ্ছে। পরিবারের শিশুদের অন্ন জোগাতে দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষরা চরমভাবে অভাব অনটন পার করছে। এই সুযোগে স্থানীয় সুধী মহাজন স্বর্ণালংকার বন্ধক নিয়ে চড়ামূল্যে সুদ লাগাচ্ছে। এই অঞ্চলের পঁচানব্বই ভাগ মানুষ এখন চরমভাবে খাদ্যাভাব ও অর্থ সংকটে আছে। ছাত্র আন্দোলনের কারণে দেশব্যাপি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।
পাহাড়ি পানি জোয়ারের পানিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বেশ কিছু এলাকার মানুষ এখন পানিবন্দী। মানুষ ঘর হতে বের হতে পারছে না। কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগাড় করতে পারছে না। এ অঞ্চলের মানুষ এখন চরমভাবে প্রাকৃতিক ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বন্যার শিকার। এই মুহূর্তে সরকারি বেসরকারি সংস্থাকে ভুক্তভোগী জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করে  প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অসহায় পানিবন্দী মানুষের পাশে এগিয়ে আসতে হবে। ত্রাণ কার্যক্রম অবশ্যই স্বচ্ছতার মাধ্যমে করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না রেখে প্রকৃত অভাবী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ঠিকানায় পৌঁছাতে হবে।
স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় অতি দ্রুততার সাথে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হোক। সরকারের পাশাপাশি নিজ এলাকায় স্থানীয় বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। মানব সেবায় এগিয়ে এসে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার। মহান সৃষ্টিকর্তা ধনী গরীবের মধ্যে একটি তফাৎ রাখেন। ধনীরা প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক গরিব মানুষ দিনে এনে দিনে খায়। উপার্জন করে খুব কষ্ট আর পরিশ্রম করে। তারা পরিশ্রমে বিশ্বাসী।
কিš‘ যখন পরিশ্রম বন্ধ হয়ে যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর বন্যার খরায় তখন তাদের দিন কাটে অনাহার ও অর্ধাহারে। কিন্তু‘ ধনীদের অর্থের পাহাড় নানাভাবে তাদের প্রচুর অর্থ আছে। সেই জমাকৃত অর্থ থেকে এগিয়ে আসুন। সকলকেই নির্দিষ্ট একটি সময় অতিবাহিত করে পার করে চলে যেতে হবে। তাই অর্থের প্রাচুর্য সঞ্চয় না করে অসহায় মানুষের পাশে থাকি। সেখানে আপনার আমার জন্য পরকালের আশ্রয় হবে। মুক্তির পাথেয় হবে।
এইসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে। উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মেরামত করতে হবে। বাংলাদেশের সীমানা ভারতীয় সীমানায় পানির বাধঁ নির্মণ করতে হবে । প্রতিবেশি দেশের পানি প্রতিরোধে বাংলাদেশের সীমানায় নদ নদীর টেকসই বাধঁ নির্মাণ করতে হবে । শহর ও গ্রামের বৃষ্টির পানি যাতায়াত বিজ্ঞানভিত্তিক পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সমস্ত উন্নয়ন কর্মকান্ড সঠিকভাবে টেকসই মাত্রায় বুঝে নিতে হবে। কাজের মান তদারকী বিল পাশ ইত্যাদির মধ্যে শতভাগ স্বচছতা থাকা চাই। আসুন ধনী গরিবের পর্দা তুলে মানব সেবায় অসহায় বন্যার্থ জনগণের পাশে দাঁড়াই।

 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ