হাটহাজারী- ফটিকছড়িতে বন্যা, পানিবন্দি ১০ লক্ষ মানুষ

  প্রিন্ট
(সর্বশেষ আপডেট: জুন ১৩, ২০১৮)

তিন দিনের টানা অব্যাহত প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রামের হাটহাজারী- রাউজান -ফটিকছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার দেখা দিয়েছে। তিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। চট্টগ্রাম- খাগড়াছড়ি মহাসড়ক সহ উপজেলার প্রায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় গত দুই দিন ধরে উপজেলায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছেন। সে সাথে পানির স্রোতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে কাঁচা- পাকা সব সড়ক। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে ফটিকছড়ির বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের সুয়াবিল অংশ হাঁটু সমান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি মহসড়কের হাটহাজারী, নাজিরহাট হতে বিবিরহাট সড়কে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এসব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এক এলাকার সাথে অন্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্হা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে নৌকা। টানা অভিরাম বর্ষণ ও হালদা নদী, ধুরং, সর্তা, তেলপারাই,লেলাং সহ উপজেলা গুলির বিভিন্ন খালের পূর্বের ভাঙ্গা বেঁড়ি বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকার কারণে এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও এবছর নতুন ভাবে এসব নদী ও খালের বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভা, নাজিরহাট পৌরসভা, বাগান বাজার ও দাঁতমারা (আংশিক)নারায়ন হাট,ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি, সুয়াবিল, পাইন্দং, লেলাং, রোসাংগীরি, নানুপুর, বক্তপুর, ধর্মপুর, জাফতনগর, সমিতিরহাট,আবদুল্লাপুরের প্রায় এলাকা ও রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ডুবে রয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক মাটি ও বেড়ার ঘর। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন গাছের ঢালে, উঁচু ভবনে। ভেসে গেছে হাজারো পুকুর, মাছের ঘের গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি। ডুবে রয়েছে ফটিকছড়ি প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র বিবিবহাট বাজার সহ ছোট বড় অর্ধশত হাট বাজার। এসব বাজারে ব্যবসায়ীরা ঈদের জন্য আনা হাজার কোটি টাকার মালমাল এখন পানিতে নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত মানুষকে উদ্ধার করাও সম্ভব হচ্ছেনা। এদিকে ফটিকছড়ি পৌর এলাকা বন্যার পানিত নিমজ্জিত হয়ে সকল মানুষ পানি বন্দি রয়েছে। পানির স্রোতে বহু ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিবিরহাট- উপজেলা সড়কের ববিভিন্ন স্থানে বিলীন হয়ে যায়। পৌর মমেয়র আলহাজ্ব ইসমাইল হোসেন সহ সকল কাউন্সিলর বন্যা কবলিত স্ব স্ব এলাকা পরিদর্শন করেন। অপরদিকে বন্যার পানির কারনে অনেক মসজিদে ইতেকাফ নেয়া লোকজন চরম দূর্ভোগে পরেছে। আবার অনেক মসজিদে পানি থাকায় নামাজ পড়া সম্ভব হয়নি। এদিকে রাউজান উপজেলার সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার বাবুল, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপক কুমার রায় গতকাল মঙ্গলবার বন্যা কবলিত কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি গত সোমবার রাতে উপজেলার কাঞ্চননগর ছমুরহাটের পাশে বন্যার পানিতে গাছে আশ্রয় নেয়া ৮ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছেন।

০ Comments

Leave a Comment

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password